ভালবাসার মানুষের সঙ্গে প্রায়ই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ছেন? সামান্য সমস্যাও বড় আকার ধারণ করছে? বাড়ির বিভিন্ন জিনিস সঠিক স্থানে না রাখার কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাস্তুশাস্ত্রে রয়েছে এই সমস্যার সমাধান। ঘরবাড়ির সর্বত্র সব সময় পরিষ্কার করে রাখা উচিত। বাস্তুর ক্ষেত্রে এর যেমন গুরুত্ব রয়েছে, তেমন স্বাস্থ্যের সুরক্ষায়ও এটি প্রয়োজনীয়। এ ছাড়াও, রাশি অনুযায়ী বাড়ির একটি নির্দিষ্ট দিক পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিন। সেই সঙ্গে জেনে নিন ঘরে জিনিসপত্র রাখার ক্ষেত্রে কোন রাশি কোন নিয়ম মেনে চলবেন—
মেষ: বাড়ির অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি অগ্নি কোণ, অর্থাৎ দক্ষিণ-পূর্ব কোণ বিশেষ ভাবে পরিচ্ছন্ন রাখবেন। শোয়ার ঘরে লাল রঙের কোনও জিনিস রাখলে দাম্পত্যকলহের সৃষ্টি হতে পারে। পূর্ব দিকের দেওয়ালে একটি তামার তৈরি সূর্য রাখুন, এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়বে।
বৃষ: বাড়ির নৈঋত কোণ, অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিম দিকটি যেন অগোছালো না হয়ে থাকে। ঘরে হালকা সবুজ কিংবা সর্ষের তেলের মতো রং করালে তা দাম্পত্য সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাড়ির দক্ষিণ দিকে একটি পরিষ্কার জলপূর্ণ রুপোর পাত্র রাখলে জাতক/জাতিকার জেদি মনোভাব দূর হবে।
আরও পড়ুন:
মিথুন: বাড়ির বায়ু কোণ, অর্থাৎ উত্তর-পশ্চিম দিক সুন্দর ভাবে গুছিয়ে রাখতে হবে। ঈশান কোণে এক জোড়া স্ফটিকের পাখি রাখলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেকার ভুল বোঝাবুঝি দূর হবে। শোয়ার ঘরে অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিন যন্ত্র রাখবেন না, এতে মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে।
কর্কট: বাড়ির ঈশান কোণ, অর্থাৎ উত্তর-পূর্ব দিক যেন কোনও ভাবেই ময়লা করে না রাখা থাকে। নৈঋত কোণে একটি পারিবারিক ছবি রাখলে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হবে। শোয়ার ঘরে সাদা কিংবা হালকা রং শান্ত পরিবেশ তৈরি করবে।
আরও পড়ুন:
সিংহ: অগ্নি কোণটিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিন। দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে তাজা জুঁই ফুল রাখলে সঙ্গীর অহংবোধ দূর হবে। শোয়ার ঘরে আয়না রাখলে অকারণে অশান্তি হতে পারে।
কন্যা: বাড়ির অন্যত্র তো নয়ই, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকটিতে কোনও মতেই আবর্জনা জমতে দেবেন না। এ ছাড়াও কোনও রকম মানসিক বাধা থাকলে ঈশান কোণটি সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখুন, উপকার পাবেন। খুব সামান্য আসবাব দিয়ে ঘর সাজালে সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকবে।
আরও পড়ুন:
তুলা: বাড়ির নৈঋত কোণটি পরিচ্ছন্ন রাখুন। শোয়ার ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে সাদা স্ফটিক রাখলে মানসিক অস্থিরতা কমবে। হালকা রং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্থিতিশীল এবং সুন্দর করে তুলবে।
বৃশ্চিক: উত্তর-পূর্ব দিকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ খেয়াল রাখুন। কৃত্রিম ঝরনার মতো কোনও জলধারা ঘরে রাখলে কঠিন সময়ে আবেগে ভারসাম্য বজায় থাকবে। দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে মেরুনরঙা জিনিস রাখলে আবেগে নিয়ন্ত্রণ আসবে।
ধনু: বাড়ির অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব দিকটি যেন বিশেষ ভাবে ঝকঝকে-তকতকে থাকে। ঈশান কোণে প্রার্থনার ঘর রাখুন। দাম্পত্য সম্পর্কে উন্নতি দেখা দেবে। বসার ঘরে গাঢ় রং ভালবাসাকে প্রতিফলিত করবে।
মকর: বাড়ির অন্যত্র তো বটেই, দক্ষিণ-পশ্চিম দিক যেন কোনও অবস্থাতেই অপরিচ্ছন্ন না থাকে। খাটের নীচে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমিয়ে রাখবেন না, এর ফলে সম্পর্কে জড়তা চলে আসার আশঙ্কা রয়েছে। ঘরে নীল বা গাঢ় সবুজ রং করালে সম্পর্কে স্থিরতা আসবে।
কুম্ভ: বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিক বিশেষ ভাবে পরিচ্ছন্ন রাখবেন। ওই দিকেই কৃত্রিম ঝরনার মতো কোনও জলধারা রাখলে সম্পর্ক মসৃণ হবে। উত্তর দিকে উইন্ডচাইম রাখলে সম্পর্কে স্থবিরতা কমবে।
মীন: অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি বাড়ির ঈশান কোণে পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিন। নির্দিষ্ট ওই দিকটিতে এক জোড়া স্ফটিকের মাছ রাখলে তা মন ভাল রাখবে। বাড়িতে ল্যাভেন্ডার বা হালকা নীল রং করালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেকার অশান্তি কমবে।