সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম চাবাহার বন্দরের ভবিষ্যতের উপর ছায়া ফেলছে— বিদেশ মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি লোকসভা এবং রাজ্যসভায় পেশ হওয়া রিপোর্টে এমন উল্লেখই করেছে। বলা হয়েছে, ভারত সরকার যে ভাবে এই ঘটনাক্রমের ফলশ্রুতি ঠেকাতে সমস্ত দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে তাকে স্বাগত।
বাজেটের ব্যয়বরাদ্দ সংক্রান্ত বিদেশ মন্ত্রকের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসের শশী তারুর। সেই কমিটির দ্বাদশ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘কমিটি লক্ষ্য করেছে চাবাহার বন্দরের উন্নয়নের জন্য ১০০কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল বাজেটে(২০২৫-২৬)। সেটা বাড়িয়ে ৪০০কোটি টাকা করা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে সেই টাকা পুরো খরচ করা হয়ে গিয়েছে’। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭-এর জন্য কোনও টাকা ধার্য করা হয়নি চাবাহার খাতে। ভারতের যে টাকা (১২০ মিলিয়ন ডলার) দেওয়ার কথা ছিল তা দেওয়া হয়ে গিয়েছে। কমিটির বক্তব্য, গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর আমেরিকা ইরান সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞায় ছাড় তুলে নেওয়ার পর ভারতও পিছিয়ে এসেছে। এরপর পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ বিষয়টিতে আরও ছায়াপাত করেছে।
কমিটি তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে জানিয়েছে, ‘আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি, জাপান এবং রাশিয়া-সহ ৩৬টি রাষ্ট্রের থাকলেও ভারতের কোনও একক এবং সর্বাত্মক বিদেশনীতির নথি অথবা জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের কোনও নথি নেই। এমন একটি নথি তৈরির জন্য কেন্দ্রকে পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। যার নাগাল সাধারণ মানুষের কাছেও থাকবে।’
সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশ, নেপাল, কানাডা, তুরস্ক, আফগানিস্তানের মতো রাষ্ট্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কার মধ্যে থাকতে দেখা গিয়েছে ভারতীয় দূতাবাসগুলিকে। বিভিন্ন দেশে ভারতের ২১৯টি দূতাবাসের নিরাপত্তার জন্য পৃথক বাজেট প্রস্তুত করতে মন্ত্রককে অনুরোধ করেছে কমিটি।
আজ বিদেশ মন্ত্রকের সংসদীয় কমিটির বৈঠক বসে। আলোচনা হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং নিরাপদে ফিরে আসার বিষয়টি নিয়ে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)