কয়েক মাস আগেই ভারতে এসেছিলেন খলিলুর রহমান। তখন তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। আজ সন্ধ্যায় দিল্লিতে তিনি পা রাখলেন তারেক রহমানের সরকারের বিদেশমন্ত্রী হিসেবে। বাংলাদেশের পালাবদলের পর নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে খলিলুরের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আগামিকাল দুপুরে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ছাড়াও ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ও পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে বৈঠক করবেন খলিলুর। ইউনুস জমানায় ভারত-বাংলাদেশে বাণিজ্যিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। তবে তারেকের অধীনে বাংলাদেশ ফের ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। বর্তমানে ভারত দিয়ে তৃতীয় দেশে পণ্য রফতানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। এ দিকে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্য ভারতে রফতানি করে পারছে না বাংলাদেশ। এই সব নিয়ে কিছুটা চাপে রয়েছে ঢাকা। পাশাপাশি, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে তেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে ভারতের কাছ থেকে সাহায্য চায় বাংলাদেশ। এ ছাড়া বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের সব ধরনের ভিসা চালুর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করার কথা খলিলুরের।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক একটি পোস্ট করে জানিয়েছে, ভারতে বিভিন্ন বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের উপরে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলিতে যাতে আরও ফলপ্রসূ এবং টেঁকসই করে তোলা যায় তার ভিত্তি রচনার চেষ্টা হবে খলিলুরের সফরে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরও থাকছেন তাঁর সঙ্গে।
সূত্রের খবর, সন্ধ্যায় নয়াদিল্লি পৌঁছনোর পর খলিলুর নৈশভোজে মিলিত হয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে। উভয়ের মধ্যে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। প্রসঙ্গত, খলিলুরের ভারত সফরের ঠিক আগে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি এবং তিস্তা মহাপ্রকল্প নিয়ে দু’দেশের সদস্য নিয়ে তৈরি হওয়া টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের জলসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি। পাশাপাশি, বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল বলেছিলেন, “ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে জলসম্পদ বিষয়ক কাঠামোগত মেকানিজ়ম ইতিমধ্যেই রয়েছে এবং সেটি কাজ করছে।” ফলে আগিমাকালের দ্বিপাক্ষিক দৌত্যে তেলের পাশাপাশি, জলও সমান গুরুত্ব পেতে পারে বলেই খবর।
রাতে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এক্সে লিখেছেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের পারস্পররিক সম্পর্কের ভিত্তিতে দু’দেশের ঐতিহাসিক ও উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এ সফর ভারত-বাংলাদেশ অংশীদারিকে শক্তিশালী করবে’।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)