আমেরিকার সঙ্গে টানাপড়েনের মাঝেই এ বার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে চাইছে কানাডা। আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ভারত সফরে আসতে পারেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে। এই সময়ে ভারতের সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি সারতে পারেন তিনি। তালিকায় রয়েছে ইউরেনিয়াম, কৃত্রিম মেধা (এআই) প্রযুক্তি-সহ বেশ কিছু চুক্তি।
রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কানাডায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ পট্টনায়ক জানান, সম্ভবত মার্চে ভারত সফরে আসবেন কার্নে। তখন এআই, ইউরেনিয়াম, অন্য খনিজ এবং শক্তি সংক্রান্ত কিছু চুক্তি সারবেন তিনি। বর্তমানে কানাডা সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য করে আমেরিকার সঙ্গে। কিন্তু সম্প্রতি কানাডার উপরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিনের সঙ্গে কানাডার সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি। ট্রাম্প মনে করছেন, কানাডার বাজারকে ব্যবহার করে ঘুরপথে শুল্ক এড়িয়ে আমেরিকায় পণ্য পাঠাতে পারে চিন। ফলে চিনের সঙ্গে কানাডা কোনও চুক্তি করলে তাদের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।
সম্প্রতি সুইজ়ারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বক্তৃতার সময়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলেন কার্নে। তার সেই বক্তৃতার পরে অনেকে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালিও দেন। এর পরেই আচমকা গাজ়ায় শান্তি ফেরানোর জন্য ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগদানের জন্য কানাডাকে পাঠানো আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নেয় আমেরিকা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, এ অবস্থায় বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য আর আমেরিকার উপর অতিনির্ভরতা রাখতে চাইছে না কানাডা। সেই কারণেই অন্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে উদ্যোগী হয়েছে কার্নের প্রশাসন।
জাস্টিন ট্রুডোর জমানায় কানাডার সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে বেশ টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কার্নে কানাডার রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পরে দিল্লির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে। দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও থমকে থাকা আলোচনা পুনরায় চালু করতে উদ্যোগী হয় ভারত এবং কানাডা। গত নভেম্বরেই এ বিষয়ে সম্মত হয় দু’দেশ। কানাডায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জানান, সম্ভবত মার্চ মাস থেকেই ভারত এবং কানাডার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা ফের শুরু হয়ে যাবে। এই সময়েই দু’দেশের মধ্যে পরমাণু শক্তি, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পরিবেশ, এআই-সহ বেশ কিছু বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলেও জানান পট্টনায়েক। এর মধ্যে রয়েছে ১০ বছরের জন্য ২৮০ কোটি কানাডা ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় ১৮,৭৪৫ কোটি টাকা) ইউরেনিয়াম ভারতে সরবরাহের একটি চুক্তিও। বস্তুত, পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের জন্য অন্যতম কাঁচামাল হল ইউরেনিয়াম।
আরও পড়ুন:
যদিও কার্নের দফতর এই সম্ভাব্য সফরের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিসজ় রবিবার বলেছেন, মার্চে কার্নে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন। সে দেশের পার্লামেন্টেও বক্তৃতা করবেন তিনি। যদিও সফরের দিনক্ষণ এখনও ঘোষিত নয়। আবার চলতি সপ্তাহে ভারত সফরে আসার কথা কানাডার বিদ্যুৎমন্ত্রী টিম হজসনের। তিনি দাবি করেন, কার্নের ভারত সফরের কোনও দিনক্ষণ এখনও স্থির হয়নি। হজসনের কথায়, “এ বছরের কোনও এক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর (কার্নে) ভারতে যাওয়ার কথা আছে। তবে তিনি কবে যাবেন, তা পরে স্থির হবে।” ভারতের সঙ্গে কানাডা ইউরেনিয়াম বিষয়ক কোনও চুক্তি করছে কি না, সে বিষয়েও কোনও মন্তব্য করেননি হজসন। তবে তাঁর দাবি, ভারত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সুরক্ষাবিধি মেনে চললে দিল্লিকে ইউরেনিয়াম বিক্রিতে কানাডার কোনও আপত্তি নেই।