E-Paper

কাশ্মীরের সন্ত্রাস দমন বিশেষজ্ঞ মুকেশ মণিপুরে ডিজি

কাশ্মীরে সন্ত্রাস যখন চরমে, সেই সময় থেকে জম্মু, রেয়াসি, পুলওয়ামা, পুঞ্চের মতো জেলায় কখনও এসপি, কখনও এসএসপি-র দায়িত্ব সামলেছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও আইআইটি দিল্লির প্রাক্তনী মুকেশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ০৯:১০
মুকেশ সিংহ।

মুকেশ সিংহ। — ফাইল চিত্র।

সদ্য জানুয়ারিতে লাদাখের ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস মুকেশ সিংহকে তিন বছরের ডেপুটেশনে মণিপুরের ডিজিপি করে পাঠাচ্ছে কেন্দ্র। ২০২৩ সালের ৩ মে মণিপুরে সংঘাত শুরু হওয়ার সময়ে ডিজিপি ছিলেন কুকি-জ়ো সম্প্রদায়ভুক্ত পি ডনজেল। তড়িঘড়ি তাঁকে সরানো হয়। কিন্তু সেই সময়ে পুলিশের ভার রাজ্যের কারও হাতে না দিয়ে, ত্রিপুরার ডিজিপি রাজীব সিংহকে মণিপুরের ডিজিপি করা হয়েছিল। রাজীবকে এ বার নয়াদিল্লিতে ক্যাবিনেট সচিবালয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত দফতরের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে সন্ত্রাস দমনে অত্যন্ত দক্ষ অফিসার হিসেবে পরিচিত মুকেশকে।

কাশ্মীরে সন্ত্রাস যখন চরমে, সেই সময় থেকে জম্মু, রেয়াসি, পুলওয়ামা, পুঞ্চের মতো জেলায় কখনও এসপি, কখনও এসএসপি-র দায়িত্ব সামলেছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও আইআইটি দিল্লির প্রাক্তনী মুকেশ। জইশ-ই-মহম্মদ-সহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। পুলওয়ামার এসএসপি থাকার সময়ে জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে জখমও হয়েছিলেন। সন্ত্রাস দমনের কাজেই সেনা, সিআরপি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলতে হত তাঁকে। আইটিবিপি-র এডিজি হয়েছিলেন। আবার এনআইএ-তে কাজ করার সময়ে কাশ্মীরের সন্ত্রাসে আর্থিক মদতের তদন্ত করেছেন মুকেশ।

বর্তমানে মণিপুরের সংঘর্ষের বেশ কিছু ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে রয়েছে। মুকেশকে এমন সময়ে মণিপুরে বদলি করা হচ্ছে, যখন মেইতেই বনাম কুকির সংঘাত ধীরে ধীরে নাগা-কুকি সংঘাতের চেহারা নিচ্ছে। বিশেষ করে কুকিদের হাতে এখনও ৬ জন নাগার বন্দি থাকা ও কুকিদের কথা অনুযায়ী তাদেরও ১৪ জনের নাগাদের হাতে বন্দি থাকার দাবি নিয়ে চলছে চরম উত্তেজনা। ১৯৯২ থেকে ’৯৭ পর্যন্ত রাজ্যে চলা নাগা-কুকি সংঘর্ষে ৬৭৭ জন কুকি ও নাগার মৃত্যুর স্মৃতি যাতে না ফিরে আসে, সেই পরিস্থিতি সামলানোই এখন মুকেশের প্রধান কাজ।

রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, এ বারের সংঘর্ষের পরে পুলিশ বাহিনীতে যে আড়াআড়ি বিভাজন তৈরি হয়েছিল, তা এখনও বহাল। মুকেশের চেয়েও সিনিয়র আইপিএস রাজ্যেই ছিলেন। কিন্তু নিরপেক্ষতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সংঘর্ষ শুরুর তিন বছর পরেও রাজ্যের কোনও আইপিএসকে ডিজিপির ভার দেওয়া গেল না।

এ দিকে কুকি সিএসও ওয়ার্কিং কমিটি অভিযোগ করেছে, গত কাল মংকোট চেপু গ্রামে পরিকল্পিত ভাবে ও বিনা প্ররোচনায় হামলা চালিয়েছে নাগা জঙ্গি গোষ্ঠী এনএসসিএন আইএম-এর ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক। কমিটির বক্তব্য, কুকিদেরও আত্মরক্ষায় গুলি চালাতে হয়। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত গুলির লড়াই চলেছে। তাদের আরও অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিয়োতে কুকি গ্রামবাসীদের জঙ্গি হিসেবে দাগিয়ে দিয়ে ভুয়ো প্রচার চালানো হচ্ছে। অন্য দিকে নাগাদেরও সন্দেহ ক্রমেই বাড়ছে যে, কুকিরা তাদের হাতে আটক নাগাদের ইতিমধ্যেই মেরে ফেলেছে।

মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কন্থৌজাম আটক সকলকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আবেদন জানান। মন্ত্রী বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনী নিখোঁজদের খুঁজে বার করতে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে। অবরোধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কগুলিতে ৬ শতাধিক যানবাহন আটকে রয়েছে। সরকার জাতীয় সড়কগুলি পুনরায় চালু করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংহ পাহাড়ে নাগা ও কুকিদের চলতে থাকা বন্‌ধ ও অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আন্দোলনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে দিনমজুর ও দৈনিক আয়ের মানুষের উপরে।আলোচনার মধ্য দিয়েই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Manipur Kashmir

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy