আঞ্চলিক রাজনীতিতে এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল কংগ্রেস। দক্ষিণী তারকা থলপতি বিজয়ের তামিলাগা ভেট্টি কাজ়গম (টিভিকে)-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এ বারের নির্বাচনে তামিলনাড়ুতে পাঁচটি আসন জিতেছে কংগ্রেস। বুধবার তামিলনাড়ুর কংগ্রেস নেতারা চেন্নাইয়ে টিভিকে-র সদর দফতরে গিয়ে বিজয়ের সঙ্গে দেখা করেন। সরকার গঠনের জন্য টিভিকে-কে পূর্ণ সমর্থনের বার্তা দেন তাঁরা।
কংগ্রেস জানিয়েছে, টিভিকে-র সঙ্গে তাদের এই জোট শুধুমাত্র এই বারের সরকার গঠনের জন্য নয়। ভবিষ্যতে পুরসভা-পঞ্চায়েত ভোট, লোকসভা এবং রাজ্যসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তাদের এই জোট থাকবে। তামিলনাড়ুর প্রদেশ কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত নেতা গিরীশ চোডণকর বুধবার এক বিবৃতিতে জানান, তাঁরা টিভিকে-কে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন করবেন। সেই শর্ত হল, কোনও সাম্প্রদায়িক শক্তি, যারা দেশের সংবিধানে বিশ্বাসী নয়— এমন কোনও দলকে জোটে নিতে পারবে না টিভিকে। তিনি আরও জানান, টিভিকে প্রধান বিজয়ই তাঁদের কাছে সমর্থন চেয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তামিলনাড়ুর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি এবং কংগ্রেস পরিষদীয় দল একসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তামিলনাড়ুতে একক দল হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে বিজয়ের টিভিকে। জিতেছে ১০৭টি আসন। তবে সরকার গঠনের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। সরকার গড়তে হলে ১১৮ আসন চাই। এ অবস্থায় কংগ্রেসের বিধায়কদের সমর্থনও বিজয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। কংগ্রেসের সমর্থন পেয়ে বিজয়ের পক্ষে থাকছেন ১১২ বিধায়ক। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য চাই আরও ৬ বিধায়কের সমর্থন। এ অবস্থায় জোটসঙ্গীর খোঁজে সিপিআই, সিপিএম এবং ভিসিকে-র মতো দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বিজয়। এই দলগুলির সমর্থন পেয়ে গেলে টিভিকে সরকার গঠনের জন্য মোট ১১৯ বিধায়কের সমর্থন পেয়ে যাবে।
বিজয়ের সঙ্গে কংগ্রেস হাত মেলানোয় ইতিমধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ডিএমকে শিবির। কংগ্রেসকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন ডিএমকে-র মুখপাত্র সারাভানন আন্নাদুরাই। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের কোনও এক অতিচালাক ব্যক্তি গোটা পরিস্থিতিটা গুলিয়ে দিয়েছেন।” কংগ্রেসের সমর্থনও যে টিভিকে-কে সরকার গঠনের মতো শক্তি দেবে না, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কংগ্রেস নিজেদের ‘হাসির পাত্র’ বানিয়ে ফেলেছে। ডিএমকে নেতা টিকেএস ইলাঙ্গোভানও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের উপর। তিনি বলেন, “কংগ্রেস প্রতিটি রাজ্যেই একই কাণ্ড ঘটাচ্ছে এবং শেষমেশ সব জায়গাতেই তারা হেরে যাচ্ছে। দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গে তারা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। মহারাষ্ট্রেও তাদের জয়ের কোনও সম্ভাবনাই নেই। তারা যা করছে, তাতে শেষপর্যন্ত তাদের দলটাই হারিয়ে যাবে।”
আরও পড়ুন:
তবে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’য় কংগ্রেস এবং ডিএমকে এখনও একই সঙ্গে থাকবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অতীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, আঞ্চলিক স্তরে জোট নেই তবে কেন্দ্রীয় ভাবে দলগুলি বিরোধী জোটের অংশ। যেমন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই এ বারের নির্বাচনে কংগ্রেস, তৃণমূল বা সিপিএম একে অন্যের বিরুদ্ধে ভোটে লড়েছে, তবে কেন্দ্রীয় ভাবে তারা বিরোধী জোটের শরিক।