ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে একই মঞ্চে আশা-নিরাশার দোলাচল। স্থান, ওয়াশিংটন ডিসি। মঞ্চ, ‘ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরাম লিডারশিপ সামিট’। পাত্র দু’জন, ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সের্জিয়ো গোর ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য রো খন্না। খন্নার মতে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক নীতির জন্য দুই দেশের সম্পর্ক তিরিশ বছরের মধ্যে এখন সবচেয়ে তলানিতে। আর তার বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়ে গোর বলেছেন, যত কলরোলই উঠুক না কেন ভারত এবং আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমশ বিকশিত হচ্ছে এবং হবেও। তিনি জানান, ভারতেরই এক মন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক ৫০ বছর পরেও মজবুত থাকবে।
কূটনৈতিক শিবিরের মতে, এই পরস্পরবিরোধী ভাষ্য আসলে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কের বিরোধাভাসকেই তুলে ধরছে। ট্রাম্প কখনও সপ্রেমে সম্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে, তারপরই শুল্কের বোঝা ও আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত করছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও গত এক বছর চাপে রেখেছে নয়াদিল্লিকে। তবে এই মুহুর্তে দু’দেশের মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার মুখে এই ধরনের মন্তব্যগুলি ঘরোয়া রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রো খন্নার কথায়, “আমি কোনও রাখঢাক করে কথা বলি না। যেটা যা, সেটাই বলি। গত তিরিশ বছরের সর্বনিম্ন বিন্দুতে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক।” তাঁর কথায়, “ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধের নীতি অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক। ভারতের গ্যাসের দামের উপরে তার প্রভাবও ধ্বংসাত্মক। আমাকে বিশ্বাস না হলে আপনারা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন।”
অন্য দিকে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূতের কথায়, “গণতন্ত্রের প্রশ্নে আমাদের নীতি এক। শক্তিশালী বিরোধী দলে আমরা উভয়েই বিশ্বাসী। সব দেশেরএমনটা নয়।”
পাশাপাশি তিনি জানান, দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি রূপায়ণ হবে। কারণ এতে দু’পক্ষেরই লাভ। গোরের কথায়, “আমরা চুক্তি সই করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি। কিছু বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু সেটা চুক্তির ১শতাংশ মাত্র।”
ট্রাম্পের সঙ্গে মোদীর ঘনিষ্ঠতার কথা বোঝাতে গিয়ে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন সের্জিয়ো গোর। তাঁর ভাষ্য, এক বার একটা অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি ছিলেন। ট্রাম্প হঠাৎ বললেন, মোদীকে ফোন করা যাক! গোর মনে করিয়ে দিলেন, সেটা কিন্তু ভারতীয় সময় সকাল ৬টা। ট্রাম্প তৎক্ষণাৎ উত্তর দেন, ‘‘উনি (মোদী) আমারই মতো। ঘুমোন না!’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)