Advertisement
E-Paper

বিমানে সোনুর গান, ৫ সেবিকা সাসপেন্ড

মাঝ আকাশে রীতিমতো জমে উঠেছে গানের আসর। গায়ক খোদ সোনু নিগম। সাদা টি-শার্ট আর জিন্স পরা গায়কের হাতে মাইকের বদলে ধরা ফোনের মতো দেখতে একটি যন্ত্র, পরিভাষায় যাকে বলে ইন ফ্লাইট পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:২১

মাঝ আকাশে রীতিমতো জমে উঠেছে গানের আসর। গায়ক খোদ সোনু নিগম। সাদা টি-শার্ট আর জিন্স পরা গায়কের হাতে মাইকের বদলে ধরা ফোনের মতো দেখতে একটি যন্ত্র, পরিভাষায় যাকে বলে ইন ফ্লাইট পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটিকে কেন্দ্র করেই শুক্রবার দিনভর চলল বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, যাত্রী নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট কোনও পরিষেবা কী ভাবে গান গাওয়ার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হল এক যাত্রীকে। শেষ পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হয়েছে ৫ বিমান সেবিকাকে। গায়ক সোনু অবশ্য শাস্তির বিরোধিতা করে বলেছেন, ‘‘এটাই চরম অসহিষ্ণুতা!’’

ঠিক এক মাস আগে জানুয়ারির ৪ তারিখের ঘটনা। জোধপুর থেকে মুম্বইগামী জেট এয়ারওয়েজের বিমানটির যাত্রী ছিলেন সোনুও। হাতের নাগাদে পছন্দের গায়ককে পেয়ে গান শোনানোর আবদার করে বসেন সহযাত্রীরা। ভারতের বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিসিএ) সূত্রে খবর, উপস্থিত বিমান সেবিকারাও রাজি হয়ে যান সেই প্রস্তাবে। শ্রোতাদের উৎসাহে তখন ‘বীর জারা’ থেকে ‘রিফউজি’— একের পর এক সিনেমার বিখ্যাত গানের কলি সোনুর গলায়। ভিডিওতেও দেখা গিয়েছে, বিমানের ইন ফ্লাইট পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম ব্যাবহার করে গান গাইছেন সোনু। বিমানের ভিতর গুরুত্বপূর্ণ খবরাখবর চালাচালি করার জন্য ব্যবহৃত সেই যন্ত্রই তখন সোনুর গলা পৌঁছে দিচ্ছে বাকি যাত্রীদের কাছে। প্রবল উৎসাহে গলা মেলাচ্ছেন তাঁরাও। এক পর্বে এসে সোনু বলে ওঠেন, ‘‘আরে বাহ্, আপ ভি গাতে হ্যায়!’’ (আরে বাঃ, আপনারাও গান গাইতে পারেন দেখছি)।

ডিজিসিএ-র অভিযোগ, এই হাল্কা মুহূর্তের ফাঁক গলেই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গিয়েছে যাত্রী নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। কী ভাবে? বিমানের ভিতরের বিভিন্ন খবরাখবর ঘোষণার জন্য ব্যবহার হয় ইন ফ্লাইট পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম। বিমান কর্মীরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তাও চালান এই পরিষেবার মাধ্যমে। বিমান ওড়া বা নামার আগে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হয় এর সাহায্যে। কোনও বিপদ ঘটলে যাত্রী বা বিমান কর্মীদের পাইলট সতর্ক করে এই একই ভাবেই। ডিজিসিএ-র যুক্তি, এত জন বিমান যাত্রীর প্রাণের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে যেখানে, সেখানে কী ভাবে ওই পাঁচ কর্মী এক যাত্রীর অনুরোধ রক্ষা করলেন? সংস্থাটির ক্ষোভ, সোনু নিগমকে গাওয়ার অনুমতি দিয়ে কার্যত যাত্রী সুরক্ষাকেই কাঠগড়ায় তুলেছে জে়টের কর্মীরা।

Advertisement

জেট এয়ারওয়েজ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার সময় উপস্থিত সব কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। বিমান পরিচালন-পদ্ধতি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তাঁদের। জে়ট এয়ারওয়েজের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন বিমান মন্ত্রী মহেশ শর্মাও।

তবে যাবতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে যিনি, সেই সোনু নিগম কিন্তু পাল্টা আক্রমণ করেছেন বিমান সংস্থাটিকেই। তাঁর বক্তব্য, সেবিকাদের সাসপেন্ড করা ‘সম্পূর্ণ যুক্তিহীন।’ কারণ সেই সময় বিমানে কোনও ঘোষণা চলছিল না। যাত্রীদের সিট বেল্টও খোলা অবস্থায় ছিল। ক্ষুদ্ধ গায়ক আরও বলেন, ‘‘আমি বিমানের ভিতর ফ্যাশন শো হতে দেখেছি। শুনেছি, বিমানে গানের অনুষ্ঠানও হয়। অন্য দেশের যাত্রীদের মন হাল্কা করার জন্য চালক এবং বিমান কর্মীরা হাসিঠাট্টা করেন, সেটাও দেখেছি।’’

সোনুর পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের একাংশ। অভিনেতা রীতেশ দেশমুখ টুইট করেছেন, ‘‘জীবন এত কঠিন হতে পারে না। থোড়া চিল করো ইয়ার!’’ রীতেশের সঙ্গে একমত ডিনো মোরিয়াও। তাঁর টুইট, ‘‘আমাদের সবার বোধ হয় আরও একটু বেশি হাসা দরকার। সোনু নিগম আপনি কবে আবার বিমানে উঠছেন।’’

তবে যাবতীয় রসিকতার আড়ালে দায়িত্বজ্ঞানের অভাব কিন্তু কাঁটা হয়েই থাকছে সোনুর বিরুদ্ধে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy