আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম হরমুজ় প্রণালী হয়ে জাহাজ ঢুকল ভারতে। পণ্যবাহী ওই জাহাজে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি অশোধিত তেল রয়েছে। গত ৮ মার্চ লিবিয়ার পতাকাবাহী এই জাহাজটি হরমুজ় প্রণালীর উপরে ছিল। তার পর ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর হয়ে বুধবার দুপুরে মুম্বই বন্দরে পৌঁছেছে সেটি।
লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটির নাম ‘শেনলং সুয়েজ়ম্যাক্স’। সামুদ্রিক বাণিজ্যের উপর নজরদারি চালানো দুই সংস্থা ‘লয়েডস লিস্ট ইনটেলিজেন্স’ এবং ‘ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ মার্চ সৌদি আরবের রাস তনুরা বন্দর থেকে বেরিয়েছিল পণ্যবাহী জাহাজটি। সৌদির তেলবোঝাই জাহাজটি গত ৮ মার্চ হরমুজ় প্রণালীতে ছিল। তার পরেই জাহাজটির সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মনে করা হচ্ছে, সম্ভাব্য হামলা এড়াতেই নিজের অবস্থান লুকিয়ে ফেলেছিল জাহাজটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ৯ মার্চ জাহাজটির অবস্থান পুনরায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর ১টা নাগাদ মুম্বই বন্দরে পৌঁছোয় জাহাজটি। সন্ধ্যা ৬টায় সেটি বন্দরে নোঙর করে। মুম্বই বন্দরের আধিকারিক প্রবীণ সিংহ জানিয়েছেন, জাহাজটি জওহর দ্বীপে নোঙর করে। তার পর ভিতরে থাকা তেল বাইরে বার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই জাহাজের তেল চলে যাবে পূর্ব মুম্বইয়ের মহুল শোধনাগারে। জাহাজ মন্ত্রকের তরফে গোটা ঘটনা নিয়ে সামগ্রিক ভাবে কিছু বলা হয়নি। তবে জানা গিয়েছে, জাহাজটির মালিকানা স্বত্ব রয়েছে এথেন্সের সংস্থা ‘ডায়নাকম ট্যাঙ্কার ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড’-এর হাতে।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, নাবিক এবং কর্মী মিলিয়ে ওই জাহাজে ছিলেন ২৯ জন। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় ছাড়াও পাকিস্তান এবং ফিলিপিন্সের নাগরিকেরাও রয়েছেন। তেলবাহী জাহাজ মুম্বইয়ে ঢোকায় আরও কয়েক দিনের জন্য ভারতে তেলের জোগান সুনিশ্চিত হল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও হরমুজ় প্রণালীতে হামলার আশঙ্কায় সমুদ্রে আটকে রয়েছে ভারতের ২৮টি জাহাজ।