Advertisement
E-Paper

সংঘাত আর কত দিন! পশ্চিম এশিয়ার অনিশ্চয়তায় এ বার বিকল্প দেশের তেল আমদানির চেষ্টা, আলোচনা শুরু দিল্লির

ভারতে যত তেল প্রয়োজন হয়, তার ৮৮ শতাংশই আমদানি করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে যত তেল আমদানি করা হয়েছে, তার অর্ধেক পরিমাণই এসেছে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে। গত সপ্তাহ থেকে সেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩৮
তেলের জোগান নিশ্চিত করতে চাইছে ভারত।

তেলের জোগান নিশ্চিত করতে চাইছে ভারত। ছবি: রয়টার্স।

দেশে তেলের জোগান ধরে রাখতে আমেরিকা, রাশিয়া, পশ্চিম আফ্রিকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করল ভারতীয় তৈল শোধনাগারগুলি। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত যদি আরও বেশি দিন চলে, সে ক্ষেত্রে তেলের জোগানে ভাটা পড়তে পারে। সেই আশঙ্কায় আগেভাগেই সক্রিয় হল ভারত। এমনটাই বলছেন তৈল ক্ষেত্রের আধিকারিকেরা।

শোধনাগারে অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোল, ডিজেল তৈরি করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশের কিছু শোধনাগার বন্ধ রাখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে। আপাতত তেল শোধনেই জোর দিচ্ছে সেগুলি।

ভারতে যত তেল প্রয়োজন হয়, তার ৮৮ শতাংশই আমদানি করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে যত তেল আমদানি করা হয়েছে, তার অর্ধেক পরিমাণই এসেছে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে। গত সপ্তাহ থেকে সেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। তার পরেই তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, সেখান দিয়ে কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ গেলে ধ্বংস করা হবে। ইতিমধ্যে করাও হয়েছে। তার জেরে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে আর তেল আসছে না ভারতে।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এক আধিকারিক পিটিআই-কে জানিয়েছেন, হরমুজ় দিয়ে তেল আমদানি বন্ধ থাকলেও বাকি যে সব পথে তেল ভারতে আসত, তা এখনও চালু রয়েছে। যে সব জায়গায় সংঘাতের প্রভাব পড়েনি, সেখান থেকে আরও বেশি করে তেল আমদানি করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে ভারত যত তেল আমদানি করেছে, তার ৬০ শতাংশ পশ্চিম এশিয়া ছাড়া অন্য দেশে থেকে আমদানি করেছে। যেমন রাশিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, লাতিন আমেরিকার মতো দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছিল। পশ্চিম এশিয়ায় গত সপ্তাহে সংঘাত শুরু হওয়ার পরে যত তেল আমদানি করেছে, তার ৭০ শতাংশ করেছে ওই দেশগুলি থেকে।

এর মধ্যে আমেরিকাও জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী এক মাস ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারবে। তবে শর্ত একটাই, ৫ মার্চের আগে জাহাজে যে তেল তোলা হয়েছে, শুধু সেটাই কিনতে পারবে ভারত। ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সেই ছাড় থাকবে। এখন রাশিয়ার প্রায় ১২ কোটি ব্যারেল তেল সমুদ্রে ভাসমান জাহাজে রয়েছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি জাহাজ ভারতের খুব কাছে রয়েছে, যেগুলিতে মোট তেলের পরিমাণ এক কোটি ৫০ লক্ষ ব্যারেল। সূত্রের খবর, ওই জাহাজগুলি আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। ৭০ লক্ষ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল রয়েছে সিঙ্গাপুরের কাছে।

আমেরিকা গত বছর অক্টোবরে রাশিয়ার দুই তেল সংস্থার উপরে নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পরে ভারতের যে সব সংস্থা রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছিল, তারা আবার চালু করেছে বলে খবর। সেই তালিকায় রয়েছে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিস, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড, এইচপিসিএল-মিত্তল এনার্জি লিমিটেড। ২০২৫ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার রসনেফট এবং লুকোয়েল সংস্থার উপরে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়। তাদের থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কিনত রিলায়্যান্স।

তেল মন্ত্রকের সূত্র বলছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করেনি ভারত। কিছু পরিমাণ কমিয়েছে। তবে তেল মন্ত্রকের ওই কর্তা জানিয়েছেন, ভারতের কাছে যথেষ্ট তেল মজুত রয়েছে। দেশেই রয়েছে ১৪ কোটি ৪০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল, যা দিয়ে ২৫ দিন প্রয়োজন মিটবে বলে খবর। ভারতের ৬৪.৫ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুত রাখার ক্ষমতা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রায় ৭৪ দিনের জ্বালানি ভারতের ভান্ডারে থাকতে পারে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৭০ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬,৪০০ টাকা। সংঘাতের পরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯২ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় ৮,৪০০ টাকা। এ ভাবে চললে তেলের দাম যে বাড়বে, সেই আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তেল কিনতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হবে ভারতবাসীকেও। প্রসঙ্গত, দুনিয়ায় তেল আমদানির নিরিখে ভারত তৃতীয়। রাশিয়ার উপর আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পরে তেলের জন্য পশ্চিম এশিয়ার উপর ভারতের নির্ভরশীলতা বেড়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যত তেল ভারত আমদানি করেছে, তার ৫৩ শতাংশ এসেছে ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, আরব আমিরশাহি, কাতার থেকে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আগেভাগে পরিকল্পনা না করলে ভারতে তেলের ভান্ডারে টান পড়তে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy