Advertisement
E-Paper

১৫ দিন অন্তর পর্যালোচনা হবে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম! লিটারে ১০ টাকা অন্তঃশুল্ক কমানোর পর ঘোষণা কেন্দ্রীয় সরকারের

প্রশ্ন উঠছে, তবে কি পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমতে পারে? সাধারণ মানুষের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ১৭:০৬

— প্রতীকী চিত্র।

প্রতি ১৫ দিন অন্তর দেশে পেট্রল এবং ডিজ়েলের দাম পর্যালোচনা করা হবে। জ্বালানিতে অন্তঃশুল্ক কমানোর পরে জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতি লিটার পেট্রল এবং ডিজ়েলে ১০ টাকা করে শুল্ক কমিয়েছে কেন্দ্র। প্রশ্ন উঠছে, ১৫ দিন পরে কি আবার বাড়তে পারে এই শুল্ক? যদিও এই শুল্ক কমানোর ফলে সাধারণ মানুষের খুব একটা লাভ হবে না।

কেন্দ্রীয় সরকারের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের পরে পেট্রলের উপর চাপানো শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমে দাঁড়াল ৩ টাকা। আর ডিজ়েলের ক্ষেত্রে শুল্ক শূন্যে নেমে এল। তবে পেট্রল এবং ডিজ়েলের উপরে অন্তঃশুল্ক ছাড়াও কিছু শুল্ক রয়েছে। সে সব মিলিয়ে প্রতি লিটার পেট্রলে এখন শুল্ক কমে হল ১১.৯ টাকা। এই ১১.৯ টাকার মধ্যে ১.৪০ টাকা প্রাথমিক শুল্ক, ৩ টাকা বিশেষ অতিরিক্ত শুল্ক, ২.৫০ টাকা কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস, ৫ টাকা সড়ক এবং পরিকাঠামো সেস রয়েছে। প্রতি লিটার ডিজ়েলে শুল্ক কমে হয়েছে ৭.৮ টাকা। তার মধ্যে ১.৮০ টাকা প্রাথমিক শুল্ক, ৪ টাকা কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস, ২ টাকা সড়ক এবং পরিকাঠামো সেস।

এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইনডিরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমসের চেয়ারম্যান বিবেক চতুর্বেদী ১৫ দিন অন্তর দেশে জ্বালানির দাম পর্যালোচনার কথা জানান। এই বোর্ড কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অধীনে রয়েছে। চতুর্বেদী বলেন, ‘‘অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। পেট্রল, ডিজ়েল, এটিএফ (বিমানের জ্বালানি)-এর দামও বেড়েছে।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার সব মেপেই করছে। অতিরিক্ত শুল্ক এবং সেস আনা হয়েছে ডিজ়েল, এটিএফ রফতানি নিয়ন্ত্রণের জন্য। ১৫ দিন অন্তর দাম পর্যালোচনা করা হবে।’’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। প্রত্যাঘাত শুরু করে তেহরানও। অবরুদ্ধ করে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বে যত তেল, এলপিজি আমদানি, রফতানি হয়, তার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হয় এই পথে। সেই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্বের বাজারে আন্তর্জাতিক তেলের দাম বেড়ে যায়।

দেশবাসীর জ্বালানি এবং এলিপিজির চাহিদা মেটাতে ভারত অনেকটাই নির্ভরশীল আমদানির উপরে। তারা যত অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ আসে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে। সেখান দিয়ে প্রতি দিন ২২ লক্ষ থেকে ২৮ লক্ষ ব্যারেল তেল আসে। এ বার সেই প্রণালী বন্ধ হওয়ায় ভারতে এলপিজির দাম বেড়ে যায়। পেট্রল, ডিজ়েল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

প্রশ্ন উঠছে, তবে কি পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমতে পারে? তবে বিভিন্ন সূত্রে খবর, অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে সরাসরি সাধারণ মানুষের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কমই। দেশের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি (ওএমসি)-র ক্ষতি লাঘব করতে এই সিদ্ধান্ত। এর ফলে সরকার রাজস্বও হারাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতীয় সংস্থাগুলি যে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার উপর সরকার অন্তঃশুল্ক নেয়। গত বছরই সেই শুল্ক বাড়িয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তবে ভারতের বাজারে এখনও পর্যন্ত সাধারণ পেট্রল, ডিজ়েলের দাম বাড়েনি। এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে অনেকটাই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই ক্ষতির ধাক্কা সামলে নিতেই অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy