মার্কিন সেনাদের আশ্রয় দিলেই সেই হোটেলগুলিকে নিশানা করা হবে। উপসাগরীয় দেশগুলির হোটেলগুলিকে এমনই হুঁশিয়ারি দিল ইরান। প্রসঙ্গত, উপসাগরীয় অঞ্চলে যে সব মার্কিন সেনাঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান, সেখান থেকে সরে এসে অস্থায়ী শিবির এবং বিভিন্ন হোটেলে আশ্রয় নিয়েছে মার্কিন সেনারা। এ বার সেই হোটেলগুলিতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিল ইরান।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ১৩টি সেনাঘাঁটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। সেই সব ঘাঁটি ছেড়ে এখন সেনাদের অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে। সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের হুঁশিয়ারি এল। বৃহস্পতিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ তোলেন, উপসাগরীয় দেশগুলির নাগরিকদের ‘মানব ঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করা শুরু করেছে মার্কিন সেনারা। তাই সেনাঘাঁটি ছেড়ে ওঁরা এখন হোটেল এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরে আশ্রয় নিচ্ছেন।
এর পরই আরাঘচি উপসাগরীয় দেশগুলির হোটেলগুলিকে সতর্ক করেন। ফার্স নিউজ় এজেন্সি-র প্রতিবেদন বলছে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং বাহরিনের হোটেলগুলিকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে ইরানের তরফে। অন্য দিকে, ইরান সেনার মুখপাত্র অবৌলফজ়ল শোকরচী সরকারি টেলিভিশনকে বলেন, ‘‘যখন মার্কিন সেনারা কোনও হোটেলে আশ্রয় নেবে, সেই হোটেলও আমাদের নজরে ‘আমেরিকা’ হয়ে উঠবে। ফলে আমরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকব না।’’ ফার্স নিউজ়-এর প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সিরিয়া, লেবানন এবং জিবুতিতেও মার্কিন সেনারা বিভিন্ন হোটেলে আশ্রয় নিচ্ছে। সেই হোটেলগুলিকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সেনার মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাঁদের দেশে হামলা চালানোর জন্য আমেরিকাকে ওই সব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হোটেলগুলিকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, মার্কিন সেনাদের আশ্রয় দিলেই তাদেরও রেয়াত করা হবে না।
প্রসঙ্গত, সামরিক সংঘাতের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলিতে একের পর এক হামলা চালায় ইরান। তাদের দাবি, ওই অঞ্চলে বহু মার্কিন সেনাঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। যদিও পেন্টাগন বার বারই দাবি করেছে, ইরানের দাবির কোনও ভিত্তি নেই। তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলি অক্ষতই রয়েছে। তার মধ্যেই দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও আমেরিকার তরফে এই বিষয়ে সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘আমাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের অবস্থাও হত গাজ়ার মতো’! দাবি পেজ়শকিয়ানের, নিশানায় আমেরিকা
-
‘ভুল, খুব ভুল করছে’! ইরানকে ফের কী নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প? শান্তিবৈঠক বন্ধ করার হুমকিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের
-
হিজ়বুল্লা-নিধনে ইজ়রায়েল হামলা চালিয়ে গেলেও ‘স্পিকটিনট’! ৩০০০০ কোটি ডলারে ইরানের মুখ বন্ধ করল আমেরিকা?
-
‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই’! যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রকাশে দেরি নিয়ে প্রশ্নে মজাচ্ছলেই খোঁচা ভান্সের
-
হিজ়বুল্লার সঙ্গে ‘যুদ্ধবিরতি’ জানিয়েও ফের ইজ়রায়েলি হানা লেবাননে! শান্তিচুক্তিতে নারাজ নেতানিয়াহুর কৌশল কী?