অতিরিক্ত হাঁটাচলা কিংবা দীর্ঘ ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফলে হাঁটুর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু দুর্বল হয়। মালাইচাকি ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। অস্থিসন্ধির আশপাশে যে ফ্লুইড থাকে, তা-ও শুকিয়ে যেতে থাক। ফলে স্বাভাবিক ছন্দে হাঁটাচলা করতেও অসুবিধা হয়। চিকিৎসকেরা অনেক সময়ে হাঁটু প্রতিস্থাপন করার পরামর্শও দেন। তবে সে সব অত্যন্ত জটিল এবং কষ্টকর প্রক্রিয়া। এই ধরনের অস্ত্রোপচার খরচসাপেক্ষও বটে। এর চেয়ে যোগাসনে ভরসা রাখাই ভাল।
নি-এক্সটেনসন যোগাসনের এক সহজ পদ্ধতি। চেয়ারে বসেই তা করা যায়। বয়স্করাও সহজেই করতে পারেন এই আসন।
কী ভাবে করবেন?
১) পিঠ সোজা রেখে চেয়ারে বসুন। পা মাটিতে থাকবে। মাথা ও ঘাড় যেন এক সরলরেখায় থাকে খেয়াল রাখুন।
২) দুই হাত রাখুন কোলের উপর। স্বাভাবিক ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে হবে।
আরও পড়ুন:
৩) এ বার শ্বাস নিতে নিতে ডান পা সামনের দিকে যতটা সম্ভব উপরে তুলুন। হাঁটু ভাঁজ না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৪) এ বারে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পা নীচে নামাতে হবে। প্রবীণদের পা তুলতে অসুবিধে হলে দুই হাতে চেয়ারের পাশে ভর দিতে পারেন।
৫) একই ভাবে বাঁ পা উপরে তুলে কয়েক সেকেন্ড রেখে নীচে নামান। এক রাউন্ড সম্পূর্ণ হল। এই ভাবে ৭ রাউন্ড অভ্যাস করতে হবে।
উপকারিতা:
পিঠ-কোমরের ব্যথা কমবে। স্লিপ ডিস্কের সমস্যা থাকলে আসনটি করতে পারেন।
কোমর ও নিতম্বের পেশির জোর বাড়বে। যাঁরা দীর্ঘ সময়ে বসে কাজ করেন, তাঁরা এই আসনটি করলে উপকার পাবেন।
সায়াটিকার ব্যথায় আরাম পাবেন।
হাঁটুর যন্ত্রণায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা আসনটি করলে উপকার পেতে পারেন।
নিয়মিত আসনটি করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে, ব্যথাবেদনা কমবে।
শরীরের ভারসাম্য বাড়বে, স্নায়ুর কার্যকারিতাও বাড়বে।
রোজ অভ্যাস করলে মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হবে।
কারা করবেন না?
হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করা যাবে না।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আসনটি করতে হলে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিতে হবে।