গত কয়েক দিন ধরেই ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে মণিপুরে। দুই পৃথক ঘটনাকে কেন্দ্র করে মণিপুরের বেশ কয়েকটি পাহাড়ি এলাকায় বিঘ্নিত হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। জোড়া বন্ধ, অবস্থান বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির জেরে জায়গায় জায়গায় বন্ধ থাকে বাজারহাট। বাস এবং অন্য গণপরিবহণের উপরেও তার প্রভাব পড়ে।
চলতি মাসের শুরুর দিকের দু’টি পৃথক ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে অশান্তি ছ়ড়িয়েছে মণিপুরে। প্রথম ঘটনাটি গত ৭ এপ্রিলের। ওই দিন মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার ত্রংলাওবিতে বোমা হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এর পরে গত ১৮ এপ্রিল উখরুল জেলার লিটন গ্রামের কাছে হামলায় নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাকর্মী। অভিযোগ উঠছে, কুকি জনগোষ্ঠীর বিদ্রোহীদের হামলাতেই নিহত হন তিনি। এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই গত কয়েক দিন ধরে উত্তপ্ত মণিপুর।
গত ৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুর জেলায় বোমা হামলায় ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যায় ৫ বছরের এক শিশু এবং তার ৬ মাসের বোন। হামলায় গুরুতর জখম হন তাদের মা। ওই হামলার প্রতিবাদে গত ১১ এপ্রিল থেকে ধারাবাহিক প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে মণিপুরে। এরই মধ্যে কুকি সংখ্যাগুরু চূড়াচাঁদপুর জেলায় আধাসেনা বাহিনীর গুলিতে তিন বিক্ষোভকারী নিহত হন বলে অভিযোগ। তাতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। বস্তুত, গত ৭ এপ্রিলের ঘটনার পর পরই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বলে তিন দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখেছিল প্রশাসন।
৮ এপ্রিল থেকে ব্রডব্যান্ড পরিষেবা শর্তসাপেক্ষে চালু হয়েছিল ঠিকই, তবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা তখনও বন্ধ ছিল। পরে ধাপে ধাপে তা চালু করা হয় এবং গত শনিবার নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে প্রশাসন। এরই মধ্যে শনিবার ইম্ফলের থাংমেইব্যান্ড এলাকায় একটি মশাল মিছিলের আয়োজন করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। ওই বিক্ষোভ চলাকালীন সেখানে মোতায়েন আধাসেনা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দৃশ্যত সংঘর্ষ বেধে যায়। তাতে ছ’জন জখম হন। জখমদের মধ্যে তিনজনই আধাসেনা জওয়ান। এ অবস্থায় বিক্ষোভকারীদের দমাতে লাঠিচার্জ শুরু করেন নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানেরা। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেষ, রবার বুলেটও। অন্য দিকে বিক্ষোভকারীরাও পাথর ছুড়তে শুরু করেন।
আরও পড়ুন:
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রবিবার মধ্যরাত থেকে পাঁচ দিনের বন্ধ ডেকেছে ‘মেইরা পাইবিস’ (মেইতেই জনগোষ্ঠীর মহিলাদের সংগঠন)-সহ বেশ কয়েকটি নাগরিক সংগঠন। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, এই বন্ধের জেরে মণিপুরের অন্তত পাঁচ জেলায় স্কুল-কলেজ এবং বাস চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ইম্ফলের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান বিক্ষোভও চলে। এরই মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে সোমবার থেকে ধর্মঘট ডেকেছে ‘ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল’। সেই বিক্ষোভ কর্মসূচি মঙ্গলবার সকালেও চলছে। রোহন ফিলেম নামে স্থানীয় এক সমাজকর্মী এবং বিক্ষোভকারী সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানান, ন্যায়বিচার না-পাওয়া পর্যন্ত এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে।