গ্যাংস্টার আবু সালেমের সাজার মেয়াদ পূরণের আগে জেলমুক্তির আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ১৯৯৩ সালে মুম্বইয়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে অন্যতম আসামি সালেম। জেলে ভাল আচরণের জন্য মেয়াদ পূরণের আগে মুক্তির আবেদন জানান তিনি। মামলাকারীর দাবি, তাঁর ৩ বছর ১৬ দিনের সাজা মুকুব হওয়ার যোগ্য। এই ছাড় পেলে তাঁর জেলমুক্তিও হয়ে যাওয়া উচিত বলে দাবি সালেমের। সেই আর্জি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে না শীর্ষ আদালত। তবে বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সঞ্জীব মেহতার বেঞ্চ জানিয়েছে, সালেম চাইলে বম্বে হাই কোর্টে আবেদন করতে পারেন।
১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ ১২ বার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল মুম্বই। হামলায় প্রাণ গিয়েছিল ২৫৭ জনের। জখম হন সাতশোরও বেশি মানুষ। ওই বিস্ফোরণকাণ্ডে অন্যতম আসামি সালেম। পলাতক থাকাকালীনই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। তার পরে পর্তুগালের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরে ২০০৫ সালের নভেম্বরে দেশে নিয়ে আসা হয় আসামিকে। ওই সময়েই পর্তুগালকে কেন্দ্র আশ্বাস দেয়, ২৫ বছরের বেশি সাজা দেওয়া হবে না তাঁকে। ২০৩০ সালে তাঁর সাজার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে অন্য একটি মামলায় সালেমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় বিশেষ ‘টাডা’ আদালত। ১৯৯৫ সালে মুম্বইয়ের নির্মাণ ব্যবসায়ী প্রদীপ জৈন এবং তাঁর চালক মেহেদি হাসানকে খুনের দায়ে সন্ত্রাস এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (টাডা)-এর আওতায় দোষী সাব্যস্ত হন তিনি।
আরও পড়ুন:
এরই মধ্যে আগাম জেলমুক্তির আবেদন জানিয়ে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন সালেম। কিন্তু গত বছরের জুলাইয়ে হাই কোর্ট প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানায়, সালেমের সাজার মেয়াদ এখনও পূর্ণ হয়নি। হাই কোর্টে কারা দফতর জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সালেম তাঁর কারাদণ্ডের ১৯ বছর ৫ মাস ১৮ দিন কাটিয়েছেন।
এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সালেম। সালেমের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী আইনজীবী ঋষি মলহোত্র। তাঁর দাবি, জেলে ভাল আচরণের জন্য তাঁর মক্কেলের ২৫ বছরের কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে ৩ বছর ১৬ দিন মুকুব হওয়া উচিত। তবে সেই আর্জি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারী (সালেম) ‘টাডা’-র আওতায় দোষী সাব্যস্ত। সালেমের অপরাধের যা রেকর্ড রয়েছে, তা থেকে তাঁর আর্জি বিশেষ ভাবে বিবেচনা করা যায় না।