কোনও পলাতক অভিযুক্ত সাধারণত আগাম জামিন পেতে পারেন না। পলাতকদের ক্ষেত্রে আগাম জামিন শুধু ব্যতিক্রমী ঘটনা। তা স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত এ-ও জানিয়েছে, একই মামলায় অন্য কেউ বেকসুর খালাস হয়ে গিয়েছেন বলেই কোনও পলাতক অভিযুক্তকে আগাম জামিন দেওয়া যায় না।
মধ্যপ্রদেশের এক ঘটনায় পলাতক অভিযুক্তকে আগাম জামিন দিয়েছিল সে রাজ্যের হাই কোর্ট। কারণ, ওই মামলায় অন্য অভিযুক্তেরা বেকসুর খালাস হয়ে গিয়েছেন। হাই কোর্টের ইনদওর বেঞ্চের ওই নির্দেশ দিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি বিজয় বিশ্নোইয়ের বেঞ্চ হাই কোর্টের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোনও পলাতক অভিযুক্তকে আগাম জামিন দিলে তা খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এর মাধ্যমে জনমানসে এই বার্তা যায় যে— যাঁরা বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাঁরা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এর ফলে অন্যেরাও চাইবেন আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যেতে। আদালত জানিয়েছে, সমতার নীতি (বিচারাধীন অবস্থায় অভিযুক্তদের প্রতি সমান আচরণ) কোনও পলাতকের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা যায় না।
আরও পড়ুন:
আদালত আরও জানায়, সাধারণ ভাবে পলাতকদের আগাম জামিন দিয়ে দেওয়া যেতে পারে না। কারণ, তিনি পলাতক থেকে আদালতের সঙ্গে অসহযোগিতা করছেন। ওই মামলায় অন্য অভিযুক্তদেরও বিচারে দেরি করছেন। এ অবস্থায় সমতার নীতি তাঁর ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয় বলেই মনে করছে দুই বিচারপতির বেঞ্চ।
এই ঘটনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কোনও যুক্তিগ্রাহ্য প্রাথমিক প্রমাণ না থাকায় এবং অন্য অভিযুক্তেরা বেকসুর খালাস হয়ে যাওয়ায় ওই পলাতককে আগাম জামিন দেয় হাই কোর্ট। এই যুক্তিতে আগাম জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল বলেই মনে করছে শীর্ষ আদালত। পলাতক ওই অভিযুক্তের আগাম জামিন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, রায় ঘোষণার চার সপ্তাহের মধ্যে ওই ব্যক্তিকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তবে আত্মসমর্পণের পরে তিনি চাইলে সাধারণ জামিনের জন্য আবেদন করতে পারেন বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।