গরুর গুরুত্ব কী, তার বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতাই বা কী, এ সব প্রচারের জন্যই মথুরায় তৈরি হচ্ছে জাতীয় গরু সংস্কৃতি সংগ্রহশালা। সেখানে গরু এবং তা থেকে মেলা পণ্য নিয়ে চলবে গবেষণাও। দেশে এই প্রথম এ ধরনের প্রতিষ্ঠান তৈরি হচ্ছে। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ভেটেরিনারি সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মথুরা ক্যাম্পাসে হবে সেই সংগ্রহশালা। উদ্যোগ নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের ব্রজ তীর্থ বিকাশ পরিষদ। তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, দেশে এই ধরনের প্রতিষ্ঠান হওয়া ইতিবাচক। এতে পশ্চিমবঙ্গে যে গরুর প্রজাতি রয়েছে, তাদেরও উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে।
মথুরার প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাদুঘরের জন্য জমিও চিহ্নিত করা হয়ে গিয়েছে। আগরা ডিভিশনাল কমিশনার নগেন্দ্র প্রতাপ জানিয়েছেন, এই সংগ্রহশালা মূলত গরুর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরবে। পাশাপাশি, বিজ্ঞানের দিক থেকেও যে গরু এবং তার থেকে মেলা পণ্যের একটা গুরুত্ব রয়েছে, তা-ও তুলে ধরবে এই সংগ্রহশালা বা সংগ্রহশালা। এর ফলে গো-পালন এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন দিক খুলে যাবে।
এই সংগ্রহশালার জন্য শনিবার সম্ভাব্য জমি দেখতে গিয়েছিলেন ব্রজ তীর্থ বিকাশ পরিষদের সহ-সভাপতি শৈলজাকান্ত মিশ্র, মথুরার জেলাশাসক সিপি সিংহ, নগেন্দ্র-সহ প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ আধিকারিকেরা। আগরা ডিভিশনাল কমিশনার নগেন্দ্র জানিয়েছেন, জাদুঘরে গরুর প্রায় ১০০টি প্রতীকী মডেল থাকবে। দেশে যত ধরনের গরুর প্রজাতি রয়েছে, সেগুলির মডেলও থাকবে। এ দেশে গরুর ঐতিহ্য যাতে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, সে জন্যই এই উদ্যোগ। গরুর দুধ, দুধ থেকে তৈরি দই, ঘি, পনিরও প্রদর্শিত হবে জাদুঘরে। তার গুণাগুণ বর্ণনা করা হবে। সংগ্রহশালা চত্বরে বিশুদ্ধ গোদুগ্ধজাত পণ্যও কিনতে পারবেন লোকজন। ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, শুধু কৃষি এবং অর্থনীতির স্বার্থে নয়, বরং ধর্মীয় কারণ এবং মানুষের মঙ্গলের জন্যও যে গরু সংরক্ষণ জরুরি, তা এই প্রকল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘আমাদের দেশের বা আমাদের সভ্যতার যে প্রাচীন জ্ঞান পরম্পরা রয়েছে, যা কয়েক সহস্র বছর ধরে অর্জিত, তার সংরক্ষণ এবং অধ্যয়ন আজও প্রাসঙ্গিক। মথুরায় যে প্রতিষ্ঠান তৈরি হচ্ছে বলছে শুনছি, তা সেই লক্ষ্যেই একটি পদক্ষেপ। অতএব নিঃসন্দেহে সাধুবাদযোগ্য।’’ দিলীপ আরও বলেন, ‘‘ভারতীয় সংস্কৃতিতে, ভারতের চিরাচরিত জীবনধারায় গরু বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই গরুকে মাতৃজ্ঞানে বা ঈশ্বরজ্ঞানে পুজো করে এসেছেন। আবার আমাদের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে গরু বরাবর খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। চাষের কাজে হোক বা দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার জোগানের ক্ষেত্রে হোক।’’ তিনি এখানেও থামেননি। দিলীপের কথায়, ‘‘অন্যান্য পশুপাখির মলমূত্র বিষাক্ত হয়। গরুর ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো। তার মলমূত্র তো বিষাক্ত হয়ই না, উল্টে জীবাণুনাশক হয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে গরুর যে প্রজাতি আমরা দেখি, তা সাধারণত ছোট গরুর প্রজাতি। তারা দুধ কম দেয়। সে সব নিয়েও নানা গবেষণা চলছে। যাতে সেই প্রজাতির উন্নতি ঘটানো যায়, তা নিয়েও অনেকে কাজ করছেন। সুতরাং এই ধরনের প্রতিষ্ঠান তৈরি হওয়া ইতিবাচক।’’
আরও পড়ুন:
২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পরে সদ্য সাংসদ হওয়া দিলীপ বর্ধমান শহরের টাউনহলে ‘ঘোষ এবং গাভীকল্যাণ সমিতি’র সভায় যোগ দিয়েছিলেন। ওই দিন দিলীপ বলেছিলেন, ‘‘গরুর দুধে সোনার ভাগ থাকে। তাই দুধের রং হলুদ হয়।’’ এই দাবির ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘‘দেশি গরুর কুঁজের মধ্যে স্বর্ণনাড়ি থাকে। সূর্যের আলো পড়লে, সেখান থেকে সোনা তৈরি হয়।’’