৪৮ বছর পরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে ন’জন বিচারপতির একটি সংবিধান বেঞ্চ ‘শিল্প’ (ইন্ডাস্ট্রি) শব্দের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণের শুনানি শুরু করল। ১৯৭৮ সালের শীর্ষ আদালতের এ সংক্রান্ত রায়ের যথার্থতা যাচাই করার উদ্দেশ্যে শুনানি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে।
সাংবিধানিক বেঞ্চে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে শুনানিতে রয়েছেন বিচারপতি বিভি নাগরত্ন, বিচারপতি পিএস নরসিংহ, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত, বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁয়ান, বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি অলোক আরাধে এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি। শ্রম সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টের ১৯৭৮ সালের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনা করছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
১৯৪৭ সালের শিল্প সংক্রান্ত বিবাদ আইন অনুযায়ী ১৯৭৮ সালের ওই রায়ে শিল্পের যে সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়েছিল, তা পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না, সে নিয়ে বুধবার হবে পরবর্তী শুনানি। মঙ্গলবার শুনানির গোড়াতেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন যে বেঞ্চ ১৯৮২ সালের আইনে উল্লিখিত ‘শিল্প’ (ইন্ডাস্ট্রি) শব্দটির সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করবে না, কারণ সেই আইন কখনও কার্যকর হয়নি এবং তাই তার উপর নির্ভর করা যায় না। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বেঞ্চ ২০২০ সালের ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড’-এ সংজ্ঞায়িত এই শব্দটি নিয়েও আলোচনা করবে না, যা ২০২৫ সালে কার্যকর হয়েছে, কারণ সেটিও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।’’
প্রসঙ্গত, ১৯৭৮ সালে 'ব্যাঙ্গালোর ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ বোর্ড বনাম এ রাজাপ্পা’ মামলায় সাত বিচারপতির বেঞ্চ রায় দিয়েছিল, পণ্য ও পরিষেবা উৎপাদন বা বিতরণের উদ্দেশ্যে মালিক ও কর্মচারীর সহযোগিতায় সংগঠিত যে কোনও পদ্ধতিগত কার্যকলাপই ‘শিল্প’ সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এমনকি যদি সংস্থাটি মুনাফা অর্জনে নিযুক্ত না-ও থাকে তা হলেও তা ‘শিল্প’ হতে পারে। সংবিধান বেঞ্চ এখন খতিয়ে দেখবে যে বিচারপতি ভিআর কৃষ্ণ আয়ারের লেখা রায়ে ‘শিল্প’ শব্দটির যে ব্যাপক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন আছে কি না। সেই সঙ্গে সংবিধান বেঞ্চ বিবেচনা করবে, সরকারি দফতর বা তাদের অধীনস্থ সংস্থা কর্তৃক গৃহীত সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং অন্যান্য কর্মসূচিকে শিল্প সংক্রান্ত বিবাদ আইন, ১৯৪৭-এর ২ ধারায় ‘শিল্প’ হিসাবে গণ্য করা যায় কি না।