Advertisement
E-Paper

বন্দে মাতরম গাওয়ার সময়েও উঠে দাঁড়াতে হবে! জাতীয় গান নিয়ে বিধি স্থির করে দিল কেন্দ্র, শেষ করতে হবে কত সময়ে?

জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে গত জানুয়ারিতেই দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিল অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাতে যোগ দিয়েছিলেন একাধিক বরিষ্ঠ আধিকারিক, অন্যান্য মন্ত্রকের কর্তাব্যক্তিরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২৯

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিধি স্থির করে দিল কেন্দ্র। জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’র মতো এ বার থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গানও। ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময়ে সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে। বুধবার সকালে নির্দেশিকা জারি করে এ কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

জাতীয় সঙ্গীতের মতো এ ক্ষেত্রেও সময় স্থির করে দেওয়া হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবক ১৯০ সেকেন্ড (৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড)-এ পরিবেশন করতে হবে। কোন কোন সময়ে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা বাধ্যতামূলক, তা-ও নির্দিষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের নির্দেশিকায়। বলা হয়েছে, জাতীয় পতাকা উন্মোচনের সময়ে, সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির আগমন এবং প্রস্থানের সময়ে, জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে এবং পরে, সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল এবং উপরাজ্যপাল (লেফটেন্যান্ট গভর্নর)-দের আগমন এবং প্রস্থানের সময়ে, কোনও নাগরিক সম্মান বা পুরস্কার দেওয়ার সময়ে এবং কুচকাওয়াজে জাতীয় পতাকা আনার সময়ে জাতীয় গান পরিবেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। যে সরকারি কর্মসূচিগুলিতে জাতীয় গান পরিবেশনের কথা বলা হয়েছে, সেগুলির মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের রীতি রয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ধরনের ক্ষেত্রে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের আগে ওই অনুষ্ঠানগুলিতে জাতীয় গান পরিবেশন করা হবে। ওই সময়ে সকলকে অবশ্যই উঠে দাঁড়াতে হবে। জাতীয় গান পরিবেশনের সময়ে সকলকে কণ্ঠ মেলানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন চলছে। ১৮৭৫ সালে লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল বন্দে মাতরমের কথা ও ভাবনা। জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি দেশের সংবিধান এই গানকেও সমান মর্যাদা এবং স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এটি গাওয়ার জন্য আলাদা করে কোনও বিধি এত দিন নির্ধারিত ছিল না।

জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষে বার বার সওয়াল করে এসেছে বিজেপি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তারা এই গানের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক বাতিল করার অভিযোগও তুলেছে। সূত্রের খবর, জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে গত জানুয়ারিতেই দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিল অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাতে যোগ দিয়েছিলেন একাধিক বরিষ্ঠ আধিকারিক, অন্যান্য মন্ত্রকের কর্তাব্যক্তিরা। কেন্দ্র যে এমন কিছু পদক্ষেপ করতে চলেছে, তা নিয়ে তখন থেকেই কানাঘুষো শুরু হয়েছিল। এ বার সেই বিধি স্থির করল কেন্দ্র।

পাশাপাশি স্কুলগুলিতেও সকালে প্রার্থনা সঙ্গীতের সময়ে বা স্কুলের কোনও অনুষ্ঠানে জাতীয় গান সমবেত কণ্ঠে গাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের জাতীয় গান এবং জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া এবং জাতীয় পতাকার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষগুলির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা উচিত বলে জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়। পাশাপাশি ঘোষিত ভাবে সরকারি কর্মসূচি নয়, এমন কোনও অনুষ্ঠান যদি মন্ত্রীদের উপস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়, সেখানেও জাতীয় গান পরিবেশন করা যেতে পারে।

‘হিন্দুস্তান টাইমস’ জানাচ্ছে, ১০ পাতার ওই নির্দেশিকায় এ-ও বলা হয়েছে, যদি কখনও কোনও সিনেমার অংশ হিসাবে জাতীয় গান পরিবেশিত হয়, সে ক্ষেত্রে সকলের উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক নয়। এই ধরনের ক্ষেত্রে উঠে দাঁড়ালে দর্শকদের ওই সিনেমা দেখতে সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং তা থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এতে জাতীয় গানকে সম্মান জানানোর বদলে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে মনে করছে মন্ত্রক।

Vande Mataram Union Health Ministry
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy