পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসমেও শাখা খুলেছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জেএমবি (জামাতুল মুজাহিদিন)। তার নাম দেওয়া হয়েছে জামাতুল মুজাহিদিন অসম বা জেএমএ। শনিবার নমনি অসমের নিলিবাড়ি থেকে ধরা পড়া আশিক ওরফে বুড়াভাইকে জেরা করে নতুন এই তথ্য জানতে পেরেছে অসম পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই আরও পাঁচ জেহাদিকে নমনি অসমের নানা জায়গা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
খাগড়াগড়ে গত বছর ২ অক্টোবরে বিস্ফোরণের পর থেকেই আশিকের খোঁজে অসমে এসেছিল এনআইএ-এর দল। কিন্তু ভোল বদলে আত্মগোপন করেছিল আশিক, যার আসল নাম মহম্মদ মনিরুল ইসলাম। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার ভোরে আশিককে পাকড়াও করার পর পুলিশ দেখে, সে তার সাদা দাড়ি কেটে ফেলেছে। পাজামা-পাঞ্জাবির বদলে শার্ট-প্যান্ট পরা শুরু করেছে। তাকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, বছর দুয়েক হল অসমে জেএমবি যে শাখা খুলেছে, আশিকই তার মাথা। ক্যাডার নিয়োগের পাশাপাশি তাদের জন্য অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও বিস্ফোরক তৈরির পরিকল্পনাও ছিল জেএমএ-র। কিন্তু বোমা বিশেষজ্ঞ শাকিল গাজি খাগড়াগড়ে নিহত হওয়ার পরে বিস্ফোরক তৈরির বিষয়ে তারা আর এগোতে পারেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খাগড়াগড় বিস্ফোরণের ঠিক আগেই ট্রেনে করে শাকিলকে বরপেটা এনেছিল আশিক। উদ্দেশ্য ছিল সেখানেও বিস্ফোরক তৈরির পরিকাঠামো তৈরি। কিন্তু আরও এগোনোর আগেই শাকিল খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণে মারা যায়। এর পর সেই পরিকল্পনা বাতিল করে গোয়ালপাড়া আর চিরাং-এ নতুন ক্যাডারদের বন্দুক চালনা শেখানোর শিবির খুলেছিল আশিক। কিন্তু এনআইএ-র দেওয়া সূত্র ধরে এই এলাকায় কড়া নজরদারি রাখছিল অসম পুলিশ। মাস তিনেক আগে এই এলাকা থেকে অন্তত ১৫ জন জেহাদিকে আটক করেছে তারা। তাদের কাছে ১২টি একে-৪৭ ও কয়েকটি ইনস্যাস রাইফেলও মিলেছিল। উদ্ধার হয়েছিল ১২ জোড়া জংলা পোশাক, জুতো ও টুপি। সম্প্রতি পুলিশি ধরপাকড় কমে আসাতেই আশিক আবার নমনি অসমে ফিরেছিল। পুলিশকে সে জানিয়েছে— শুধু প্রশিক্ষণ শিবিরই নয়, মুঙ্গের থেকে কারিগর আনিয়ে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে বাংলাদেশে পাঠাতেও শুরু করেছিল তারা। আশিকের কাছ থেকেও এমন একটি দেশি পিস্তল পেয়েছে পুলিশ।