কয়েক বছর ধরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতি ঘটলেও, শিলচরের জেলে বন্দি বাংলাদেশি নাগরিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে না। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়া ৩৭ জন বন্দির ঠিকানার খোঁজ মেলেনি বলে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের শ্রীহট্ট জেলার পুলিশ। এ বার কাছাড়-করিমগঞ্জের প্রতিনিধিরা বন্দিদের সকলের ছবি তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রশাসনের কাছে। কাছাড়ের জেলাশাসক এস বিশ্বনাথন আশাবাদী— এ বার সাড়া মিলবে।
২৯ নভেম্বর বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে দু’টি দেশের চার জেলার প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। কাছাড়ের বিশ্বনাথন ছাড়াও আট সদস্যের ভারতীয় দলে ছিলেন করিমগঞ্জের জেলাশাসক সঞ্জীব গোঁহাই বরুয়া ও পুলিশ সুপার প্রদীপরঞ্জন কর, কাছাড়ের পুলিশ সুপার রজবীর সিংহ, দুই অতিরিক্ত জেলাশাসক এম কে দাস ও এ আর শেখ এবং বিএসএফ কমান্ড্যান্ট এস যোশী। পড়শি দেশের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মৌলভীবাজারের জেলাশাসক মহম্মদ কমরুল হক ও শ্রীহট্টের জেলাশাসক মহম্মদ জয়নাল আবেদিন।
ফিরে এসে বিশ্বনাথন জানান, ১২টি বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আগেই ঠিক করা হয়েছিল। সব ব্যাপারে খুব ভাল আলোচনা হয়েছে। শুধু শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়া বন্দিদের সে দেশে ফেরানোর কাজে অনিশ্চয়তা রয়েই গেল। আগেই বন্দিদের নাম-ঠিকানা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে শ্রীহট্টের পুলিশ সুপার জানিয়ে দেন, তাঁরা প্রতিটি ঠিকানা ভাল করে পরীক্ষা করে দেখেছেন। ওই ঠিকানায় সেই নামের কারও বাড়ি মেলেনি। তাঁর বক্তব্য, এরা বাংলাদশি নাগরিক হতে পারেন। ভারতে ধরা পড়ার সময় হয়তো ভুল ঠিকানা দিয়েছিলেন। কাছাড়ের জেলাশাসক বন্দিদের ছবি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। তুলে দেন পুরো অ্যালবাম। ভারতীয় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশকে এই ধরনের ঘটনায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। বাংলাদেশ থেকে সে সময় দুই ভারতীয় বন্দির কথা বলা হয়, যাঁরা শাস্তির মেয়াদ পেরনোর পরও বাংলাদেশের জেলে বন্দি রয়েছেন। করিমগঞ্জের পুলিশ সুপার প্রদীপরঞ্জন কর তাঁদের নাম-ঠিকানা নিয়ে এসে দু’দিনের মধ্যে তাদের বাড়িঘর খুঁজে বের করে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরকে জানিয়ে দিয়েছেন। এখন ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বাংলাদেশকে তাঁদের ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার কথা জানাবে। তাঁদের ফিরিয়ে নিতে ভারতের আপত্তি না-থাকার কথাও জানিয়ে দেবে।
বিশ্বনাথন আশাবাদী, করিমগঞ্জ পুলিশের তৎপরতা দেখে শ্রীহট্ট পুলিশ চাপে পড়বে। তাঁরা ছবি দেখে ফের ঠিকানাগুলি খতিয়ে দেখবে এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের জেলে বন্দি বাংলাদেশিরা নিজেদের বাড়িতে পৌঁছতে পারবেন। কাছাড়ের জেলাশাসক বলেন, ‘‘মানবিক কারণে তাঁদের বাড়ি পৌঁছনো জরুরি হয়ে পড়েছে।’’ প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্য নিয়েও বন্দিদের বাড়িঘর খুঁজে দেখা দেখতে তিনি বাংলাদেশের জেলাশাসকদের অনুরোধ করেছেন।
সীমান্ত অপরাধ, মাদকদ্রব্যের কালোবাজারি, মানব পাচার, সীমান্ত-হাট, চেক-পোস্ট, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সাংস্কৃতিক দলের আসা-যাওয়ার বিষয়গুলিও দু’পক্ষের আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বরাকের সঙ্গে রেল যোগাযোগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। শাহবাজপুর (বাংলাদেশ)-মহীশাসনে (ভারত) এখনও পুরনো মিটারগেজ রয়ে গিয়েছে। একে নতুন করে চালুর ব্যাপারে ভারতের প্রতিনিধিদের উদ্যোগী হতে বলেন তাঁরা।
বাংলাদেশের শ্রীহট্ট বিভাগের এটোয়া ও ভারতের বরাক উপত্যকার নিজ লেভারপোতায় দু’টি সীমান্ত হাট তৈরিরও প্রাথমিক কথাবার্তা হয়। হাট দু’টির কার্যকারিতা উভয় দেশ খতিয়ে দেখবে। আগামী দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দু’টি দেশই এ সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেবে বলে কাছাড়ের দুই অতিরিক্ত জেলাশাসক এম কে দাস ও এ আর শেখ জানিয়েছেন।
বিশ্বনাথন বলেন, পরবর্তী বৈঠক হবে বরাকে। সেখানে শাস্তির মেয়াদ ফুরনো বন্দিদের ফেরানোর বিষয়টিরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।