পাকিস্তানে এখনও ৩০-৪০ হাজার জঙ্গি রয়েছে যারা আফগানিস্তান ও কাশ্মীরের কিছু অংশে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। মার্কিন সফরে গিয়ে মঙ্গলবার এক সাক্ষাত্কারে এমনই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের এই পরিস্থিতির জন্য আগের সরকারগুলোকেই দায়ী করলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনও রকম আগ্রহই দেখায়নি আগের সরকার। এ ব্যাপারে তাদের কোনও রাজনৈতিক সদিচ্ছাও ছিল না।” পাশাপাশি তিনি এটাও জানান, আগের সরকার যে কাজ করেছে, তার পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না তাঁর সরকার। সন্ত্রাস দমনে তাঁর সরকার অনেক বেশি উদ্যোগী বলেও দাবি করেন ইমরান।

এর আগে ইমরান বলেছিলেন, ১৫ বছর ধরে পাকিস্তানে সক্রিয় ছিল ৪০টি জঙ্গি সংগঠন। কিন্তু এই তথ্য বার বারই আমেরিকার কাছে গোপন করেছে পূর্ববর্তী সরকারগুলো। এর পরই তাঁর সাফাই, পাকিস্তানেরও সে সেময় কিছু করার ছিল না। কেননা  গোটা পরিস্থিতি পাক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।

ইমরান বলেন, “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমেরিকা যে যুদ্ধের ডাক দিয়েছিল তাতে অংশ নিয়েছিল পাকিস্তান। তবে ৯/১১-র ঘটনায় পাকিস্তানের কোনও যোগ ছিল না।” এর পরই তাঁর মন্তব্য, সে সময় পাকিস্তানই দেশের ভিতরের সন্ত্রাসবাদ থেকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছিল। কিন্তু তার পরেও আমেরিকার সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে তারা।

পূর্বসূরিরা যে ভুল করে গিয়েছেন, সে ভুল আর করতে চান বলেও ইঙ্গিত দেন ইমরান। তাঁর দাবি, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ দমনে জোরকদমে চেষ্টা চালাচ্ছে। তালিবানদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার কাজ শুরু করেছে তারা। ভাল সাড়াও মিলেছে। তবে বিষয়টা খুব সহজেই মিটবে বলে মনে করছেন না ইমরান। শান্তি ফিরিয়ে আনতে যা যা করা প্রয়োজন তাই করবেন। শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে কী ভাবে তাঁরা এগোচ্ছেন গোটা প্রক্রিয়াটাই আমেরিকাকে জানাবে পাকিস্তান, এমনটাই দাবি ইমরানের।  তিনি আরও বলেন, “গোটা দেশ আমার সঙ্গে আছে। পাক সেনারাও সঙ্গে আছে। আমাদের সবারই একটাই মূল লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব শান্তি ফিরিয়ে আনা।”

আরও পড়ুন: নিশ্চিহ্ন করতেই পারি, কাবুলকে হুমকি ট্রাম্পের

আরও পড়ুন: কাশ্মীর প্রসঙ্গে মোদীর বিবৃতি চেয়ে জোট বিরোধীদের

এই সন্ত্রাসবাদের বিষয়কে কেন্দ্র করেই আমেরিকার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের। কিন্তু সেই দূরত্ব মিটিয়ে ফেলতে মরিয়া ইমরান।  এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খুব খারাপ লাগে এটা ভাবতে যে, আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটা অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।” কিন্তু এখন থেকে সেটা আর হতে দেবেন না বলেও জানান ইমরান। সেই সঙ্গে এটাও বলেন, “আশা করি এখন থেকে দু’দেশের মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে উঠবে, তা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার।”

হঠাত্ করে এমন ভোলবদল কেন ইমরানের? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রশ্নে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে পাকিস্তানের। এক দিকে, সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগান বন্ধ করতে এফএটিএফ-এর হুঁশিয়ারি, অন্য দিকে আন্তর্জাতিক মহল থেকে এ ব্যাপারে ক্রমাগত চাপে বেসামাল হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসবাদ দমনে এখনই ব্যবস্থা না নিলে আন্তর্জাতিক মহল থেকে আর্থিক সহযোগিতাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমেরিকার সঙ্গেও সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ততার পর্যায়ে পৌঁছেছে।  এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পাকিস্তানের এই অবস্থার জন্য পূর্বসূরিদের দিকে ইমরান দায় ঠেলে দিয়েছেন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।