জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ ও তাকে দু’ভাগ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদকে চিঠি দিয়েছিল পাকিস্তান। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এবার নিরাপত্তা পরিষদে গেল চিনও। অগস্ট মাসের জন্য পরিষদের সভাপতিত্বকারী দেশ পোল্যান্ডকে চিন চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, এই বিষয়ে তাঁরা গোপন বৈঠক চায়।
রাষ্ট্রপু্ঞ্জের তরফে পিটিআই-কে জানানো হয়েছে, ভারত-পাক সম্পর্কের গতিবিধি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চায় চিন। বেজিংয়ের আবেদনপত্রে পাকিস্তানের চিঠিটিরও উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের কূটনীতিবিদ জানাচ্ছেন, এখনই এই বৈঠকের দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


আরও পড়ুন: পাক কাশ্মীরে হামলা হলেই যুদ্ধ: ইমরান​
আরও পড়ুন: আলো নিভে যাচ্ছে, ঝাঁপ পড়ছে পরপর

রাষ্টপুঞ্জে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আবেদন জানিয়ে খুব সুবিধে পায়নি পাকিস্তান। এর পরেই বিদেশমন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশি চিঠি দেন নিরাপত্তা পরিষদে। নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি তথা পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত জোয়ানা রোনেকাকে রাষ্ট্রপুঞ্জে স্থায়ী পাক প্রতিনিধি মালেহা লোদী মারফত এই চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে রীতিমতো হুমকির সুরে বলা হয়, “আমরা কোনও দ্বন্দ্ব চাই না। কিন্তু ভারত যেন আমাদের সংযমকে দুর্বলতা না ভাবে।”

দিন কয়েক আগে কুরেশি সমর্থন আদায়ে চিনে পৌঁছন। তিনি দাবি করেন, চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানের পক্ষে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও চিনের তরফে এই মর্মে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। দুই প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্কে আগ্রহী তারা। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও পালটা ওয়ায় ই-কে বলেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। পাকিস্তানের বাস্তবটা বোঝা উচিত।
   
এই আবহে চিন নিরাপত্তা পরিষদে এই গোপন বৈঠকের দাবি জানালে একটা বিষয় পরিষ্কার, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের দাবিদাওয়াগুলিকে তারা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তাদের পূর্ব অবস্থানের বিশেষ কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না।