এইচ-১বি ভিসার নতুন আবেদনে স্থগিতাদেশ হল আমেরিকার আরও এক শহরে। সরকারি সংস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে এই মর্মে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক বছরের জন্য এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
আমেরিকার অন্যতম শহর টেক্সাস। বহু বিদেশি পড়ুয়া বা কর্মী এইচ-১বি ভিসা নিয়ে এই শহরে থাকেন। তবে নতুন করে টেক্সাসে যাওয়ার জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদনে স্থগিতাদেশ জারি করা হল। টেক্সাসের গর্ভনর গ্রেগ অ্যাবট এই নয়া নির্দেশের কথা জানিয়েছেন। কেন তিনি এই ধরনের নির্দেশ জারি করলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার রুখতে নতুন আবেদনের উপর স্থগিতাদেশ জারি করা হচ্ছে বলে জানান গ্রেগ। তাঁর নির্দেশ, অবিলম্বে নতুন এইচ-১বি ভিসা আবেদন পর্যালোচনা বা মঞ্জুর করার প্রক্রিয়া স্থগিত করতে হবে। আমেরিকায় আমেরিকানদের চাকরি নিশ্চিত করতে হবে প্রথমে। সম্প্রতি, টেক্সাসের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি কী ভাবে এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করছে, তার উপর তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন গ্রেগ। এ বার গোটা প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হল। টেক্সাসের গভর্নর জানিয়েছেন, আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত স্থগিত থাকবে এই প্রক্রিয়া।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই অভিবাসন এবং ভিসানীতিতে বড়সড় বদল এনেছিলেন। এইচ-১বি ভিসা প্রক্রিয়ায় লটারি পদ্ধতি তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তরফে জানানো হয়েছে, দক্ষতা এবং উচ্চহারের বেতনই অগ্রাধিকার পাবে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, কোনও বিদেশিকে এইচ-১বি ভিসা দেওয়ার আগে দেখা হবে তাঁর দক্ষতা এবং তিনি কত বেতন পাবেন! সেই বিচারে যাঁদের দক্ষতা এবং বেতন দুই-ই বেশি, তাঁরা আগে সুযোগ পাবেন। ট্রাম্প বার বার জোর দিয়েছেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে। এইচ-১বি ভিসার নিয়মে বদল এনে আমেরিকানদের নিজের দেশে কাজের সুযোগ এবং পরিবেশ আরও সুরক্ষিত করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। সেই বিষয় উল্লেখ করে টেক্সাসের গভর্নর নয়া নির্দেশের কথা জানালেন।
আরও পড়ুন:
গ্রেগের মতে, টেক্সাসের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে শহরের মানুষকে দায়িত্ব নিতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে কী অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত, তার উদাহরণ তৈরি করবে টেক্সাস। তিনি মনে করেন, যোগ্য মার্কিন কর্মীরা নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এইচ-১বি ভিসা প্রক্রিয়ায় অনেক সংস্থাই অভিবাসী কর্মীদের নিয়োগ করে থাকে, যা আদতে আমেরিকার জন্য ক্ষতিকর।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিসার নয়া নিয়ম চালু করছে মার্কিন প্রশাসন। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এইচ-১বি ভিসার নথিভুক্তকরণের সময় তা প্রযোজ্য করতে চাইছে তারা। বর্তমানে বছরে ৬৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়।