ফেসবুকে এখনও রয়ে গিয়েছে নিউজ়িল্যান্ডের মসজিদে ৫০ জন নিরীহ মুসলিমকে হত্যার একাধিক ভিডিয়ো ক্লিপিংস। 

গত ১৫ মার্চ নিউজ়িল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের একটি মসজিদে প্রার্থনা চলাকালীন সন্ত্রাসবাদীর গুলিতে নিহত হন ৫০ জন। গোটা হত্যাপর্বের ফেসবুক-লাইভ করেছিল অস্ট্রেলীয় জঙ্গি। ১৭ মিনিটের সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনার পরে 

লাইভস্ট্রিমিং নিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়েছিল ফেসবুক। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিয়ো ও তার অংশবিশেষ ফেসবুক থেকে মুছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সংস্থাও জানিয়েছিল, ভিডিয়োগুলি তাদের নীতিবিরুদ্ধ। তাই অবিলম্বে মুছে দেওয়া হবে। কিন্তু ঘটনার এক মাস পরেও ভিডিয়োটির অংশবিশেষ ঘুরছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায়। 

শুক্রবার এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ‘‘বিশ্বের সব চেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কে ওই নৃশংস ভিডিয়োর একাধিক ক্লিপিংস রয়েছে!’’ ক্লিপিংসগুলি বেশির ভাগই এক থেকে দেড় মিনিটের। যে কেউ দেখতে পারেন। একটি ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, ওই শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি মসজিদে ঢুকল এবং তার পর গুলি চালাতে শুরু করল। এমনও একটি ভিডিয়ো পাওয়া গিয়েছে, যাতে আলাদা করে চিহ্নিত করা, ‘‘নৃশংস দৃশ্য রয়েছে।’’ কিন্তু এই সতর্কবার্তা সত্ত্বেও কেন ফেসবুক থেকে মুছে ফেলা হয়নি ভিডিয়োটি, সেই প্রশ্ন উঠেছে। ফেসবুকের মুখপাত্র অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘ভিডিয়োগুলি আমাদের নীতি-বিরুদ্ধ। সব ভিডিয়ো মুছে দেওয়া হয়েছে।’’ 

১৫ মার্চের ওই শ্বেত সন্ত্রাসের মূল ভিডিয়োটি মুছে ফেলার আগেই ৪ হাজার বার দেখা হয়েছিল। ফেসবুক থেকে পরে ভিডিয়োটির অংশবিশেষ ছড়িয়ে পড়ে টুইটার, ইউটিউবেও। লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিডিয়োগুলি দেখেন। এ ঘটনার পরে ফেসবুক লাইভ নিয়ে কড়া হবে বলে 

জানিয়েছিল ফেসবুক। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জ়াকারবার্গ বিষয়টিকে হাল্কা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনও প্রতিশ্রুতি-ই যে রাখেনি ফেসবুক, তা বর্তমান রিপোর্টে স্পষ্ট। এ মাসের গোড়াতেই 

নিউজ়িল্যান্ডের প্রাইভেসি কমিশনার জন এডওয়ার্ড বলেন, ফেসবুক ‘নীতিগত ভাবে ফাঁপা ও মিথ্যেবাদী’।