শপিং মলের বাইরে খোলা চাকু নিয়ে এলোপাথাড়ি চালিয়ে দিচ্ছে এক যুবক। পাশে জ্বলছে একটি গাড়ি। পুলিশ হোক বা আমজনতা— সামনে যাকে পাচ্ছে, তাকেই ছুরি দিয়ে হামলার চেষ্টা। নিরাপত্তারক্ষীরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে নিরস্ত্র করতে পারছেন না।

ভয়ঙ্কর এই দৃশ্যের মাঝেই আবির্ভাব বছর ছেচল্লিশের এক ব্যক্তির। শপিং ট্রলি নিয়েই ওই আততায়ীর উপর পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করলেন তিনি।

মেলবোর্নের সন্ত্রাসবাদী হামলায় মাইকেল রজার্স নামে ওই ব্যক্তির লড়াইয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই কার্যত বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই ‘ট্রলিম্যান’ নামে এক ডাকে চিনে ফেলেছে গোটা অস্ট্রেলিয়া। তাঁর জন্যই এ বার উদারহস্ত অস্ট্রেলীয়রা। গৃহহীন মানুষটির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহায্যের আবেদন করতেই উপচে পড়ছে ঝুলি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘গোফান্ডমি’ নামে একটি তহবিল খুলে সাহায্যের আর্জি জানানো হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত সেই তহবিলের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ টাকা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ওই তহবিলে জমা পড়েছে ভারতীয় মূদ্রায় ৫২ লক্ষ টাকারও বেশি, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। অনুদান দিয়েছেন ৩ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি।

আরও পডু়ন: তাড়া করেছে বাঘ, জঙ্গলে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটছে হুডখোলা গাড়ি, তার পর...

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমে রজার্স বলেছেন, ‘‘আমি খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। সামনে একটা শপিং ট্রলি দেখতে পেয়ে ওটাই ছুড়ে মারি ওই আততায়ীর গায়ে। এ ভাবে কয়েক বার ছুড়ে মারার পরেও যদিও তাকে কাবু করতে পারিনি।’’ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ওই সময়ের ভিডিয়ো তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। তার পরেই সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে যায়। এখন অস্ট্রেলীয়দের কাছে সাহায্য পেয়ে মাথার উপরে ছাদটুকু তৈরি করতে পারবেন বলে আশা তাঁর। 

অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য। পুলিশ কর্তাদের বক্তব্য, মাইকেল রজার্স ওই ভাবে ঝাঁপিয়ে না পড়লে আরও অনেকের প্রাণহানি হতে পারত।

আরও পডু়ন: শুধু কাঁদার জন্য ‘সুদর্শন’ পুরুষকে টাকা দিয়ে ডেকে আনছেন জাপানি মেয়েরা!

শুক্রবার মেলবোর্নে ছুরি নিয়ে হামলা চালায় হাসান খলিফ শিরে আলি নামে সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গি। জন্মসূত্রে সোমালিয়ার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘ দিন অস্ট্রেলিয়াতেই ছিলেন। হামলার পর পুলিশ গুলি চালিয়ে তাকে কাবু করে। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই যুবকের। যদিও তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, সরাসরি আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ ছিল না। তবে আইএস-এর মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিল এবং সম্প্রতি সিরিয়ার যাওয়ার পরিকল্পনাও নিয়েছিল সে।
তবে শুক্রবারের এই জঙ্গি হামলায় চিন্তায় পড়েছে প্রশাসন। দেশের প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন সোমবার সব ইমামদের কট্টরপন্থা রুখতে বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘ওই জঙ্গি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই কট্টরপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিল।’’ যদিও হাসানের পরিবারের দাবি, সে মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিল। মরিসন সে দাবি উড়িয়ে জানান, মানসিক সমস্যাটা কোনও অজুহাত নয়। লোকটি কট্টরপন্থায় বিশ্বাস করত বলেই ছুরি নিয়ে পথে নেমেছিল। তাই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘আমি জানি, পরিশ্রমী সংখ্যাগুরু অস্ট্রেলীয় মুসলিমরা এমন নন। কিন্তু কিছু লোক নিজেদের সম্প্রদায়ের ঐক্য নষ্ট করতে চায়। তাই ইমামদের সতর্ক থাকতে হবে।’’
 

সারা বিশ্বের সেরা সব খবর বাংলায় পড়তে চোখ রাখতে পড়ুন আমাদের আন্তর্জাতিক বিভাগে।