রাস্তার মাঝে বন্দুক উঁচিয়ে দাঁড় করানো হল বাস। কয়েকজন উঠে এলো বাসের মধ্যে। কে মালালা? উত্তর দিতেই স্কুলছাত্রী কিশোরীর দিকে স্বয়ংক্রিয়রাইফেল থেকে উড়ে এল ঝাঁকে ঝাঁকে বুলেট। মালালা ইফসুফজাইয়ের উপর গুলি চালানো পাক তালিবান জঙ্গি রেডিও মোল্লাকেই এবার ড্রোন হানায় খতম করল মার্কিন সেনা। এক মার্কিন সেনা আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এখবর জানিয়েছে ভয়েস অব আমেরিকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন সেনা অফিসার জানিয়েছেন, গত বুধবার ফইজুল্লা ওরফে মোল্লা রেডিওকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়। সেই অভিযানেই মৃত্যু হয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান প্রধান মোল্লা রেডিওর। যদিও আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন সেনার কর্নেল মার্টিন ও’ডোনেল ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, ‘‘১৩ জুন পাক-আফগান সীমান্তে আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে একটি শীর্ষ জঙ্গি সংগঠনের এক নেতাকে টার্গেট করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।’’ তিনি অবশ্য মোল্লা রেডিও বা তেহরিক-ই-তালিবানের নাম করেননি।

এর আগেও একাধিকবার মোল্লা রেডিওর মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত চারবার মার্কিন ড্রোন হানায় তার মৃত্যুর খবর রটেছে। কিন্তু ফের তার অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে। মোল্লা রেডিওর সংগঠনের পক্ষ থেকেএবারও এ সংক্রান্ত কোনও বিবৃতিও এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

আরও খবর: ডিনারে স্যালাড! পুলিশ ডাকল বালিকা 

আরও খবর: ‘বাবা আমার চোখ কই’, ভিডিয়োয় উত্তাল নেট-দুনিয়া

পাকিস্তানের সোয়াট উপত্যকার কিশোরী মালালা ইউসুফজাই তালিবানি ফতোয়া উপেক্ষা করেই স্কুলে যেত। শুধু নিজেই নয়, তার বয়সী অন্য মেয়েদেরও স্কুলে যেতে উদ্বুদ্ধ করত। তার জেরে ২০১২ সালে এই মোল্লা রেডিও ওরফে ফইজুল্লাই মালালাকে খুনের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। বাস থামিয়ে মালালার মাথায় গুলি করে এই মোল্লা রেডিওই। যদিও ব্রিটেনে চিকিৎসা করে বরাতজোরে বেঁচে যান মালালা। পরে ২০১৪ সালেনোবেলে শান্তি পুরস্কার পান মালালা।

মালালাকে খুনের চেষ্টা এবং ২০১৪ সালে পাক পেশোয়ারে সেনাবাহিনীর স্কুলে হামলার মাস্টারমাইন্ডও ছিল এই মোল্লা রেডিও। ওই হামলায় ১৩০ শিশু-সহ ১৫১ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও বহু সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মাথা হিসাবে বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে তার নাম। এ হেন মোল্লা রেডিওর মৃত্যুর খবরে উচ্ছ্বসিত মার্কিন সেনা। সেই সঙ্গেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল ভারতীয় উপমহাদেশ।