কুলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকবে নাকি তা খারিজ করা হবে, সে ব্যাপারে আজ, বুধবার রায় দেবে আন্তর্জাতিক আদালত। গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের অভিযোগে ভারতীয় নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার কুলভূষণকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল পাকিস্তানের সামরিক আদালত। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক আদালতে যায় ভারত। কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড মকুবের আর্জি জানিয়ে।

বুধবার দ্য হেগের ‘পিস প্যালেসে’ ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ওই রায় ঘোষণা করবেন ১০ বিচারপতিকে নিয়ে গড়া আন্তর্জাতিক আদালতের প্রধান বিচারপতি আবদুল কাওয়াই আহমেদ ইউসুফ।

ইরান থেকে পাকিস্তানে ঢোকার পর গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের অভিযোগে ২০১৬-এর ৩ মার্চ বালুচিস্তান প্রদেশ থেকে কুলভূষণকে গ্রেফতার করে পাক নিরাপত্তা বাহিনী। তার পর ২০১৭-র এপ্রিলে কুলভূষণকে মৃত্যুদণ্ড দেয় পাক সামরিক আদালত।

কুলভূষণ যাদব সম্পর্কে এই তথ্যগুলি জানেন তো?

ওই সময় ভারতের তরফে জানানো হয়, নৌবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর ইরানে ব্যবসায়িক কাজে গিয়েছিলেন কুলভূষণ। সেখান থেকে তাঁকে অপহরণ করা হয়। রায় ঘোষণা পর্যন্ত কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে স্থগিতাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক আদালতের ১০ সদস্যের বেঞ্চ।

আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের আরও অভিযোগ ছিল, ৪৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা অফিসার কুলভূষণের সঙ্গে পাকিস্তানে ভারতীয় হাইকমিশনের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না (কনস্যুলার অ্যাক্সেস)।

কুলভূষণকে কনস্যুলার অ্যাক্সেস না দিলেও পাকিস্তান ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর ইসলামাবাদে তাঁর স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে ওই অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা অফিসারের সাক্ষাতের সুযোগ করে দেয়।পরে যদিও ভারতের তরফে অভিযোগ করা হয়, কুলভূষণকে ‘গুপ্তচর’ প্রমাণ করানোর জন্যেই পাকিস্তানের সেটা একটা কৌশল ছিল।

আরও পড়ুন- কুলভূষণ মামলার শুনানি মুলুতুবির পাক আর্জি খারিজ আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে​

আরও পড়ুন- ট্রাম্পে বিভ্রান্ত হবেন না! বার্তা দিচ্ছে ‘স্কোয়াড’​

ভারতের অভিযোগ ছিল, এই ভাবেই ভিয়েনা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে ইসলামাবাদ। পাক সামরিক আদালতের ওই রায়কে ভারতের তরফে আন্তর্জাতিক আদালতে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ বলে অভিযোগ করা হয়। পাকিস্তান ভারতের সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। বলে, কুলভূষণের মতো ‘গুপ্তচর’ দিয়েই ভারত পাকিস্তানের গোপন খবরাখবর সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল।

এই মামলায় ভারতের পক্ষে আইনজীবী হরিশ সালভে পাকিস্তানের সামরিক আদালতের কার্যকলাপ নিয়েও আন্তর্জাতিক আদালতে প্রশ্ন তোলেন। তারই প্রেক্ষিতে তিনি যাদবকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ খারিজ করার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে আর্জি জানান। অন্য দিকে, পাকিস্তানের আইনজীবী খায়র কুরেশি আন্তর্জাতিক আদালতকে ভারতের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করার অনুরোধ করেন।