• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আইকিউ ১৫২! আট বছরেই ব্রিটেনের ‘স্মার্টেস্ট বয়’ এই ভারতীয় খুদে

Arav Ajay Kumar
আরব অজয়কুমার।

Advertisement

বয়স আট। এই বয়সেই সে ব্রিটেনের স্মার্টেস্ট বয়। কারণ, আট বছর বয়সে তার আইকিউ ১৫২! যখন তার বয়স ছিল চার, মেনসা ইন্টারন্যাশনাল আইকিউ টেস্টে সে বসে। তখনই দেখা গিয়েছিল ওই খুদের আইকিউ ১৫২।

খুদের নাম আরব অজয়কুমার। ২০০৯ সালে আরবের মা-বাবা মুম্বই ছেড়ে ব্রিটেনের লিসেস্টারে পাকাপাকি ভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। লিসেস্টারেই জন্ম হয় আরবের। মাত্র দু’বছর বয়সেই ১ হাজার অবধি অনায়াসে গুনে ফেলত ছোট্ট আরব। প্রাইমারি ম্যাথমেটিক্স টেস্টে আরব তার স্কুলের হয়ে সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে এসেছিল। ওই পরীক্ষার আয়োজক ব্রিটেনের ম্যাথমেটিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। এই টেস্টের জন্য স্বর্ণপদকও পেয়ে গিয়েছে সে।

আট বছরের আরবের কথায়, ‘‘অঙ্ক আমার খুব পছন্দের। কারণ এখানে একটাই সঠিক উত্তর হয়। মেনসা টেস্টে বসার সময়ে আমি খুবই নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরীক্ষার সময় বুঝে গেলাম, বিষয়টা এমন কিছুই কঠিন নয়। আর ফল দেখার পর তো আমি খুবই খুশি হয়ে গিয়েছিলাম।’’

সার্টিফিকেট হাতে ছোট্ট আরব।

অঙ্ক ছাড়া আর কী ভাল লাগে? আরবের সোজা উত্তর, ‘‘দাবা খেলতে আমার খুবই ভাল লাগে। কখনও সখনও মোটরবাইকও চালাই। তবে, আমি দাবার গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চাই।’’ লেইসেস্টারশেয়ারের অনূর্ধ্ব ৯ দাবা দলে নিয়মিত দাবাও খেলে ছোট্ট আরব।

মাত্র আট বছর বয়সেই অঙ্কে এতটা তুখড় হওয়া যায় কী করে? ‘‘আমি প্রচুর অঙ্ক অনুশীলন করি।’’ দাবাতেও এত সাফল্য কী ভাবে? আরবের কথায়, ‘‘উল্টো দিকে যিনি আছেন, তিনি কেন এই চালটা চাললেন— এটা বুঝে গেলেই দাবা খেলাটা সহজ হয়ে যায়।’’ তবে শুধু দাবা নয়, ক্রিকেটেও ঝোঁক রয়েছে ওই একরত্তির।

মুম্বইয়ের আন্ধেরির অ্যাডভান্সড রেডিওলজিস্ট সেন্টারে রেডিওলজিস্টের কাজ করতেন আরবের মা বর্ষা অজয় কুমার। স্বামীর বদলির কারণে ব্রিটেনে চলে চলে যেতে হয় তাঁকে। বর্ষার স্বামী অর্থাৎ অজয় কুমার মালিয়াক্কাল ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিসের রেডিওলোজিস্ট কনসালট্যান্ট হিসাবে কাজ করেন। বর্ষার কথায়, ‘‘চার বছর বয়সে কখনও স্কুল থেকে এই মেনসা টেস্টের জন্য বাছা হয় না। পাঁচ বা ছয় বছর হলেই তবে এই পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু আরবকে যখন ওর স্কুল থেকে বাছা হল, আমরাও তখন অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ওর রেজাল্ট দেখে তো আমরা সকলে রীতিমতো চমকেই গিয়েছিলাম!’’

মায়ের সঙ্গে ছোট্ট আরব।

পাজল সমাধান করতেও খুব ভালবাসে আরব। বলিউড সিনেমা, ভিডিয়ো গেমও রয়েছে তার পছন্দের তালিকায়। আরবের মায়ের কথায়, ‘‘১৫-১৭ মাস থেকেই অঙ্কের প্রতি তীব্র ঝোঁক ওর। সংখ্যাতত্ত্ব বিষয়টাই আসলে ওর খুব পছন্দের। ওই বয়স থেকেই সংখ্যা গুনতে শুরু করে দিয়েছিল। ১৭ মাস বয়সে ও ২০ অবধি গুনে ফেলত। প্রি-স্কুল নার্সারিতে যখন আরব ভর্তি হল, তখন সবাই সংখ্যা গণনা শিখছে, আর ও তখন ১০০০ অবধি গড়গড় করে বলে দিচ্ছে। ওর স্কুলের এক শিক্ষকই আমাদের আরবের ব্যাপারে এক জন এডুকেশনাল সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলতে বলেছিলেন।’’

ব্রিটেনের সলিহালে পিটার কঙ্গডন নামে এক সাইকোলজিস্ট আরবের মেনসা টেস্টটি করেছিলেন। রিপোর্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘চার বছর বয়সেই আরবের পড়ার ক্ষমতা এক জন আট বছরের বাচ্চার মতো ছিল। অঙ্ক কর ১০ বছরের বাচ্চার মতো।’’

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন