মোটামুটি শান্তিপূর্ণ দেশ নিউজ়িল্যান্ড। বাসিন্দারা মনে করতে পারেন না শেষ কবে হিংসা, অশান্তি দেখেছেন। সেই ছবিটাকেই ভেঙে দিল ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে হামলা। 

এ দিন দুপুরে ওই মসজিদ দু’টির একটিতেই ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফয়জল সৈয়দ। গত দশ বছর ধরে নিউজ়িল্যান্ডের বাসিন্দা। শুক্রবারের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে ফয়জলকে। তাঁর এক বন্ধু মারা গিয়েছে এ দিনের ঘটনায়। অন্য জন হাসপাতালে ভর্তি। তবে এত সব কিছুর মধ্যেই সে সময়ে মসজিদে থাকা এক ব্যক্তিকে কিছুতেই ভুলতে পারছেন না ফয়জল। আজ সকালে তিনি না থাকলে হয়তো নিহতের সংখ্যাটা আরও অনেকটাই বাড়তে পারত বলে জানান ফয়জল। 

ছোট্ট মসজিদে তখন অসংখ্য মানুষের ভিড়। তার মধ্যেই গুলি চালাতে চালাতে ছুটে এল বন্দুকবাজ। নিজের হৃদস্পন্দন সে সময় নিজের কানেই শুনতে পাচ্ছিলেন ফয়জল। হঠাৎই আটক বন্দিদের মধ্যে থেকেই এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ছুটে গিয়ে ওই বন্দুকবাজকে জাপটে ধরেন। তত ক্ষণ পর্যন্ত চেপে রেখেছিলেন, যত ক্ষণ না বন্দুক নামাতে বাধ্য হয় বন্দুকবাজ। ফয়জল জানান, ওই মানুষটি সাহস না দেখালে হয়তো তিনিও বেঁচে থাকতেন না। মানুষটিকে তিনি খুঁজে বার করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান ফয়জল।

আশার বাণী: মুছে গেল দেশ-ধর্মের বেড়া। নিউজ়িল্যান্ডে নিহতদের স্মরণে সিডনির লাকেম্বা মসজিদে শুক্রবারের সান্ধ্য নমাজে জমায়েত হন হাজারেরও বেশি ইসলাম ধর্মাবলম্বী। বুঝিয়ে দেন, ভয় পাননি তাঁরা। ব্রিটেনে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ। বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করছে লন্ডনের সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল।

তবে এর পরেও নিউ‌জ়িল্যান্ডের প্রতি কোনও রকম খারাপ লাগা বা রাগ নেই ফয়জলের। এখনও এ দেশটাকেই অন্যতম সুরক্ষিত জায়গা বলে মনে করেন তিনি। এ দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চান না। 

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

নিউজ়িল্যান্ডে এ দিনের ঘটনায় আহমেদ ইকবাল জাহাঙ্গির নামে আর এক ভারতীয় যুবকের গুলি লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। হায়দরাবাদে তাঁর ভাই খুরশিদ জাহাঙ্গির থাকেন।

অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার বিভিন্ন মসজিদে জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। 

ইকবালকে দেখতে নিউজ়িল্যান্ডে যেতে চান খুরশিদ ও তাঁর পরিবার। আর সেই আবেদনই টুইটারের মাধ্যমে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছে পৌঁছে দেন অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএমের) প্রেসিডেন্ট আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। জাহাঙ্গিরের গুলি লাগার একটি ভিডিয়োও টুইটারে আপলোড করেন আসাদুদ্দিন। ফারহাজ এহসান নামে আর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূতেরও গুলি লেগেছে বলে টুইট করেন আসাদুদ্দিন। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, এ দিনের ঘটনার পরে খোঁজ নেই নিউজ়িল্যান্ডে বসবাসকারী ৯ ভারতীয় বংশোদ্ভূতের।  এ দিনের হামলার কড়া নিন্দা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।