আমাদের সাজনীতি অনেকটাই উৎসব বা অনুষ্ঠান নির্ভর। কী ভাবে, কেমন করে এই রীতি রেওয়াজ চলে এসেছে, তার গভীরে না গিয়েও এইটুকু বলা যেতেই পারে, ছেলেবেলা থেকে দেখতে দেখতে, মা-ঠাকুরমাদের কথা শুনতে শুনতে, নিজেদের অজান্তেই মজ্জায় মজ্জায় মিশে যায় এই নির্ভরতা। আর ফ্যাশনের রীতিনীতির কথা যদি বলি, তা হলে “কোথায় যাচ্ছ” পোশাক নির্বাচনের অন্যতম জরুরি নির্ধারক তো বটেই।
আমাদের জীবনের নানা উৎসবের নানা রং। সেই রঙের সঙ্গে মিলিয়েই নিজেকে সাজিয়ে তুলতে হবে। তবেই তো জীবন সুরে, তালে, ছন্দে বয়ে চলবে। সামনেই নতুন বছর। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে, এই বিশেষ দিনটিতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব সবাই মিলে আনন্দে মেতে উঠতে নানা আয়োজন। খাওয়াদাওয়া, আতিথেয়তা, হালখাতার নিমন্ত্রণ রক্ষা আর অবশ্যই নতুন জামাকাপড়। নিজের জন্য, উপহারের জন্য।
পুজো-পার্বণ, উৎসব, অনুষ্ঠানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরা সাজগোজ করে থাকি। — নিজস্ব চিত্র
ছোটবেলায় নববর্ষের আমার অন্যতম আকর্ষণ ছিল হালখাতার নেমন্তন্নে যাওয়া। কারণ, বড়দের সঙ্গে আমাকেও সমাদরে সেই সময়ের বিখ্যাত জুসলা কোম্পানির পাইন্যাপল কোল্ড ড্রিঙ্ক দেওয়া হত। আর অবশ্যই মন পড়ে থাকত নতুন জামা, পরবর্তী কালে নতুন শাড়ির দিকে।
মন পড়ে থাকত নতুন জামা, পরবর্তী কালে নতুন শাড়ির দিকে। — নিজস্ব চিত্র
হ্যাঁ, যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম। পুজো-পার্বণ, উৎসব, অনুষ্ঠানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরা সাজগোজ করে থাকি। সরস্বতী পুজো মানেই বাসন্তী-হলুদ শাড়ি, বিয়েবাড়ি মানেই বেনারসি, দুর্গাপুজো চার দিনের, তাই কেতা-কায়দার অঢেল সুযোগ। তবুও ষষ্ঠীর সকালে তাঁতের শাড়ির দিকেই মন টানে। নববর্ষেও ঠিক তাই। ডুরে, চেক, একরঙা— যেমনই হোক না কেন, পাটভাঙা নতুন তাঁতের শাড়ির গন্ধ আর সামান্য খসখসানিতেই তো বছর শুরুর আমেজ! সাদা-লাল হলে তো কথাই নেই। সরু, চিকন পাড়, ভিতরে চিঁড়ে-বুটি টাঙ্গাইল শাড়ি একেবারে একশোয় একশো। কিংবা টুকটুকে লাল শাড়িতে জুটের বোনা পাড়। তা ছাড়াও নিজস্ব পছন্দের রঙের শাড়ির সঙ্গে প্রিন্টেড ব্লাউজ় দিয়ে দিব্যি সুন্দর সেজে ফেলা যায় নববর্ষের সকালে।
উৎসবের নানা রঙের সঙ্গে মিলিয়েই নিজেকে সাজিয়ে তুলতে হবে। — নিজস্ব চিত্র
আমাদের বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আমাদের দেশজ ঐতিহ্যই তো সেরা।
(মডেল: দিশা, ছবি: সোমনাথ রায়, ভাবনা ও পরিকল্পনা: শর্মিলা বসু ঠাকুর)