ওষুধ নয়,পথ্যের উপরে বেশি জোর দিতেই বলা হচ্ছে। এটিই এখনকার নতুন ধারা। বিশ্বজোড়া নাম ‘ফুড অ্যাজ় মেডিসিন’ (এফএএম)। শরীর সুস্থ রাখতে ওষুধের উপর নয়, সঠিক খাবারের উপরেই নির্ভর করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বাঙালি ঘরে অবশ্য এই ধারা বহুকাল থেকেই প্রচলিত। সর্দি-কাশি সারাতে আদা দিয়ে চা, জ্বরের সময়ে অরুচি কাটাতে সব্জি দিয়ে খিচুড়ি, দই-ভাত বা চিকেন স্যুপ খাওয়ানোর টোটকা মা-ঠাকুরমাদের জানা। এই টোটকাই এখন আয়ত্ত করা হচ্ছে। গরম পড়ছে। এই সময়ে ঘরে ঘরে জ্বর লেগেই থাকবে। তার জন্য ওষুধ খেলেও, খাবারও ঠিকমতো খেতে হবে। ছোটদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য তাদের পথ্য ঠিক কেমন হবে, বাবা-মায়েদের জন্য রইল কিছু পরামর্শ।
শিশুর বয়স ৬ মাস থকে ২ বছর হলে, পাতলা খিচুড়ি খাওয়ানোই ভাল। চাল ও ডাল অনেক ক্ষণ ধরে ফুটিয়ে একদম নরম বা গলা খিচুড়ি দিন। এতে সব্জি দিলেও তা যেন ভাল করে সেদ্ধ করা হয়। সব্জি ও চিকেন দিয়ে স্যুপ খাওয়ানোও যেতে পারে। তা-ও হজমে সহায়ক হবে। জ্বরের সময়ে শরীরে জের ঘাটতি বেশি হয়, তাই এই সময়ে আপেল সেদ্ধ ও টাটকা ফলের রস সময়ান্তরে খাওয়াতে হবে।
শিশুর বয়স ২ থেকে ৫ বছর হলে, রোজের পাতে ডিম সেদ্ধ রাখতে হবে। সাবুদানার খিচুড়ি ও ওট্সের খিচুড়ি বানিয়ে দিতে পারেন। ডাবের জল, নুন-চিনির শরবত বা ফলের রস ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খাওয়াতে হবে।
শিশুর বয়স পাঁচ বছরের বেশি হলে ঝাল ও মশলা দেওয়া খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। বাড়িতে তৈরি হালকা খাবারই খাওয়াতে হবে শিশুকে। চিকেন স্যান্ডউইচ দিতে পারেন। আর চিকেন স্টু বানালে তাতে আনাজ ও মাখন যোগ করুন। এ ছাড়া কর্ন দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন সুইটকর্ন চিকেন স্যুপ। স্বাদবদল করতে শিশুর জন্য বানিয়ে ফেলতে পারেন আলুকাবলি, কিংবা দই দিয়ে ছোলার চাট।
জ্বরের সময়ে দুধ-চিনি দেওয়া চা বা কফি খেলে শরীরে ক্যাফিনের মাত্রা বাড়বে। এতে প্রদাহ তৈরি হবে। ছোটদের এই সময়ে দারচিনি বা তুলসীর চা বানিয়ে দিতে পারেন। একটি পাত্রে জল গরম করে তাতে তুলসী পাতা ফুটিয়ে নিন। তার পর মধু ও লেবু মিশিয়ে নিলেই তৈরি তুলসী চা। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।
কী কী খাওয়াবেন না
ফ্রিজে রেখে দেওয়া পাউরুটি, বাসি খাবার শিশুকে দেবেন না। চিপ্স, সসেজ, সালামি, জাঙ্ক ফুড, যে কোনও প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া চলবে না। অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার, যেমন, নরম পানীয়, চকোলেট, আইসক্রিম একেবারেই খাওয়ানো চলবে না।