ওজন কমাতে কাঁচা স্যালাড নয়। শুধু সেদ্ধ সব্জিও নয়। ভাপানো খাবার খেয়ে ওজন কমানোর নতুন চল হয়েছে এখন। স্বাস্থ্যসচেতনদের খাদ্য তালিকায় ভাপানো খাবারই পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে। কম তেলে বা একেবারে তেল ছাড়া ভাপিয়ে রান্না খাবারে পুষ্টিগণ বজায় থাকে এবং তা খেলে ওজন কমবে বলেই ধারণা। তাই সকালের জলখাবারে পরোটা বা লুচি ছেড়ে এখন দোসা বা ইডলি খাওয়ার চল হয়েছে বাঙালি বাড়িতেও। তবে যদি শুধু দক্ষিণী খাবারে রুচি না থাকে, তা হলে মেঘালয়ের কিছু ভাপানো খাবার খেয়ে দেখতে পারেন।
পুথারো
চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি নরম কেক। অনেকটা ভাপানো পিঠের মতো। এটি বানাতে প্রয়োজন আতপ চালের গুঁড়ো, গুড়, সামান্য নুন এবং নারকেলকোরা। চালের গুঁড়ো সামান্য গরম জল দিয়ে মেখে একটা মণ্ড তৈরি করুন। এর মধ্যে গুড় ও নারকেলকোরা মিশিয়ে ছোট ছোট গোল চ্যাপ্টা আকার দিন। ইডলি মেকার বা মোমো স্টিমারে দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ভাপিয়ে নিন। চায়ের সঙ্গে খাওয়া যাবে এই পিঠে।
ভাপানো খাবারে ওজন কমবে। ছবি: সংগৃহীত।
আরও পড়ুন:
পুমালোই
মেঘালয়ের খাসি সম্প্রদায়ের ভাপানো খাবার পুমালোই। যা সাধারণত গুঁড়ো চাল বা লাল চাল দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি তৈরির জন্য চালের গুঁড়ো সারা রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। এর পর জল ঝরিয়ে চালটি মিক্সিতে বা হামানদিস্তায় গুঁড়ো করে নিন। খুব মিহি করে গুঁড়ো করার প্রয়োজন নেই। চালের গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য নুন দিয়ে অল্প জল ছিটিয়ে শুকনো করে মেখে নিতে হবে। মিশ্রণটি এমন হবে, যেন হাত দিয়ে চাপ দিলে দলা পাকিয়ে যায়। বাঁশের স্টিমারে এটি ভাপানো হয়। বাড়িতে ইডলি মেকারে বা ছোট বাটি ব্যবহার করতে পারেন। বাটিতে আলতো করে চালের গুঁড়োর মিশ্রণটি ভরে দিন। খুব বেশি চাপ দেবেন না, তা হলে পিঠে শক্ত হয়ে যাবে। স্টিমারে জল ফুটিয়ে বাটিগুলি বসিয়ে দিন। উপর থেকে ঢাকা দিয়ে ১৫-২০ মিনিট মাঝারি আঁচে ভাপিয়ে নিন।
পুমালোই। ছবি: সংগৃহীত।
জাদোহ
মাংস ও চাল দিয়ে তৈরি পোলাও জাদোহ মেঘালয়ের ঐতিহ্যবাহি খাবার। তবে মাংস ছাড়াও রাঁধা যায়। সে ক্ষেত্রে পেঁয়াজ, লঙ্কা দিয়ে তৈরি করতে হয়। আতপ চাল ধুয়ে নিয়ে আদাবাটা, নুন, পেঁয়াজ ও লঙ্কা বাটা দিয়ে হালকা মেখে নিতে হবে। এর পর সরাসরি সেদ্ধ না করে মোমো মেকার বা স্টিমারে একটি সুতির কাপড় পেতে তার উপর চালগুলি ছড়িয়ে দিন। ভাপে চাল সেদ্ধ হয়ে যখন ঝরঝরে হয়ে যাবে, তখন নামিয়ে নিন।