পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষের আঁচ এসে পড়ল পশ্চিমবঙ্গের হেঁশেলেও। আমেরিকা ও ইজ়রায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধপরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে, যার ফলে এলপিজি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, কোথাও কোথাও বেশি দামেও কিনতে হচ্ছে গ্যাস। আচমকাই টান পড়েছে ভারতের রান্নার গ্যাসের জোগানে। ফলে বিকল্পের কথা ভাবা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। বহু হোটেল, হস্টেল ও কমিউনিটি কিচেন এখন দুশ্চিন্তায়। চিন্তা শুরু হয়েছে গৃহস্থবাড়িতেও। আগামী দিনে যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তা হলে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের উপরই ভরসা রাখতে হবে বলে আশঙ্কা চারদিকে। গ্যাস ফুরোলে ভরা সিলিন্ডার মিলবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বৈদ্যুতিক যন্ত্র বা গ্যাজেট নিয়ে নানা ধরনের ভয় রয়েছে গৃহস্থের। বিদ্যুতের খরচ থেকে শুরু করে যন্ত্র কেনার খরচ নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন উঠছে। তবে রান্নার জন্য আসলে কোনটি সস্তা, তা কি আদপে স্পষ্ট সকলের কাছে?
ভারতের রান্নার গ্যাসের জোগানে টান। ছবি: সংগৃহীত
ইনডাকশন বেশি দামি ভেবে অনেকেই সে পথে হাঁটেন না। কিন্তু বাস্তবটা কেমন? কোনটি বেশি সস্তা, বেশি দামি কোনটি, কোনটি বেশি সুবিধাজনক, এলপিজি না কি ইনডাকশন?
১. অনেকের ধারণা, গ্যাসে রান্না করা সস্তা। কিন্তু গ্যাসের আগুনে রান্না করার সময় মোট তাপশক্তির প্রায় ৬০ শতাংশ আশপাশের বাতাসে মিশে নষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ যতটা জ্বালানির দাম দিচ্ছেন, তার মাত্র প্রায় ৪০ শতাংশ শক্তিই আসলে রান্নার কাজে লাগে। বাকিটা নষ্ট হয় বললে অত্যুক্তি হবে না।
২. এখন একটি সাধারণ ১৪.২ কেজি ওজনের অ-ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৯০০ টাকার উপরে। অন্য দিকে একটা ইনডাকশন কিনতে এখন একবারে খানিক খরচ করে নিলেই হয়। দু’হাজারেও যেমন পাবেন, তেমনই ৩০ হাজারেও পাবেন। নিজেদের সুবিধা মতো ইনডাকশন কিনে নিলেই হল। হিসেব বলছে, একটি সম্পূর্ণ এলপিজি সিলিন্ডার যে পরিমাণ কার্যকর তাপ দেয়, সেই একই তাপ পেতে ইনডাকশনে প্রায় ৭৮ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগতে পারে। মাসের হিসেব করলে সেই অঙ্কটি গ্যাস সিলিন্ডারের থেকে কম বই বেশি নয়।
৩. গ্যাসের বার্নারে আগুন থাকে, তাই দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়ে যায়। কিন্তু ইন্ডাকশনে উন্মুক্ত আগুন নেই। এতে তড়িৎচৌম্বকীয় শক্তির মাধ্যমে সরাসরি পাত্রের তলায় তাপ তৈরি হয়। আবার অনেক ইন্ডাকশনে স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ব্যবস্থা থাকে। ফলে পাত্র সরিয়ে নিলে বা বেশি গরম হলে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেক কম।
৪. গ্যাসে বার্নার, গ্রিল ও নানা অংশ থাকে। ফলে পরিষ্কার করতে সময় লাগে। ইন্ডাকশনের উপরের অংশ সাধারণত মসৃণ ও সমতল হয়। তাই রান্না শেষ হলে কাপড় দিয়ে এক বার মুছে নিলেই সহজে পরিষ্কার হয়ে যায়।
৫. তবে ইনডাকশন কেনার সঙ্গে সঙ্গে আনুষঙ্গিক আরও কিছু খরচ থাকে। ইনডাকশনে যে কোনও বাসন চাপানো যায় না। সেই যন্ত্রের উপযোগী বাসনকোসন কিনতে হবে। সে সমস্ত বাসনের তলা সমতল হতে হবে। স্টিল বা ঢালাই লোহার হাঁড়ি-কড়াই কিনতে হয়, যেগুলি ইনডাকশনে ব্যবহারযোগ্য। পুরো সেট কিনতে কয়েক হাজার টাকা খরচ হতে পারে। আবার বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হলে অনেক সময় বিল বেড়ে যেতে পারে। তবে উল্টো দিকে, ইনডাকশনে রান্না করলে রান্নাঘর নোংরা হবে না।
৬. যে সব এলাকায় বিদ্যুতের সরবরাহ ভাল নয়, সেখানে ঘরে ঘরে ইনডাকশন চললে অবশ্য বিদ্যুৎ এই ভার না-ও টানতে পারে।