পেশাগত ভাবে প্রয়োজন না থাকলে উচ্চতা অনুযায়ী যা ওজন হওয়া উচিত তার চেয়ে ৫–৭ কেজি, এমনকী ৮–৯ কেজিও যদি বেশি থাকে মুষড়ে পড়ার কিছু নেই ৷ ওইটুকু বেশি ওজন কমানোর জন্য জীবনপণ করারও দরকার নেই ৷ কারণ তেমন কোনও রোগবালাই না থাকলে ও মন ও শরীর যদি ফিট থাকে, এটুকুতে কোনও ক্ষতি হয় না ৷ উল্টে লাভ হয় বিস্তর ৷ কিন্তু ওজনকে নিক্তির মাপে নিয়ে আসতে গিয়ে যদি ভুলভাল রাস্তায় চলে যান, তবে কিন্তু বিপদের আশঙ্কা প্রতি পদে ৷

রোগা নয়, স্লিম

স্লিম শব্দটির সঙ্গে সুস্বাস্থ্যের যোগ আছে ৷ লো ক্যালোরির সুষম খাবার পেটভরে খেয়ে, সঠিক ভাবে জীবনযাপন করে, ভাল করে ঘুমিয়ে ও দিনে ৪০–৪৫ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম করে যাঁরা ওজন বশে রাখেন, তাঁরা হলেন স্লিম ৷ কিন্তু এতখানি নিয়ম–নিষ্ঠা অনেকেরই থাকে না ৷ ফলে ওজন কমাতে গিয়ে তাঁরা ভুল পথে চলে যান ৷ ওজন কমে, কিন্তু ফিট হওয়ার সৌভাগ্য জোটে না ৷

ধরা যাক, ভোজন রসিক বলে খাওয়ায় রাশ না টেনে প্রচুর ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়ানোর চেষ্টা করেন। বা বহু সময় ধরে লো ইনটেনসিটি ব্যায়াম করে যান ৷ কিম্বা কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট জাতীয় খাবার একেবারে কমিয়ে দিয়ে অতিরিক্ত প্রোটিন খেয়ে ডায়েটিং করেন ৷ অথবা সারা দিন ফল, টক দই ইত্যাদি খেয়ে থাকেন কি মিল সাপলিমেন্ট খান ৷ সব ক্ষেত্রেই ওজন হয়তো কমে, কিন্তু তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কারও দেখা দেয় ক্লান্তি, অপুষ্টি, অ্যানিমিয়া তো কারও কিডনির বা অন্য কোনও অসুখ ৷

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত জল খান? মস্ত বিপদ অপেক্ষা করছে কিন্তু!

ফিট হওয়ার তালিকায় প্রথম প্রাধান্য হোক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।

খুব রোগা হলে হাড়ের স্বাস্থ্য এমনিই খারাপ থাকে ৷ তার উপর ভাল করে না খেলে ও বেশি ব্যায়াম করলে তা আরও খারাপ হয় ৷ খারাপ হয় ত্বক, চুল, দাঁত, মেজাজ ৷ কমে প্রজনন ক্ষমতা ৷

অনেক সময় আবার অতিরিক্ত ডায়েটিং করার পর প্রচণ্ড খাওয়ার ইচ্ছে জাগে ৷ এবং সে সবই ভুল খাবার৷ কয়েক দিন প্রচুর খাওয়ার পর অপরাধবোধ থেকে শুরু হয় প্রায় না খাওয়া ৷ এই জিনিস বার বার হলে ওজন তো কমেই না, স্বাস্থ্যও খারাপ হতে শুরু করে ৷ বয়স বাড়লে তা টের পাওয়া যায় ৷ কাজেই ফ্যাট নিয়ে অতিরিক্ত মাথা ঘামাবেন না ৷ ফ্যাট মানেই অস্বাস্থ্য নয় ৷

চর্বির ভালমন্দ

চর্বি একটু থাকা ভাল ৷ ত্বকের চাকচিক্য থাকে, হাড় থাকে নিরাপদ, শরীর সুস্থ থাকে, আয়ু ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে ৷ একটু মোটা মানুষেরা সচরাচর বেশি হাসিখুশি ও সদালাপি হন ৷ তবে বেজায়গায় প্রচুর মেদ থাকা ভাল নয় ৷ সারা শরীর ছিপছিপে অথচ পেটে–কোমরে প্রচুর চর্বি থাকলে প্রেশার, সুগার, কোলেস্টেরল বাড়ার আশঙ্কা বেশি ৷ অস্টিওআর্থ্রাইটিস, ইস্কিমিক হৃদরোগের আশঙ্কাও বাড়ে ৷ কাজেই বিএমআই ২৫–এ রাখার তাগিদে দিন–রাত খাটাখাটি না করে, পেট–কোমরের দিকেও নজর দিন ৷ মাপ মতো জগিং, সাঁতার ইত্যাদির পাশাপাশি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো পেট–কোমরের পেশী শক্তপোক্ত করার ব্যায়াম করুন৷ তাতে যদি বিএমআই ৩০–এর কাছাকাছি চলে যায়, এমন ক্ষতি কিছু নেই, যদি না আপনি খুব বেশি অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেছেন।

আরও পড়ুন: টেনশন হলেই পেট গুড়গুড়? অবহেলা করলে বিপদ ডেকে আনছেন কিন্তু!

অল্পবিস্তর ব্যায়াম করুন, তাতে ফিট থাকার পথে এগিয়ে থাকবেন।

ফিট থাকার রেসিপি

  • সব সময় ওজনের কথা না ভেবে শরীর সুস্থ রাখার চেষ্টা করুন ৷ লো ক্যালোরির সুষম খাবার মোটামুটি পেট ভরে খান ৷ ৩০–৪৫ মিনিট জোর পায়ে হাঁটা, সাঁতার বা সাইক্লিং ও ২৫–৩০ মিনিট যোগা করুন ৷ সঙ্গে মন শান্ত রাখতে মেডিটেশন ও ব্রিদিং এক্সারসাইজ করলে তো কথাই নেই ৷

  • মর্নিং ওয়াকের অভ্যাস থাকলে, খুব ভাল কথা।  তবে সে ক্ষেত্রে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যেতে হবে বা ব্যবস্থা করতে হবে হালকা একটু দিবানিদ্রার ৷ না হলে ক্লান্তির চোটে বরবাদ হবেন ৷

  • পেট–কোমর ভারী হলে, সে দিকে আলাদা করে নজর দিন ৷ কোমরে ব্যথা থাকলে বা ৪০–এর উপর বয়স হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো চলুন ৷

  • সপ্তাহে এক দিন ব্যায়াম থেকে ছুটি নিন ৷ সে সময় ভাল করে ঘুমোন ৷ রিল্যাক্স করুন ৷ অল্পবিস্তর অনিয়ম করতে পারেন ৷ ওইটুকু অনিয়ম পুষিয়ে নিতে পরের কয়েক দিন এক মুঠো ভাত কম খাওয়া বা ৫–১০ মিনিট এক্সট্রা হাঁটাই যথেষ্ট ৷

  • টেনশন বাড়লে খুব তাড়াতাড়ি তা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন ৷ কারণ টেনশনের হাত ধরেই অস্বাস্থ্যকর জীবনের সূত্রপাত হয় অনেক সময় ৷

  • লাইপোসাকশন করে পেট–কোমর কমালে কোনও ক্ষতি নেই ৷ কিন্তু তারপরও ব্যায়ামে ঢ়িলে দিলে হবে না ৷