দোরগোড়ায় পুজো। এমন সময়ে মেদ ঝরিয়ে চেহারাকে আর একটু ঝরঝরে করে তুলতে চান অনেকেই। ক্র্যাশ ডায়েটের দরকার নেই৷ কারণ তাতে ওজন কমলেও চেহারার জেল্লা কমে যাবে৷ বাড়বে ক্লান্তি–দুর্বলতা৷ কাজেই খাবার খান ক্যালোরি ও পুষ্টির কথা মাথায় রেখে৷ ৭০ শতাংশ কাজ ডায়েটেই হবে৷ তাকে ৯০–১০০ শতাংশে পরিণত করতে হাঁটাচলা বাড়ান৷ তিন সপ্তাহেই চেহারায় অনেক ফারাক আসবে৷

ব্যায়ামের জন্য আলাদা সময় না পেলে লিফটের বদলে সিঁড়ি ওঠানামা করুন৷ কাছেপিঠে গেলে বাস–ট্রামের বদলে হেঁটে যান৷ হাঁটার গতি বাড়ান৷ ঘরের কিছু কাজকর্ম করুন৷ সময়ে–সময়ে একটু স্ট্রেচিং করে নিন৷

তবে যদি বয়স বেশি হয় বা কোনও অসুখবিসুখ থাকে, রুটিন বদলানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেবেন৷ তবে সুস্থ শরীর হলে একটু ডায়েট মেনে চললেই হতে পারে উপকার। মাসভর কেমন ডায়েট চার্টে মেদ ধরবে সহজে?

আরও পড়ুন: সব হার্ট অ্যাটাকে বুকে ব্যথা হয় না, কী ভাবে বুঝবেন বিপদ আসন্ন?

প্রথম সপ্তাহ

সকালে দুধ–চিনি ছাড়া গ্রিন টি বা কালো চা৷ সঙ্গে একটা ফল৷

ব্রেকফাস্টে ছোট একবাটি ওটের পরিজ/ পোহা/ উপমা/ খিচুরি বা ছোট দুটো ইডলি৷

মিড মর্নিংয়ে একটা ফল ও চারটে আমন্ড বা আখরোট৷

দুপুরে স্যালাড, দুটো আটার রুটি বা মাঝারি এক কাপ ব্রাউন রাইস, ডাল, সবজি, টক দই/ মাছ/ চিকেন৷

সন্ধেয় এক পিস ব্রাউন ব্রেডের স্যান্ডুইচ/ ছোট এক বাটি মুড়ি বা কল ওঠা মুগ বা ছোলা৷ সঙ্গে গ্রিন টি অথবা কালো চা (এক কাপ)

রাতে ক্লিয়ার স্যুপ, স্যালাড, একটা রুটি, সবজি/ মাছ/ চিকেন৷

শোওয়ার আগে চিনি ছাড়া এক কাপ ডাবল টোনড দুধ৷

দ্বিতীয় সপ্তাহ

সকালে গ্রিন টি–র সঙ্গে দুটো খেজুর৷

ব্রেকফাস্টে ছোট এক বাটি ওটস৷

মিডমর্নিংয়ে আগের মতোই একটা ফল ও চারটে আমন্ড বা আখরোট৷ ৷

দুপুরে একটা রুটি বা ছোট এক কাপ ভাত, ডাল, সবজি, টক দই/ মাছ/ চিকেন৷

বিকেলে একটা ফল৷ ইচ্ছে হলে এক কাপ গ্রিন টি/ কালো চা৷

রাতে ভাত–রুটি বাদ৷ তার বদলে সালাড, মাছ ও মাংস। ডিম সেদ্ধ ও মাংসও চলতে পারে। ক্লিয়ার সুপও থাকবে।

তৃতীয় সপ্তাহ

সকালে গ্রিন টি, খেজুর৷

ব্রেকফাস্টে তরমুজ, শশা, পাকা পেঁপে ও আরও দু–একটি ফল, অল্প বাদাম৷

মিড মর্নিংয়ে কল ওঠা মুগ বা ছোলা৷ অথবা মুগ–চানা–শশা–টমেটো দিয়ে বানানো স্যালাড৷

দুপুরে ভাত–রুটি বাদ, বরং পাতে রাখুন সবজি, টক দই/ মাছ/ চিকেন৷

বিকেলে ক্লিয়ার সুপ৷

রাতে  স্যালাড/ সতে করা ভেজিটেবল, সঙ্গে মাছ বা চিকেন এক পিস৷

শোওয়ার আগে চিনি ছাড়া এক কাপ ডাবল টোনড দুধ৷

আরও পড়ুন: খুশকি থেকে চুল পড়া, নানা সমস্যার দাওয়াই রয়েছে এই ফলে!

নিয়মাবলী

  • ক্যালোরি ও গুণমান ঠিক রেখে খাবারে কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন৷

  • এক দিন অনিয়ম হয়ে গেলে আধঘণ্টা বেশি হাঁটুন৷

  • অসময়ে খিদে পেলে প্রথমে জল খান৷ না কমলে মাখন ছাড়া ক্লিয়ার স্যুপ, শশা, তরমুজ, পাকা পেঁপে বা গ্রিন স্যালাড খান অল্প করে৷

  • খাওয়ার আগে জল, ক্লিয়ার স্যুপ বা ডালের জল খেলে কম খাবারেই পেট ভরবে৷

  • মূল খাবার খাওয়ার দু–ঘণ্টা আগে বা পরে দু’–চামচ ইসবগুল জলে মিশিয়ে খান৷ পেট পরিষ্কার থাকবে, খিদেও কম পাবে৷ অতিরিক্ত চর্বি শোষণ করতেও এর ভূমিকা আছে৷