হাঁড়িতে অনেকটা জল দিয়ে চাল সেদ্ধ করে ফ্যান গালিয়ে নিলে ভাত ঝরঝরেই হয়। তবে সমস্যা হয়, ফ্যান না ঝরিয়ে প্রেশার কুকার বা কোনও পাত্রে ভাত রাঁধতে গেলে। ঝরঝরে ভাত রাঁধা কিন্তু খুব সহজ নয়। চাল নরম হবে আবার তা গলেও যাবে না, একটি চাল আর একটি চালের সঙ্গে জুড়ে থাকবে না, প্রতিটি চাল সুসিদ্ধ অথচ ঝরঝরে হবে— এত শর্ত মেনে প্রেশার কুকারে ভাত রান্না কঠিন মনে হয় অনেকের কাছেই।
তবে রন্ধনে যাঁরা পটু তাঁদের কথায়, বিষয়টি অতটাও কঠিন নয়। চাল আর জলের অনুপাত এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সেটি ঠিক থাকলে আর সময়ে গ্যাস বন্ধ করলেই ঝরঝরে ভাত হবে স্বল্পসময়েই।
অনেক সময়েই পরিমাণে অল্প, কিন্তু একটু চটজলদি ভাত রান্নার দরকার পড়ে। তখন চাল ফুটিয়ে ফ্যান গালিয়ে ভাত খাওয়া সময়সাপেক্ষ হয়ে যায়। তবে প্রেশার কুকার বা কোনও পাত্রেই যদি একবারে ঝরঝরে ভাত বানাতে চান, তারও নিয়ম আছে।
আরও পড়ুন:
এক এক রকম চালের জল শোষণ করার ক্ষমতা এক এক রকম। কোনও চাল দ্রুত সেদ্ধ হয়, কোনওটি আবার চট করে সেদ্ধ হতে চায না। সেটা আগে থেকে অতটা বোঝাও যায় না।
চাল যাতে গলে না যায়, সেই জন্য অতিরিক্ত স্টার্চ বা শ্বেতসার বার করে দেওয়া জরুরি। চাল ভাল করে ধুয়ে দুই থেকে তিন বার জল ঝরিয়ে নিন। এতে চালের ময়লার পাশাপাশি চালের স্টার্চও ধুয়ে যাবে। স্টার্চ বেশি থাকলে ভাত ঝরঝরে হবে না। আবার খিচুড়ি বা গলা ভাতের জন্য এই চাল ভাল। অথচ দেরাদুন রাইস সেদ্ধ হতে বেশি সময় লাগে না, কিন্তু ঝরঝরে হয়।
প্রেশার কুকারে রান্না করতে হলে, যতটা চাল দিচ্ছেন, তার দেড়গুণ জল নিন। এর চেয়ে কম বা বেশি নয়। কোনও পাত্রে এক বারে ঝরঝরে ভাত করতে হলেও, চাল-জলের এই মাপটিই ঠিক। জল গরম হলে চাল দিয়ে মাঝারি আঁচে রেখে প্রেশার কুকারের ঢাকনা দিয়ে দিন। সিটি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আঁচ বন্ধ করে দিন। ভাপেই থাকবে ভাত। ভাপ একেবারে বেরিয়ে গেলে প্রেশার কুকারের ঢাকনা খুলুন। যদি মনে হয়, একটু জল ভাব রয়েছে, আর এক বার আঁচ কমিয়ে গরম করে নিন। চাল শক্ত মনে হলে অল্প একটু গরম জলের ছিটে দিয়ে কিছু ক্ষণ সেদ্ধ হতে দিন। তবে চাল-জলের অনুপাত ঠিক থাকলে এক বারেই ঝরঝরে ভাত হয়ে যাওয়ার কথা।