Advertisement
E-Paper

ফ্যাশন ‘বানে’ তৈরি শাড়ি থেকে ক্যাপ্রি

জাস্ট একটা খোঁপা। ব্যস তাতেই বাজিমাত। জিন্‌স-ক্যাজুয়াল টপ বা সালোয়ার কামিজ, ক্যাপ্রি-শার্ট হোক বা স্কার্ট। মেট্রো থেকে বাস, ট্রেন থেকে পথঘাট আর অবশ্যই প্যান্ডাল হপিং— শহরের লেটেস্ট ফ্যাশন ট্রেন্ড অন্তত তাই বলছে।

মৌমিতা করগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০০:০০

জাস্ট একটা খোঁপা। ব্যস তাতেই বাজিমাত।

জিন্‌স-ক্যাজুয়াল টপ বা সালোয়ার কামিজ, ক্যাপ্রি-শার্ট হোক বা স্কার্ট। মেট্রো থেকে বাস, ট্রেন থেকে পথঘাট আর অবশ্যই প্যান্ডাল হপিং— শহরের লেটেস্ট ফ্যাশন ট্রেন্ড অন্তত তাই বলছে।

‘‘মাকে ছোটবেলায় দেখতাম খুন্তি চালাতে চালাতে অবলীলায় এক হাতে জড়িয়ে নিতেন একটা আলতো হাতখোঁপা। কয়েকটা চুল অজান্তেই আলগা ভাবে কানের পাশ ঘেঁষে এসে গাল বেয়ে নামতো। কোনও মেকআপ ছাড়াই কি অসম্ভব রকম সুন্দর। এখন দেখি তারই পোশাকি নাম হয়েছে ‘লো
ফ্ল্যাট বান’।’’— বললেন বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করা বছর তিরিশের দীপিকা।

Advertisement

বছরে একবারই তো পুজোর সময়ে তো দিনভর টইটইয়ের প্ল্যান থাকে। তখন সারা দিন চুল খুলে ঘুরতেও অসুবিধা, ভিড়ে-ধুলোয় চুল খুব নষ্টও হয়। এক সময়ে শাড়ির সবথেকে বিশ্বস্ত সঙ্গী হলেও এখন খোপার বন্ধু পরিসর বেড়েছে। ইস্টার্ন বা ওয়েস্টার্ন সব পোশাকের সঙ্গেই তার স্বচ্ছন্দ বিচরণ। তাই প্যান্ডাল হপিংয়ের দিনগুলো জিন্‌স আর ক্যাজুয়াল টি শার্টের সঙ্গে খোপা মাস্ট।

কলেজপড়ুয়া শ্রেয়াংসী আবার আলতো খোপায় বিশ্বাসী নন। চোখে স্মাজ করা কাজল আর হাতে জ্বলন্ত সিগারেটের সঙ্গে আড্ডায় তার পছন্দ ‘ট্যুইস্টেড টপনট বান’। মাথার একটু উপর দিক থেকে উঁচু করে বেঁধে নেওয়া টাইট খোপা। আর তাতে দু’পাশ থেকে দুটো বড় কাঁটা গেঁথে দিলেই রেডি ‘চাইনিজ স্টাইল বান উইথ স্টিক’। লুক এ একঘেয়েমি কাটাতে চাইলে মাথার পিছন দিকে মাঝ বরাবর নীচ থেকে উপরে অল্প চুলে বিনুনি করে নিন। এ বার সেটা আটকে দিন ‘হাই বান’-এর নীচের দিক থেকে। শ্রেয়াংসী বললেন, ‘‘পুজোয় একগাদা সাজগোজ করে সেটা মেইনটেন করতে নড়াচড়া করতে না পারলে খুবই বিরক্তিকর। কলকাতায় যা গরম আর মণ্ডপে যা ভিড় দিন দিন বাড়ছে তাতে চুল আটকে বেরোলে খানিকটা স্বস্তিও হয়।’’

মেকআপ আর্টিস্ট নবীন দাসের সহাস্য সংযোজন, ‘‘আজকাল মেয়েরা এত ব্যস্ত থাকে যে সাজের পিছনে খুব বেশি খাটতে চায় না।’’ তাই ফ্যাশনে খোঁপার দরও চড়চড় করে বাড়ছে। নবীন জানালেন, পুজোর সাজে নানা রকম ‘বান’ তরুণীদের পছন্দের প্রথম সারিতে, কারণ এর পিছনে বিশেষ খাটনি নেই। আর আজকাল এত রকমের ফ্যাশনেব্‌ল কাঁটা সর্বত্র পাওয়া যায় সেটা লুকটাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। তা ছাড়া কলকাতায় যে পরিমাণ দূষণ বেড়েছে, তাতে নিয়মিত স্পা করার পরেও দেখা যায় চুল খুব শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগই পুজোর শুরুতেই স্পা করে ফেলেন। তাতে প্রথম দু’দিন চুলটা খোলা অবস্থায় ভাল লাগলেও দু’দিন পরেই দূষণে তার হাল খারাপ হয়ে যায়। পুজোর শেষ দিনগুলোয় স্টাইল স্টেটমেন্ট মার খায়। যাঁদের পুজোয় দু’বেলা বেরোনোর প্ল্যান তাঁদের ক্ষেত্রে ড্যামেজ খানিকটা আটকাতে ‘বান’ এর জুড়ি নেই।

ফোটোজার্নালিস্ট অনুশ্রী পেশাগত কারণে এ শহরে একাই থাকেন। বাবা মা অন্য শহরে। বললেন, ‘‘পেশাগত কারণে পুজোয় আলাদা করে ছুটি পাই না। একার সংসারের সব ঝক্কি সামলে ভারি ক্যামেরার ব্যাগ কাঁধে অ্যাসাইনমেন্টে ছুটতে হয়। দিনের শেষে অফিস থেকে ফেরার সময়ে লেট নাইটে বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরোই। সারা দিনে চুলের যত্ন নেওয়ার সময় কই! অথচ সারা দিনের ধকলের পরে পাতলা চুল ছেড়ে বেরোলে দেখতেও ভাল লাগে না। তাই আমার মতো যাঁরা তাঁদের জন্য পিকচার পারফেক্ট হাই ডোনাট বান। দেখতেও খুব স্টাইলিশ আর ঘনত্ব যে কম সেটা বোঝাও যায় না।’’

হেয়ার স্টাইলিস্ট হেমা মুন্সীও জানালেন, ফাঁকিবাজি করেও নিজেকে সুন্দর দেখাতে বান বা খোঁপা অদ্বিতীয়। হেমার কথায়, ‘‘চিরদিনই রুপোলি পর্দার জগৎ সাধারণের সাজকে প্রভাবিত করেছে। এখন দীপিকা পাদুকোনের মতো ইয়ুথ-হার্টথ্রব নায়িকাদের বিভিন্ন সিনেমায় ‘মেসি বান’, ‘ক্যাজুয়াল বান’-লুক এ দেখা যাচ্ছে। সেই সব স্টাইলে গোটা দেশের সঙ্গে এ শহরের মেয়েরাও যথেষ্ট মজেছেন। তা ছাড়া এখন যে কোনও বয়সের মেয়েদের মধ্যেই ফ্যাশন সচেতনতা অনেক বেশি। তা সে ষোলোই হোক বা চল্লিশ। আর শারদ-সাজে বানকে আরও ঝকঝকে করে তুলতে নানারকম হেয়ার অ্যাকসেসারিজও ব্যবহার করা যায়। দেখতেও খুব স্টাইলিশ লাগে।’’

Bun hairstyle
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy