দুবাইয়ের মাঠে এশিয়া কাপে ভারত-পাক মহারণ আজ। আর এই দুই দেশ মুখোমুখি হওয়া মানেই স্নায়ুর খেলায় যোগ হয় আরও কিছু এক্স ফ্যাক্টর। অন্য কোনও দেশের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ দর্শকের মনে উত্তেজনা ও প্রতিযোগিতা এতটা চরমে থাকে না। যাঁরা মাঠে উপস্থিত থাকতে পারছেন না, তাঁদের মধ্যে উত্তজনা ঘাটতির কোনও প্রশ্নই নেই। বরং সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সে টেনশনের ঝড় আছড়ে পড়বে দুই দেশেই।

এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিনগুলোয় প্রধানত যুক্তি-তর্ক কেবল খেলায় আটকে থাকে না। মাঠে ভারত-পাক মুখোমুখি হওয়া মানেই যেন দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থান, আন্তর্দেশীয় সম্পর্ক, তার সঙ্গে জাতি-ধর্মের বিবাদও আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে আক্রমণ তো চলেই, ট্রোলিং থেকে বাদ যান না খেলোয়াড়রাও। সব মিলিয়ে এই দুই দেশের মুখোমুখি যেন এক যুদ্ধের আবহ তৈরি করে।

‘‘ক্রিকেটমোদী মনোভাব নিয়ে বিপক্ষ দেশের খেলা বা খেলোয়াড়কে সমর্থন করলেও শিকার হতে হয় নানা হয়রানির। এমনকি, এই দ্বৈরথ থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। সে সব সরিয়ে হানাহানি ছেড়ে খেলাকে খেলার মতোই দেখুন’’— পরামর্শ মনোবিদ অমিতাভ মুখোপাধ্যায়ের। খেলা চলাকালীন টেনশন কাটানোর উপায়ও বাতলালেন তিনি।

আরও পড়ুন

ডাবের জলের এই গুণগুলির কথা জানতেন?

কিচেন গার্ডেন করার শখ আছে? তা হলে এ ভাবেই শুরু করুন সহজে​

  • প্রথমেই মনে রাখুন, এটা খেলা। খেলা কিন্তু খেলাই হয়। আর সব খেলাতেই জয়-পরাজয় থাকেই। এতে জাত্যাভিমান, স্বদেশপ্রীতির মতোই ভারী শব্দ মেশাবেন না। এই সচেতনতা সব চেয়ে আগে প্রয়োজন।
  • টেনশন নেওয়ার ক্ষমতা কম হলে, বা হৃদরোগ থাকলে গোটা খেলা না দেখে, মাঝেমধ্যে উঁকি মারুন স্কোরবোর্ডে। আজকাল নানা ওয়েবসাইট স্কোর বোর্ড দেখায়। সেখানেই চোখ রাখুন।
  • খেলা দেখাকালীন অনেকেই সময় কাটাতে বা টেনশন ভুলতে চিপস, ঠান্ডা পানীয় বা প্যাকেট করা পপকর্নে মাতেন। এই ভুল একেবারেই নয়। এ সব খাবার টেনশন তো কমায়ই না, উল্টে শরীরের ক্ষতি করে। বরং খেলার বিরতির মাঝে হেঁটে আসুন কয়েক পা। বাড়ির অন্য কাজ নিয়ে আলোচনা করুন। মাথার মধ্যে একই বিষয় বয়ে বেড়ালে তা মানসিক উদ্বেগ বাড়ায়।


গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ​

  • খেলা দেখার সময় টেনশনের হাত থেকে বাঁচতে কানে রাখুন হালকা কোনও মিউজিক। গান শুনতে শুনতে কমেন্ট্রি বন্ধ করে খেলা দেখলে উত্তেজনার পারদ কমে।
  • নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ কতটা? তার উপর নির্ভর করবে সদলবলে খেলা দেখবেন, না কি একা? যদি সহজেই  মাথা গরমের প্রবণতা থাকে, তা হলে একেবারেই দলবল জুটিয়ে খেলা দেখবেন না। এতে আক্রোশ, উত্তেজনা দুই-ই বাড়ে।
  • খেলা চলাকালীন বা খেলা শেষের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকবেন না। বরং বিষয়টা থিতিয়ে গেলে, মন শান্ত হলে তবেই আসুন এখানে।
  • জয় হোক বা পরাজয়— ‘সত্যেরে লও সহজে’-র উপর বিশ্বাস রেখেই উপভোগ করুন ক্রিকেট। খোলোয়াড়দের ভুল-ত্রুটি বা সাফল্য খেলারই অংশ। একে ভুলবেন না।