সেনার সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হল আল-কায়দাজম্মু-কাশ্মীর শাখার প্রধান হামিদ লেলহারি ও তার দুই সঙ্গী। আল-কায়দার জম্মু-কাশ্মীর শাখা আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (এজিএইচ)-এর প্রাক্তন প্রধান জাকির মুসার উত্তরসূরি ছিল লেলহারি।

অবন্তিপোরার রাজোপোরা গ্রামে দুই সঙ্গী নিয়ে আত্মগোপন করে ছিল লেহারি। গোপন সূত্রে খবরটা পেয়েছিল সেনা। সেই সূত্র ধরেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজপোরা গ্রামে অভিযান চালায় তারা। গোটা গ্রামটিকে ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল সেনা। সে সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে লেলহারি ও তার সঙ্গীরা। পাল্টা জবাব দেয় সেনাও। দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলির লড়াই চলে। সেনা সূত্রে খবর, সেই সংঘর্ষেই লেলহারি ও তার দুই সঙ্গী নিহত হয়। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, জঙ্গিরা যেখানে লুকিয়ে ছিল সেখান থেকে প্রচুর অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। এলাকায় আর কোনও জঙ্গি আত্মগোপন করে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চিরুনি তল্লাশি চালায় সেনা।

২০১৬-য় হিজবুল কম্যান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর জাকির মুসাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর ২০১৭-তে কাশ্মীরে আল-কায়দার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয় জাকিরকে। গত ২৩ মে দক্ষিণ কাশ্মীরের ত্রালে সেনার গুলিতে হয়েছিল নিহত হয় জাকির। তার মৃত্যুর পর জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি নেটওয়ার্ক চালানোর জন্য আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ-এর কম্যান্ডার বানানো হয় পুলওয়ামার বাসিন্দা লেলহারিকে। গত জুনেই ছ’মিনিটের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছিল লেলহারি। সেখানে সব জঙ্গি সংগঠনকে একত্রিত হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর আহ্বান জানাতেও দেখা যায়। সেই ভিডিয়ো সেনার হাতে পৌঁছনোর পরই লেলহারির খোঁজ চালানো শুরু হয়। জাকির মুসাকে নিকেশের পাঁচ মাসের মধ্যে তারই উত্তরসূরি লেলহারির মৃত্যুকে একটা বড়সড় সাফল্য বলেই মনে করছে সেনা।

আরও পড়ুন: দিল্লির কনট প্লেসে সাতসকালে পুলিশের সঙ্গে গুলিযুদ্ধ দুষ্কৃতীদের

আরও পড়ুন: তপ্ত কাশ্মীরে নিহত তিন জঙ্গি, মৃত্যু এক সেনারও

অন্য দিকে, দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামাতেও সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে তিন জঙ্গির নিহত হয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিজি জিলবাগ সিংহ জানিয়েছেন, নিহত জঙ্গিরা পাক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য।