অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন ওয়াইএস জনগমোহন রেড্ডি। কিন্তু তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা গেল না পূর্বসূরি চন্দ্রবাবু নায়ডুকে। শপথগ্রহণে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) প্রধান নায়ডু। তবে তিনি না গেলেও, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে, বৃহস্পতিবার জগনমোহন রেড্ডির সঙ্গে দেখা করে আটচান নায়ডু, পি কেশব এবং জি শ্রীনিবাস রাও-সহ টিডিপি নেতৃত্বের একটি প্রতিনিধি দল। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান তাঁরা।

গত ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ফলের পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেরও ফল প্রকাশিত হয়।তাতে ১৭৫টি আসনের মধ্যে ১৫১টিতেই জয়ী হয় জগনমোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেস। জয়লাভের পরই চন্দ্রবাবু নায়ডুকে একহাত নেন তিনি। ২০১৪-র নির্বাচনে নায়ডু ওয়াইএসআর কংগ্রেসের ২৩ বিধায়ককে কিনে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন। সেই সঙ্গে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘আগের বার ২৩ জন বিধায়ক কিনেছিলেন। আর এ বার মাত্র ২৩টি আসন পেয়েছে টিডিপি। ভোটের ফলাফলও বেরিয়েছে ২৩ তারিখ। খুব সুন্দর ভাবে চিত্রনাট্য লিখেছেন ভগবান। কুকর্মের শাস্তি দিয়েছেন।’’

অন্য দিকে, অন্ধ্রপ্রদেশের ২৫টি লোকসভা আসনের মধ্যে তিনটিতে জয়লাভ করে টিডিপি। ওয়াইআর কংগ্রেস জেতে ২৩টি আসন। তা নিয়েও চন্দ্রবাবুকে বিদ্রুপ করেন জগনমোহন। তাঁদের দল থেকে ভাঙিয়ে নিয়ে যাওয়া তিন সাংসদের জন্যই ওই তিনটি আসনে টিডিপি জিততে পেরেছে বলে দাবি করেন তিনি। 

আরও পড়ুন: ‘অন্ধ্রে হেরেও জগনের দাবি মেনেছেন মোদী, কেন শপথ এড়ালেন মমতা?’ সমালোচনা শিবসেনার​

আরও পড়ুন: সিবিআইয়ের নোটিস খারিজ করা হোক, রাজীবকে মামলার অনুমতি হাইকোর্টের, শুনানি আজ​

তবে জগনমোহন বার বার আক্রমণ করলেও, প্রত্যুত্তরে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করেননি চন্দ্রবাবু নায়ডু। বরং টিডিপির প্রতিষ্ঠাতা এনটি রামারাওয়ের ৯৭ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গুন্টুরে আয়োজিত একটি সভায় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আশাহত হবেন না। বরং এনটি রামারাওয়ের আদর্শ মেনে চলুন। নির্বাচনে পরাজিত হলেও কখনও আত্মবিশ্বাস হারাননি উনি।’’ রাজ্যের সাধারণ মানুষের কল্যাণে জগনমোহনের সরকারকে সবরকম ভাবে সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে চন্দ্রবাবু বলেন, ‘‘নতুন সরকার আসছে। ওদের সময় দিতে হবে। কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ওরা। তা পূরণ করার সময় দিতে হবে ওদের।’’

এর পরই, গত মঙ্গলবার জগনমোহনর রেড্ডির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার আমন্ত্রণ পান চন্দ্রবাবু। কিন্তু তা ফিরিয়ে দেন তিনি। তবে তিনি না গেলেও, এ দিন বিজয়ওয়াড়ার ইন্দিরা গাঁধী পুরসভা স্টেডিয়ামে দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন  তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। এ ছাড়াও ছিলেন, রাজ্যপাল ইএসএল নরসিংহ, ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন এবং জনসেবা পার্টির প্রধান পবন কল্যাণ।