‘শস্ত্র পূজা’ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা আগেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। এ বার সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘শস্ত্র পূজা’ নিয়ে কংগ্রেস নেতাদের সমালোচনা পাকিস্তানকেই শক্তিশালী করবে। 

২১ অক্টোবর হরিয়ানায় বিধানসভা নির্বাচন। আজ করনালে এক নির্বাচনী সভায় রাজনাথ বলেন, ‘‘রাফালকে স্বাগত জানানো উচিত। তা না-করে সমালোচনা হচ্ছে। কংগ্রেস নেতাদের মন্তব্য শুধু পাকিস্তানকেই শক্তিশালী করবে।’’

ফ্রান্সের বোর্দোয় গত মঙ্গলবার প্রথম রাফালের চাবি তুলে দেওয়া হয় রাজনাথের হাতে। বিজয়া দশমী বা দশেরার ‘রীতি মেনে’ যুদ্ধ বিমানটিকে পুজো করেন তিনি। সেটির গায়ে এঁকে দিয়েছিলেন ‘ওম’ চিহ্ন, নারকেলও ফাটানো হয়েছিল। চাকার নীচে রাখা হয়েছিল লেবু। ওই ‘শস্ত্র পূজা’কে কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেছিলেন ‘তামাশা’। আর এক কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘‘লেবু-নারকেল কী ভাবে আধুনিক যুদ্ধবিমানকে রক্ষা করবে?’’ এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার বলেছিলেন, ‘‘রাফালের সামনে লেবু-লঙ্কা ঝোলানো থাকলে লোক কী বলবে ...!’’ ওই সব সমালোচনাকে গুরুত্ব না-দিয়ে ‘শস্ত্র পূজা’র যৌক্তিকতা আজ ব্যাখ্যা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। রাজনাথ বলেন, ‘‘শক্তিশালী যুদ্ধবিমান পেয়েছি। তা ব্যবহারের আগে পুজো করা প্রয়োজন। তাই যুদ্ধবিমানে ‘ওম’ লিখেছি। আর কংগ্রেস নেতারা বিতর্ক শুরু করে দিলেন! ‘ওম’ শব্দে আপনাদের আপত্তি? বাড়িতে আমরা ‘ওম’ শব্দ বলি না, লিখি না?’’

সন্ত্রাসের মোকাবিলা নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন রাজনাথ। তাঁর তির্যক মন্তব্য, ‘‘পাক প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিতে চাই, সন্ত্রাসের মোকাবিলায় যদি আন্তরিক হন, তা হলে আপনাকে সাহায্য করব। আপনি যদি সেনা চান, তা হলে আমরা তা-ও পাঠিয়ে সহায়তা করব।’’ কাশ্মীর নিয়ে ইমরানকে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘কাশ্মীর নিয়ে চিন্তাও করবেন না। আপনি (ইমরান) বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলতেই পারেন, কিন্তু লাভ হবে না।’’ রাফালের অন্তর্ভুক্তি বায়ুসেনার শক্তি যে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে তা মনে করিয়েছেন রাজনাথ। তিনি বলেন, ‘‘ভারতের হাতে আগে রাফাল এলে পাকিস্তানে ঢুকে বালাকোটে অভিযান চালাতে হত না। ভারতে বসেই জঙ্গি শিবির ধ্বংস করা যেত।’’

মুম্বইয়ে এক প্রাচর সভায় আজ রাহুল গাঁধী বলেছেন, ‘‘মনে হচ্ছে রাফাল চুক্তি এখনও বিজেপিকে তাড়া করছে। না হলে প্রথম যুদ্ধবিমান নিতে রাজনাথ সিংহ ফ্রান্সে যাবেন কেন?’’ বিজেপি নেতাদের মনেই অপরাধবোধ রয়েছে।’’