প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে ফাঁসাতেই তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার ভুয়ো অভিযোগ আনা হয়েছে। জেট এয়ারওয়েজের প্রতিষ্ঠাতা নরেশ গয়াল-সহ কর্পোরেট জগতের কয়েক জন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং ফিক্সার রোমেশ শর্মা ওই ষড়যন্ত্রে সামিল থাকতে পারেন। প্রধান বিচারপতি বিরুদ্ধে ভুয়ো মামলা সাজাতে তাঁকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন এক ব্যক্তি। আইনজীবী উৎসব বাইন্সের এ সমস্ত দাবির সমর্থনে তাঁকে প্রমাণ দিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার তাঁকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বে গঠিত একটি বেঞ্চ উৎসবকে নোটিস পাঠিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আগামিকাল সুপ্রিম কোর্টে হাজিরা দিয়ে ওই দাবির সপক্ষে প্রমাণ দাখিল করতে হবে উৎসবকে।

সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দাখিল করে সোমবারের আইনজীবী উৎসব দাবি করেন, প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার ভুয়ো মামলা সাজাতে তাঁকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন অজয় নামের এক ব্যক্তি। এমনকি, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে ফাঁসাতে তাঁর বিরুদ্ধে একটি সাংবাদিক বৈঠক ডাকারও প্রস্তাব এসেছিল ওই ব্যক্তির কাছ থেকে।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার ভুয়ো মামলা সাজাতে বিশাল অঙ্কের ঘুষের প্রস্তাব পেয়েছেন। দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উৎসব বাইন্স। —ফাইল চিত্র।

উৎসব বাইন্সের দাবি, প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করাতেই তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও দাবি উৎসবের। তাঁর আরও দাবি, একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, নরেশ গয়াল জেট এয়ারওয়েজের মতো হাই-প্রোফাইল মামলার রায় যাতে নিজের পক্ষে যায়, সে জন্য রোমেশ শর্মার মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে বার্তা দিয়েছিলেন। তবে সে চেষ্টা বিফলে যায়। এমনকি, ওই মামলাটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও চেষ্টা করেন তিনি। নরেশই  ষড়যন্ত্রকারীর সঙ্গে মিলে প্রধান বিচারপতির উপর চাপ সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি পদত্যাগ করেন। হলফনামায় উৎসবের দাবি, জেট এয়ারওয়েজে বিনিয়োগ করেছেন দাউদ ইব্রাহিম। ফলে এ বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখা উচিত।

আরও পড়ুন: রাহুলের গায়ে বোমা বেঁধে অন্য দেশে পাঠিয়ে দিন, পঙ্কজার মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক প্রাক্তন কর্মী। বছর পঁয়ত্রিশের ওই তরুণীর দাবি, ২০১৮ সালের অক্টোবরে তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন প্রধান বিচারপতি। সে সময় তিনি প্রধান বিচারপতির বাড়ির অফিসে কাজ করতেন। তিনি প্রতিবাদ করায় প্রথমে তাঁকে ওই অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাকে চাকরি থেকেই বরখাস্ত করা হয়। গোটা বিষয়টি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ২২ জন বিচারপতির কাছে একটি হলফনামা দেন ওই তরুণী।

আরও পড়ুন: উস্কানি নয়, প্রজ্ঞাকে পরামর্শ বিজেপির

শুধুমাত্র উৎসব বাইন্সই নন, যৌন হেনস্থার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের সমস্ত অর্থাৎ ২৭ জন বিচারপতিকেই নিজের পাশে পেয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। শীর্ষ আদালতের ওই বিচারপতিরা এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে সমর্থন করেছেন।

বিচারপতিরা ছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলিও প্রধান বিচারপতির সমর্থনে মুখ খুলেছেন। নিজের ব্লগে জেটলির দাবি, প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়ে তার স্থিতাবস্থা বিগড়ে দিতেই এ ধরনের অসমর্থিত অভিযোগ আনা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: স্বামী-হত্যার ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে দিন গুজরান মরিয়মের

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ অবশ্য আগেই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই এ নিয়ে শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছে। স্বয়ং প্রধান বিচারপতি ছাড়াও সেই বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব খন্না। তবে এ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তকারীদের দিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন উৎসব। যদিও এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার দাবি করেছেন মেধা পাটকর, অরুন্ধতী রায়-সহ একাধিক বিশিষ্টজন।

গোটা বিষয়ে অবশ্য প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের দাবি, “এর পিছনে বৃহৎ কোনও শক্তির হাত রয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে ঠুঁটো করে দিতেই এ অভিযোগ করা হয়েছে।” 

(ভারতের রাজনীতি, ভারতের অর্থনীতি- সব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদেরদেশবিভাগে ক্লিক করুন।)