ঠিক এক সপ্তাহ আগে থমকে গিয়েছিল সে। তবে রবিবার সন্ধে হতেই ফের চালু হল ইসরোর কাউন্টডাউন ঘড়ি। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) জানিয়েছে, কাল, সোমবার বেলা ২টো ৪৩-এ শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ভারতের চন্দ্রযান-২ চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেবে। ইসরোর দাবি, শনিবার রাতে উৎক্ষেপণের মহড়াও সফল হয়েছে।

১৪ জুলাই উৎক্ষেপণের ঠিক ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে থেমে গিয়েছিল কাউন্টডাউন ঘড়ি। কারণ, চন্দ্রযানের বাহন জিএসএলভি মার্ক থ্রি ওরফে বাহুবলী রকেটের ক্রায়োজেনিক জ্বালানির ট্যাঙ্কে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ইসরোর খবর, ওই ট্যাঙ্কের সিলিন্ডারের ভিতরে থাকা হিলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডারের একটি ভালভের চাপ কমে গিয়েছিল। সেই কারণেই অতিশীতল, তরল হাইড্রোজেন বেরিয়ে আসছিল। রবিবার ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন জানান, মেরামতির পরে বাহুবলী এখন ওড়ার জন্য তৈরি। 

ইসরো জানিয়েছে, ২২ জুলাই দুপুরে রওনা হয়ে পৃথিবীর চারপাশে পাক খেতে খেতে ক্রমশ দূরত্ব বাড়াবে চন্দ্রযান। পাঁচটি পাক খাওয়ার পরে ২৩ দিনের মাথায় অর্থাৎ ১৪ অগস্ট সে পৃথিবীর ‘মায়া’ কাটিয়ে চাঁদের কক্ষপথের দিকে রওনা দেবে। ২২ সেপ্টেম্বর চাঁদের কক্ষপথে ঢুকবে বাহুবলী। ৬ সেপ্টেম্বর চাঁদে অবতরণ করবে বিক্রম নামে চন্দ্রযানের ল্যান্ডার অংশটি। হিসেব মতো, রওনা দেওয়ার ৫৪ দিন পরে চাঁদে পৌঁছনোর কথা। কিন্তু প্রথম বারের গোলমালে এক সপ্তাহ সময় নষ্ট হয়েছে। এ বার তাই গতি বাড়িয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা হবে বলে ইসরো সূত্রের দাবি।

উৎক্ষেপণ নিয়ে ইসরোর বিজ্ঞানীরা কিন্তু এখনও উদ্বিগ্ন। একটি সূত্রের ব্যাখ্যা, বাহুবলীর ওজন ৬৪০ টন। এত বড় রকেটের নীচের অংশের থেকে মাটির ফাঁক খুব বেশি থাকবে না। তাই উৎক্ষেপণ একশো শতাংশ নিখুঁত হতে হবে।

দিনের আলোয় উৎক্ষেপণ। তাই দর্শকাসন ‘হাউসফুল’ থাকবে বলেই আশা ইসরোর। ইতিমধ্যেই অনলাইন রেজিস্ট্রেশনে সব আসন ভর্তি হয়ে  গিয়েছে বলে খবর।