দু’দিন আগেই জানা গিয়েছিল, আপনি যতই ইনকগনিটো মোডে ব্রাউজিং করুন তার সমস্ত তথ্য জমিয়ে রাখছিল ফেসবুক ও গুগল। এ বার আবারও প্রশ্নের মুখে গুগল। গুগল ক্রোম এবং ফায়ারফক্সের মাধ্যমে আপনার সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এ রকমই গুরুতর অভিযোগ আনলেন এক সাইবার বিশেষজ্ঞ। সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ স্যাম জাদালির অভিযোগ প্রায় ৪০ লক্ষ ইউজারের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে গিয়েছে এই দুটি ব্রাউজারের এক্সটেনশন থেকে।

গুগল ক্রোম এবং ফায়ারফক্স ব্যবহারকারীরা তাদের ব্রাউজিং সাইটগুলিকে নিরাপদ রাখার জন্য অনেক সময় অ্যাড ব্লকারের এক্সটেনশন ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এগুলি যে খুব নিরাপদ, তা নয়। ঠিক এ রকম দাবি করলেন সাইবার সিকিউরিটির বিশেষজ্ঞ স্যাম।

বিজ্ঞাপন ব্লকারের মতো আটটি ব্রাউজার এক্সটেনশন প্রায় ৪০ লক্ষ গুগল ক্রোম এবং ফায়ারফক্স ব্যবহারকারীর ডেটা ফাঁস করছে বলে দাবি করছেন স্যাম। শুধু তাদের ব্রাউজিং হিস্ট্রি নয়, তাদের ট্যাক্স রিটার্নের ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে মেডিকাল রেকর্ড, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য এবং অন্যান্য  গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলিও এই এক্সটেনশনগুলিতে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইনস্টাগ্রামে "হ্যাকিং বাগ" খুঁজে দিয়ে ২০ লক্ষ টাকা জিতলেন তামিলনাডুর বাসিন্দা

 

গত শুক্রবার, আরস টেকনিকায় ড্যান গুডিনের পেশ করা একটি রিপোর্ট থেকে জাদালি জানান, তথ্যগুলি ফাঁস হয়েছে নাচো অ্যানালিটিক্স নামের একটি সংস্থার মাধ্যমে যা যে কোনও ওয়েবসাইটের ডেটাকে অ্যানালাইজ করতে অ্যাক্সেস দেয়।  ১০ থেকে ৫০ ডলারে এই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

আটটি ব্রাউজিং এক্সটেনশনে এই ফাঁস হওয়া তথ্যগুলির মধ্যে ব্যবহারকারীর গাড়ির দরকারি নথিপত্র থেকে শুরু করে, যে নয়া গাড়ি কেনা হয়েছে তার নম্বর এবং ক্রেতার নাম, ঠিকানা গোপনীয় তথ্য সব ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, একজন রোগীর বিস্তারিত তথ্য থেকে শুরু করে ভ্রমণের তথ্য, ফেসবুকের মেসেঞ্জারে পাঠানো বার্তা, ফেসবুকের ছবি এবং নানা ব্যক্তিগত তথ্য এখন পাওয়া যাচ্ছে পাবলিক ডোমেইনে।

নাচো অ্যানালিটিক্স, ৫ হাজার ট্রাফিকিং ওয়েবসাইটে নজরে রাখার জন্য মাসে ডোমেইন প্রতি ৪৯ ডলার নিচ্ছে। সিকিউরিটি এক্সপার্টদের মতে, যে কোনও ব্যবহারকারী তার ব্রাউজারের হিস্ট্রি ডিলিট করে দিলে এই তথ্য চুরি হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে। 

আরও পড়ুন: টুইটার নিয়ে এল নয়া ফিচার, 'হাইড রিপ্লাইস’