Advertisement
E-Paper

নিয়ানডারথালদের নরমাংসভোজী অংশ অপহরণ করে আনত ‘বেপাড়ার’ মানুষ! নতুন গবেষণায় উঠে এল বিবিধ তথ্য

বেলজিয়ামের এক গুহা থেকে মেলা হাড় প্রায় এক দশক ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। সেগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে। দেহাংশের বয়স নির্ধারণের জন্য করা হয়েছে রেডিয়োকার্বন ডেটিং। তার পরেই নতুন তথ্য জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৮

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

নিয়ানডারথাল মানবদের একটা অংশ নিজের প্রজাতির মানবেরই মাংস খেত। যারা খেত, তাদের নিশানা ছিল মূলত শিশু এবং মহিলা। বেলজিয়ামের একটি গুহা থেকে কিছু হাড়গোড় পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। তা নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পরে তাঁদের মনে হয়েছে, নিয়ানডারথাল মানবদের একটা অংশ নরমাংসভোজী ছিল তো বটেই! তবে সকলে যে সকলকে ধরে খেয়ে ফেলত, তা নয়। মূলত অন্য গোষ্ঠীর লোকজনকে, বহিরাগতদের ধরে এনেই খাওয়া হত। ৪১ থেকে ৪৫ হাজার বছর আগে চলেছিল এই ঘটনা।

বেলজিয়ামের ত্রোয়াসিয়েম ক্যাভার্ন অফ গোয়েট থেকে কিছু হাড়গোড় পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, ওই এলাকায় যে নিয়ানডারথাল মানবগোষ্ঠীর বাস ছিল, হাড়গুলি তাদের নয়। যাদের হাড় মিলেছে, তাদের বাস অন্য কোথাও। বিজ্ঞানীদের দাবি, ধরে বেঁধে অন্য জায়গা থেকে নিয়ে আসা হত তাদের। কেন এ রকম মনে করছেন তাঁরা? ওই বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হাড়গুলি পরীক্ষা করে অনেকগুলিতে আঘাতে চিহ্ন মিলেছে। কিছু হাড় আবার ভাঙা হয়েছিল। পায়ের দিকের কিছু হাড় ভেঙে তার ভিতর থেকে অস্থিমজ্জা বার করা হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

তা থেকেই বিজ্ঞানীদের ধারণা হয়েছে, যাদের হাড় মিলেছে, তাদের দেহ প্রথা অনুসারে সৎকার করা হয়নি। বরং দেহাংশ খেয়ে ফেলা হয়েছিল। ঠিক যে ভাবে পশুর মাংস খাওয়ার পরে তার হাড়গোড় ফেলে দেওয়া হয়, তাদের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছিল।

Advertisement

এই নিয়ে গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্টিফিক রিপোর্ট জার্নালে। বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়, মার্সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক গবেষণাটি করেছেন। তাঁরা মনে করেন, গুহা থেকে মেলা ওই হাড়ের টুকরো প্রস্তরযুগের (তিন লক্ষ থেকে ৪০ হাজার বছর আগে ছিল এই সময়কাল)। ওই সময়ে উত্তর ইউরোপে বিচরণ করত নিয়ানডারথালেরা। তাদের সাংস্কৃতিক আচরণ ছিল ভিন্ন। সে সময় আদিম আধুনিক মানবেরও আশপাশের অঞ্চলে উদ্ভব হয়েছিল।

বিজ্ঞানীদের একাংশের দাবি, নিয়ানডারথালদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ লেগে থাকত। তার জেরেই এক গোষ্ঠীর মানবকে ধরে এনে খেত অন্য গোষ্ঠীর লোকজন। তাঁরা মনে করেন, জায়গা, সম্পদ নিয়ে মূলত বিবাদে জড়াত নিয়ানডারথালদের বিভিন্ন গোষ্ঠী।

বেলজিয়ামের ওই গুহা থেকে যে সব হাড় মিলেছে, সেগুলি প্রায় এক দশক ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। সেগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে। দেহাংশের বয়স নির্ধারণের জন্য করা হয়েছে রেডিয়োকার্বন ডেটিং। মৃত্যুর আগে তারা কোন এলাকায় বসবাস করত, তা জানার জন্যও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তা দিয়েই বোঝার চেষ্টা করেছেন, কেমন দেখতে ছিল সেই মানবকে। আর সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়েছে, হাড়গুলি যাদের, তাদের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ। তাতে তাঁদের ধারণা হয়েছে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে নিয়ানডারথাল মানব নিজের প্রজাতির মানবকে মেরেছে। তার পরে খেয়েছে।

বিজ্ঞানীদের একাংশ অনেক বছর আগেই প্রমাণ পেয়েছিলেন, যে নিয়ানডারথাল মানবদের একটা অংশ ‘নরমাংসভোজী’ ছিল। নতুন এই গবেষণা আরও কিছু বিষয় স্পষ্ট করেছে। সেই গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, সকলে সকলকে ধরে খেয়ে ফেলত, এমন নয়। নির্দিষ্ট কোনও গোষ্ঠীর লোকজন কিছু নিয়ানডারথাল মানবকে, বিশেষত বহিরাগতদের নিশানা করত। সব সময় যে সংঘাতের কারণে এ সব করা হত, তা নয়। বিজ্ঞানীদের একাংশের ধারণা, বেঁচে থাকার তাগিদেও ‘নরমাংসভোজী’ হয়ে উঠেছিল নিয়ানডারথালদের একটা অংশ। সেই সঙ্গে সমাজ, পরিবেশের চাপও ছিল।

Neanderthal Cannibalism
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy