Asiad 2018: India wins two gold in athletics - Anandabazar
  • নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

চোট নিয়েই সোনা হিমার

Hima
হিমা দাস।

Advertisement

জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনার দৌড় বৃহস্পতিবার ধরে রাখলেন অ্যাথলিটরা। 

দুটি সোনা এল এ দিন অ্যাথলেটিক্সে। ৪০০ মিটার রিলেতে সোনা জিতলেন ভারতের মেয়েরা। যে দলের অন্যতম সদস্য অসমের সোনার মেয়ে হিমা দাস। এর আগেই তিনি ৪০০ মিটার দৌড়ে রুপো পেয়েছিলেন। তাই তিনিই ছিলেন প্রধান আকর্ষণ। হতাশ করেননি হিমা। এ ছাড়া পুরুষদের ১৫০০ মিটার দৌড়ে এ দিনের দ্বিতীয় সোনা এনে দেন জিনসন জনসন। তাঁর সময় ৩:৪৪.৭২। এ দিনের জোড়া সোনা নিয়ে এ বার ভারতের সোনার সংখ্যা দাঁড়াল ১৩। গত বারের এশিয়ান গেমসের চেয়ে দুটি বেশি। পাশাপাশি ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ইভেন্টেও ভারত ১৯৫১-র পরে সেরা পারফরম্যান্স দেখাল এশিয়াডে। সব মিলিয়ে এই ইভেন্টে ভারত পেয়েছে সাতটি সোনা, ১০টি রুপো এবং দুটি ব্রোঞ্জ।

মেয়েদের ৪০০ মিটার রিলে রেসে ভারতীয় দলই সোনা জোতার দৌড়ে গত চার বার দাপট দেখিয়েছিলেন। এই নিয়ে ২০০২ থেকে টানা পাঁচ বার সোনা জিতল ভারত এই ইভেন্টে। হিমা ছাড়া ভারতীয় দলে ছিলেন এম আর পুভাম্মা, সরিতা গায়কোয়াড় এবং ভি কে বিস্ময়া। তাঁদের সময় ৩:২৮.৭২।  

রুপোর পরে এ বার হিমার সোনা জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসছে অসম।  গুয়াহাটি থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, মন্ত্রী কেশব মহন্ত ঘোষণা করেছেন, অবিলম্বে ধিঙে হিমার মূর্তি বসবে। অক্টোবরে অসমে এসে নিজে হাতে নিজের মূর্তি উদ্বোধন করে বাড়িতে ঢুকবেন সোনার মেয়ে হিমা।

চারশো মিটার রিলেতে সোনা জেতার পরে ভারতের মেয়েরা। বাঁ দিক থেকে সরিতা, হিমা, বিস্ময়া আর পুভাম্মা। বৃহস্পতিবার। পিটিআই

রুপোর দৌড় দু’টো দেখা হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা ও প্রজেক্টরের গণ্ডগোলে। তবে ৪০০ মিটার রিলেতে হিমাদের সোনার দৌড়ের সরাসরি সম্প্রচার নির্বিঘ্নেই দেখলেন তাঁর বাবা-মা রঞ্জিৎ ও জোনালি দাস। দেখল গোটা কান্ধুলিমারি গ্রামও। ৫২ বছর পরে ফের অসমের কোনও অ্যাথলিটের সোনা বলে উৎসবের মাত্রা ছিল আরও বেশি।

উৎসব: ১৫০০ মিটারে সোনা জিতে জনসন। জাকার্তায়। ছবি: এএফপি।

রিলে দলের দৌড়ে যাবতীয় নাটকীয়তা, ক্লাইম্যাক্স প্রথম ল্যাপেই শুরু ও শেষ। হিমার নেতৃত্বে প্রথম ল্যাপে ভারত যে ভাবে এগিয়ে গেল, বাকি জয়টা যেন হয়ে দাঁড়িয়েছিল সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু অতিমানবীয় স্প্রিন্টে দেশকে এগিয়ে দেওয়ার পরে মাটিতে বসে পড়া মেয়েকে দেখে আনন্দ নয় উৎকন্ঠা ঘিরে ধরে মা জোনালি দেবীকে। পরে প্রশিক্ষক নিপন দাস জানান, হিমার পায়ে সামান্য চোট লেগেছিল। তা নিয়েও দেশকে সেরা করেছে মেয়ে। দৌড়ের পরেই তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

১৯৬৬ সালের এশিয়ান গেমসে ৮০০ মিটার দৌড়ে সোনা পেয়েছিলেন ভোগেশ্বর বরুয়া। তার পর থেকে অসমে আর এশিয়াড সোনা আসেনি। হিমার দৌড়ে প্রথম থেকে নজর রাখছিলেন তিনি। তিনি হিমাকে দৌড়ের বাইরে আর কোনওদিকে মন না দেওয়ার পরামর্শ দেন। আজ হিমার নজির ছোঁয়া দৌড় দেখার পরে আবেগ বিহ্বল হয়ে পড়েন তিনি। আনন্দবাজারকে বলেন, “জাতীয় ও এশীয় রেকর্ড করার পরেও আমি অলিম্পিক্সে দৌড়ানোর সুযোগ পাইনি। সেই কষ্ট দূর হল। তিক্ততা মনে করতে চাই না। আমাদের হিমা এক ঈশ্বর প্রদত্ত উপহার। ওকে পরিবার বা প্রশিক্ষকরা তৈরি করে দেননি। আমার বিশ্বাস হিমা অলিম্পিক্সেও দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু অলিম্পিক্সে যাওয়ার পথে অনেক বাধা আসতে পারে। হিমাকেও সব কিছুর জন্য তৈরি হতে হবে। হিমাকে সামলে রাখার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের, রাজ্যবাসীর।”

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন