শামিকে প্রশ্ন: আপনার ডাকনামই হয়ে গিয়েছে ‘সেকেন্ড ইনিংস শামি’। এতটাই সাফল্য দ্বিতীয় ইনিংসে। এর নেপথ্যে রহস্য কী?

শামি: কোনও রহস্য নেই। আমরা একে অপরকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করে যাই। একে অন্যকে আরও ভাল হওয়ার জন্য তাড়া দিই। কাজটা কঠিন কিন্তু এই পারস্পরিক সম্পর্কটা সাহায্য করে। আমরা নিজেদের মধ্যে মজা করি। যত ক্ষণ আমরা মাঠে থাকি, কখনও এমন একটা মুহূর্তও যায় না, যখন আমরা একে অন্যের সাফল্য উপভোগ করি না। এ ব্যাপারে অনেক কিছুই বলা যায় কিন্তু...

ইশান্তকে প্রশ্ন: কোন জিনিসগুলো আপনি বলতে পারেন না। যতই হোক আপনিই এখন সব চেয়ে সিনিয়র...

ইশান্ত: না, না। আমাকে ওরা মোটেও সিনিয়র হিসেবে দেখে না (হাসি)। এখানে কোনও সিনিয়র-জুনিয়র নেই। কিন্তু শামির কথাটা একদম ঠিক। আমরা একে অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হই, উপভোগ করি। টিমের মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা আছে, যেটা থাকাও উচিত। তাতে টিমের ফলই উন্নত হয়। পাশাপাশি, সতীর্থের বোলিংয়ে কী দেখতে পাচ্ছি, সেটা খোলাখুলি তাকে গিয়ে বললেও অনেক উপকার হয়। 

ইশান্তকে প্রশ্ন: প্রায় একশো টেস্ট খেলা হয়ে গেল আপনার। এটাই কি সেরা অধ্যায়?

ইশান্ত: বলা কঠিন। অনেক দিন ধরে আমি খেলছি। ৩১ বছর বয়সেই নিজেকে বেশ বুড়ো মনে হতে শুরু করেছে। শরীরের উপর দিয়ে যে ধকল গিয়েছে, তার জন্য। তবে যে ভাবে উইকেট তুলছি, সঠিক জায়গায় বল রাখতে পারছি, খুবই উপভোগ করছি। 

উমেশকে প্রশ্ন: এবং, আপনি নিয়মিত ভাবে ঘণ্টায় ১৪০-১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করছেন?

ইশান্ত: (উমেশের দিকে তাকিয়ে) এসো, এসো, এ বার তোমার পালা। 

উমেশ: আমার জিনেই সম্ভবত ছিল। পরিবার থেকে পেয়েছি। ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে যা শিখেছি। বাবা আমাকে খুব দৌড় করাতেন, অনেক কিছু করিয়ে ছাড়তেন। সেই কারণেই আজকের এই জায়গাটায় পৌঁছতে পেরেছি। 

ত্রয়ীকে প্রশ্ন: একটা সময় ছিল যখন নতুন বল তুলে দেওয়া হত শুধু পালিশটাকে তোলার জন্য। আপনারা ভারতীয় বোলিংয়ের সংজ্ঞাটাই পাল্টে দিয়েছেন...

উমেশ: হ্যাঁ। আগে পেস বোলাররা কয়েকটা ওভার করে দিত যাতে স্পিনাররা এসে দায়িত্ব নিতে পারে। এখন যে ভাবে সকলে মিলে বোলিং করছি, তাতে পরিকল্পনা অন্য রকম হয়ে গিয়েছে। প্রথম দশ বা পনেরো ওভার যখন আমরা করি, চেষ্টা থাকে প্রত্যেকে যদি অন্তত একটা করে উইকেট তুলতে পারি। সেটা পারলে স্পিনারদের কাজ সহজ করে দেওয়া যাবে। আর এটাও জানি, উইকেট পেতে থাকলে আমরা আরও বেশি বোলিং আমরা পেতে থাকব। 

উমেশকে নিয়ে: দারুণ বল করছেন তো ঠিকই কিন্তু ওঁর ব্যাটিং নিয়ে আপনারা কী বলবেন?

শামি: ব্যাট হাতে ওর শক্তি দেখে মনে হচ্ছে, ভারতে বাউন্ডারিগুলো খুব ছোট। টিম ওকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে— নিজের মতো খেলো। আমরা যখন ব্যাট করতে যাই, কোনও রকম নিষেধাজ্ঞা থাকে না। ব্যাটসম্যান হলে অবশ্যই তার লক্ষ্য হবে যতটা বেশি সম্ভব ক্রিজে থাকার চেষ্টা করবে। কিন্তু উমেশ ব্যাট করতে গিয়ে ইচ্ছা মতো চালাতে পারে। ওর যা মনে হয়, সেটা ও করতে পারে। 

উমেশকে নিয়ে: আমরা সাধারণত আপনার বোলিংয়েই হাইলাইট্‌স দেখাই কিন্তু এখন আপনার ছক্কার প্যাকেজ দেখাচ্ছি। 

উমেশ: শামি যেটা বলেছে, সেটাই ঠিক। ব্যাটিং কোচ আর ক্যাপ্টেন আমাকে বলেছে, ব্যাটিং উপভোগ করো। সেটাই করার চেষ্টা করছি। নীচের দিকে আমরা যদি ২৫-৩০ রান করতে পারি, দলের উপকার হবে। যদি শেষের চার জনে মিলে ১০০ রান করতে পারি, খুব ভাল হয়। 

ত্রয়ীকে: গোলাপি বলে দিনরাতের টেস্ট নিয়ে আপনাদের কী ভাবনা?  

ইশান্ত: এটা শামি বললেই ভাল হয় কারণ গোলাপি বলে যে ম্যাচ ও খেলেছিল, তাতে ১১ ওভারে ও পাঁচ উইকেট নিয়েছিল (ইডেনে গোলাপি বলে স্থানীয় ক্রিকেটের ম্যাচে)। আমি ওকে জিজ্ঞেস করছিলাম, তুই কী করছিলি? বল তো যে প্যাডে লাগলেই এলবিডব্লিউ আর কেউ পুল মারলেই ক্যাচ আউট! আমরা তো ব্যাটকে পরাস্ত করে করে ক্লান্ত হয়ে গেলাম। তাই শামি, তুই আমাদের বলে দে কী ভাবে উইকেট নিতে হবে!

শামি: সব চেয়ে ভাল ব্যাপার হচ্ছে, কোচ আর ক্যাপ্টেন আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছে। 

ইশান্ত: সে তো আমাদেরও দিয়েছে! 

শামি: আর সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমি তোমাদের সঙ্গে বোলিং করছি। খুব বেশি কিছু ভাবারও দরকার হয় না। শুধু সঠিক জায়গায় বলটা রাখার উপরে ফোকাস করে যাই। কোনও চাপ মনেই হয় না। 

ইশান্ত: আমরা তোকে একটা জিনিস জিজ্ঞেস করেছি আর তুই অন্য উত্তর দিচ্ছিস। একই কাজ আমরাও করছি। কিন্তু তুই উইকেট পাচ্ছিস, আমরা পাচ্ছি না। এর কারণ কী?

শামি: লোকে বলে, এটা বিরিয়ানির কামাল (হাসি)। আমার মনে হয়, ভাগ্য এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেয়েছি আমি। 

ইশান্ত: ওয়েল বোল্ড শামি।

শামি: থ্যাঙ্ক ইউ।