গত মাসেই বিয়ে করেছেন বাঙালি মেয়ে পূজাকে। বিয়ের পরে নাম বদলে সেই পূজা এখন হয়েছেন সাদিয়া ক্রোমা। সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়েই সোমবার ইস্টবেঙ্গল মাঠে খেলতে এসেছিলেন পিয়ারলেস অধিনায়ক আনসুমানা ক্রোমা। স্ত্রীকে কথা দিয়েছিলেন আজ ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে গোল করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়বেন। সে কথা রাখতে পেরে ম্যাচ শেষে খুশিতে উদ্বেল পিয়ারলেস অধিনায়ক।

এরিয়ান গ্যালারিতে স্ত্রীকে বসিয়ে রেখে খেলতে নেমেছিলেন। ম্যাচ শেষে সেই সাদিয়াই ফাঁস করলেন ক্রোমার গোল করার রহস্য। বললেন, ‘‘সকালে ঘুম থেকে উঠেই জানতে চেয়েছিল আমি আজ কী চাই। আমিই বলি, তোমার গোল আর পিয়ারলেসের জয়। বলেছিল, সেটা দেবে। ও কথা রেখেছে।’’

মাঠের মধ্যে তখন ক্রোমা উৎসবে মাতোয়ারা। ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ফুটছেন। কখনও বক্সারদের মতো মুষ্ঠিবদ্ধ হাত তুলে আলোকচিত্রীদের সামনে দাঁড়াচ্ছেন। কখনও বা সতীর্থদের পিঠ চাপড়ে উৎসাহ দিয়ে বলছেন, ‘‘চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে।’’

পরক্ষণেই হুঙ্কার ছাড়েন ক্রোমা। বলেন, ‘‘আমার সুন্দরী বাঙালি স্ত্রীকেই গোলটা উৎসর্গ করলাম। ভারতীয় মহিলাকে বিয়ে করার পরে এখন আমি মনে-প্রাণে ভারতীয় হয়ে গিয়েছি। আমি হলাম ময়দানের মেসি। আমার দলকে হারানো গেলেও আমাকে হারানো যাবে না। আমাকে থামানো কঠিন।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘নিজের প্রতি আস্থা না থাকলে কখনও বড় ফুটবলার হওয়া যায় না। আমি বড় ক্লাবে খেলি না। কিন্তু জানি, আমি একা কী করতে পারি। কোনও ক্লাবকে ভয় পাই না। যাঁদের বিরুদ্ধেই খেলি না কেন, সব সময় নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করি।’’

কলকাতা লিগে ক্রোমার গোলের সংখ্যা হল ৯। লিগে তিনিই সর্বোচ্চ গোলদাতা। লিগের শীর্ষেও তাঁর দল। দুই প্রধানকে সরিয়ে কলকাতা লিগ কি এ বার তুলে নেবে ক্রোমার দল পিয়ারলেস? ক্রোমার উত্তর, ‘‘সেটাই তো চাই। তবে এখনও পাঁচ ম্যাচ বাকি। তাই ম্যাচ ধরে পরিকল্পনা করছি।’’

মোহনবাগানের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে মাঠ ছাড়ার পরে সেখানকার দর্শকদের করতালির মধ্যে মাঠ ছেড়েছিলেন। কিন্তু এ দিন ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে গোল করায় ক্রোমার দিকে উড়ে এল জলের বোতল। কটূক্তি। ক্রোমা তাতে বিচলিত নন। বলছেন, ‘‘সমর্থকরা ব্যথিত দলের হারে। ওদের ক্ষমা করে দিয়েছি।’’