পরের বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল তৈরির কাজে ইতিমধ্যেই নেমে পড়েছে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ যে পরীক্ষার প্রথম ধাপ। যেখানে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দিয়ে দেখে নিচ্ছে ভারতীয় দল পরিচালন সমিতি। কিন্তু কত দিন ধরে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে এক জনকে? ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে ঋষভ পন্থকে নিয়ে। অধিনায়ক বিরাট কোহালি জানিয়েছেন, নিজেকে প্রমাণ করার জন্য চার-পাঁচটা ম্যাচ পেতে পারেন তরুণরা। তা নিয়ে আবার পাল্টা মত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এসে শিখর ধওয়ন জানিয়ে গেলেন, তরুণদের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়ার পক্ষেই তিনি। আজ, রবিবার বেঙ্গালুরুতে সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ টি-টোয়েন্টি। প্রথম টি-টোয়েন্টি ভেস্তে যাওয়ার পরে দ্বিতীয় ম্যাচ সহজে জিতে সিরিজে ১-০ এগিয়ে আছেন কোহালিরা। যে ম্যাচে নজর কেড়েছেন তরুণ পেসার দীপক চাহার। কিন্তু আরও এক বার ব্যর্থ হয়েছেন পন্থ। আরও ক’টা ম্যাচে সুযোগ দেওয়া উচিত পন্থদের? এ দিন ধওয়ন বলে গেলেন, ‘‘আমার মনে হয়, যদি কাউকে সুযোগ দেওয়া হয়, তা হলে তাকে যেন বেশ কয়েকটা ম্যাচ খেলানো হয়। কারণ নতুন ক্রিকেটারদের একটু সময় লাগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। আমাদের দলের তরুণ ক্রিকেটারেরা সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য মরিয়া। আশা করছি, টিম ম্যানেজমেন্ট ওদের যথেষ্ট সুযোগই দেবে।’’

ধওয়ন আরও জানাচ্ছেন, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারেরা সব সময় জুনিয়রদের সাহায্য করার জন্য তৈরি। আপাতত ব্যাটিংয়ে দুই তরুণ হলেন শ্রেয়স আইয়ার এবং পন্থ। এর মধ্যে পন্থকে অনেকেই ভবিষ্যতের তারকা বলে বেছে নিলেও ইদানীং রানের মধ্যে নেই তিনি। ধওয়ন জানাচ্ছেন, তাঁরা সব সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে তৈরি। দিল্লির বাঁ-হাতি ওপেনার বলেছেন, ‘‘আমরা সাহায্য করতে সব সময় তৈরি। অভিজ্ঞরা ব্যাট করার সময় যদি ঋষভ বা শ্রেয়সের মতো কোনও তরুণ ব্যাটসম্যান ক্রিজে আসে, তা হলে আমরা এগিয়ে গিয়ে কথা বলি। ওদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করি, চাপ কাটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। দেখি, যেন ওরা নার্ভাস না হয়ে পড়ে।’’ ধওয়ন মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘আমি যদি রোহিত বা বিরাটের সঙ্গে ব্যাট করি, তা হলেও একই কাজ করি। নিজেদের মধ্যে কথা বলে নিই। ব্যাট করার সময় আলোচনা করা জরুরি।’’

চলতি দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে এখনও পর্যন্ত দাগ কেটেছেন যে দুই তরুণ ক্রিকেটার, তাঁরা দু’জনেই বোলার। দীপক চাহার এবং অফস্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দর। যা নিয়ে ধওয়ন বলেছেন, ‘‘ওয়াশিংটন সত্যি খুব ভাল বল করছে। রান আটকে রাখছে আর প্রয়োজনের সময় উইকেট তুলে নিচ্ছে। ওর নিয়ন্ত্রণটা ভাল, হাতে বৈচিত্রও আছে।’’ বিশেষ করে যে ভাবে স্পিনার হয়েও নতুন বলে ভেল্কি দেখাচ্ছেন ওয়াশিংটন, তা সকলের নজর কেড়ে নিয়েছে। 

অন্য দিকে বৈচিত্রে নজর কেড়েছেন ধোনির চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএলে সফল হওয়া মিডিয়াম পেসার দীপক। যাঁর সম্পর্কে ধওয়ন বলেছেন, ‘‘ও দু’দিকেই বল সুইং করাতে পারে। ওর বলে গতিও আছে। এই রকম মঞ্চেই তো পারফর্ম করে আত্মবিশ্বাসটা বাড়িয়ে নিতে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে।’’  

বিশ্বকাপে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন ধওয়ন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে ছন্দেই ছিলেন তিনি। কিন্তু ৪০ রান করার পরে ডেভিড মিলারের দুরন্ত ক্যাচের শিকার হয়ে ফিরে যান তিনি। নিজের ব্যাটিং নিয়ে ধওয়ন বলেছেন, ‘‘আমি খারাপ খেলছি না। কিছু দিন বাইরে থাকার পরে ফিরে এসেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে বড় রান না পেলেও টাইমিং ভালই হচ্ছিল। চার-পাঁচটা ইনিংস এ দিন-ও দিক হতেই পারে। এটা খুবই স্বাভাবিক।’’ আরও জানিয়েছেন, তিনি যতটা সম্ভব নিখুঁত ভাবেই তৈরি হন। যার ফলে রানে ফিরতে সমস্যা হয় না। তাঁর মন্তব্য, ‘‘কৌশল কখনও কাজে দেয়, কখনও দেয় না। একটা লম্বা যাত্রাপথে এ সব হয়েই থাকে। আমি আত্মবিশ্বাসী, ঠিক রান পাব। কারণ নেটে আমি যথেষ্ট পরিশ্রমই করি।’’ 

কোহালির আইপিএল দলের ঘরের মাঠে সিরিজ ফয়সালার ম্যাচ। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বড় রান হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তার উপর বাউন্ডারিও ছোট। যে কারণে এই মাঠে অনেক অধিনায়কই খুব বেশি স্পিনার খেলাতে চান না। এর আগের ম্যাচে তিন স্পিনারে দল সাজিয়েছিল ভারত। চিন্নাস্বামীতে যদি সেই বাড়তি পেসার খেলাতে চান কোহালিরা, তা হলে ক্রুণাল পাণ্ড্যের জায়গায় বাঁ হাতি মহম্মদ খলিলকে দেখা যেতে পারে।